আমেরিকা বনাম রাশিয়ার যুদ্ধ কখন শেষ হবে?

২৪শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাশিয়া দাবি করছে ইউক্রেনে রুশভাষী ও রুশ সমর্থক নাগরিকরা অত্যাচারিত হচ্ছে। অপরদিকে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেনের অত্যাচারের কারনে স্বাধীনতা চাচ্ছে। এই এলাকায় স্বাধীনতাকামীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সরকারী বাহিনীর সাথে লড়াই করে আসছে। এমতাবস্থায় রুশভাষী ইউক্রেনীয়দের রক্ষা করতে রাশিয়া ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান চালানোর যুক্তি দেখাচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে দনবাসের লোহনস্ক ও দোনস্ক এলাকাকে স্বাধীন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া।

২৪শে ফব্রুয়ারী থেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনারা ঢুকে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্য শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। ফলে উভয় পক্ষেরই ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে। আপাতঃভাবে এই যুদ্ধ রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্য হলেও আসলে এই যুদ্ধ চলছে মুলত রাশিয়া ও নেটোর মধ্য। নেটোর কিছু দেশ হয়ত এই যুদ্ধ চাচ্ছে না। কিন্তু এই অংশটা খুব একটা শক্তিশালী নয়। আর এই নেটোর নেতৃত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই ইউক্রেনে মুলত যুদ্ধ চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্য। এই যুদ্ধ ক্ষেত্রটা শুধু ইউক্রেনে।

যুক্তরাষ্ট্রকে যে কোন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বিশ্বে রাশিয়া বাদে আর দ্বিতীয় কোন দেশ নাই। এই দুটি দেশেরই রয়েছে বিশ্বের যে কোন দিক থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। একমাত্র রাশিয়াকে মোকাবেলা করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৭০ বছর আগে গঠিত হয় নেটো। শুরুতে সদস্য সংখ্যা ছিল ১২ এবং বর্তমানে ৩০। অল্প কয়েকটা দেশ বাদে ইউরোপের প্রায় সকল দেশই নেটোর সদস্য। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে যে সাম্রাজ্যবাদ চালাচ্ছে তা নেটোকে সাথে নিয়েই করছে। অর্থাৎ নেটো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের জোট। ইউরোপের দেশগুলিকে নিয়ে ইইউ নামে আরেকটি জোট রয়েছে। এটিও ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যপক প্রভাব খাটাচ্ছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। সর্বাধুনিক যত অস্ত্র আছে তা ইউক্রেনে সরবরাহ করছে। এমনকি পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাথে মিশে যুদ্ধ করছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। নানা ধরনের অবরোধ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেটো ও ইইউ রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাতে সকল দিক দিয়েই ব্যপক ক্ষতির মুখে পরেছে রাশিয়া। অপরদিকে এই দেশগুলিও নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভংগ করছে। নিজেরাও ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর ইউক্রেনের জানমালের ব্যপক ক্ষতি সাধন করছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব সারাবিশ্বেই পরেছে। বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সংকট তৈরী হয়েছে। নিত্যপন্যের দাম সারা বিশ্বেই বেড়ে গেছে। বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বে খাদ্যের অভাব দেখা দিবে বলে আভাস দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র দেশগুলি। এমনকি এখনই বিশ্বের দেশে দেশে এখনই অভাব/সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে এই যুদ্ধকে একটা টেস্ট বলে মনে করছে পশ্চিমারা। রাশিয়াকে তারা একটু বাজিয়ে দেখছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলনেস্কিকে এরা তাদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের এজেন্ট হিসাবে কাজ করাচ্ছে। পাটাপুতার ঘষাঘষিতে ইউক্রেনের এখন বারোটা বেজে গেছে। তবে রাশিয়ারও ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই যুদ্ধ পশ্চিমারা যেদিন চাইবে সেদিন হয়ত শেষ হবে।

শ্রীলংকা হঠাৎ করে বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করে দেয়

৪/৫ বছর আগের কথা। ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর আসে, শ্রীলংকা বাংলাদেশীদের জন্য সেদেশে অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। কোন রকম কারন দর্শনো ছাড়াই দেশটি বাংলাদেশীদের জন্য আগের এই সুবিদা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টা নিয়ে একটু বুঝার চেষ্টা করলাম। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্য তুলনামূলক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক নিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেল শুধু মাত্র শিক্ষা ছাড়া শ্রীলংকা অন্য কোন দিক থেকেই বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে নেই। তা হলে কেন বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করলো? আসলেই এদের দম্ভ ছাড়া আর কোন কারন খোঁজে পাওয়া যায়নি। এই ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশটি বুঝিয়ে দিল তাদের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বহীন।

একই সময়ে বাংলাদেশেও শ্রীলংকার নাগরিকদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা চালু ছিল। অন এরাইভেল ভিসার কারনে শ্রীলংকার নাগরিকরাই বেশী এর সুযোগ নিতো। সে সময়ে এমনকি এখনো প্রচুর সংখ্যক শ্রীলংকার নাগরিক বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে চাকুরিরত আছে। বাংলাদেশ থেকে খুব কম সংখ্যক মানুষ শ্রীলংকা ভ্রমনে যায়। শ্রীলংকার সাথে বাংলাদেশের বানিজ্যও খুব বেশী হয় না। মুলত শ্রীলংকানরাই অন এরাইভেল ভিসার সুযোগে বেশী লাভবান হত।

বাংলাদেশ অন এরাইভেল ভিসা নিয়ে শ্রীলংকার সাথে আর কোন আলোচনা না করেই একই সুবিদা বন্ধ করে দিল ২/৩ দিনের মধ্যেই। ফলে বাংলাদেশে কর্মরত শ্রীলংকানরা বিপদে পড়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত হল শ্রীলংকা। অপরদিকে বাংলাদেশ তাতে লাভবানই হল। সেই দাম্ভিক শ্রীলংকা কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে ২১শ কোটি টাকা ঋন নিয়েছে। তা পরিশোধ না করেই আবারও ২৫শ কোটি টাকা ঋন চাইলো। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পরমর্শে এইবার আর শ্রীলংকাকে টাকা দেয়নি বাংলাদেশ। সেই দাম্ভিক শ্রীলংকায় আজ খাদ্যের অভাব, জ্বালানির অভাব, কাগজের অভাব, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত। সেই দেশটি সকল দিক থেকে আজ চরম বিপর্যয়ে।

শ্রীলংকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুরাবস্থা দেখে বাংলাদেশে আশার আলো দেখছে পাকি পন্থিরা

সাম্প্রতিক সময়ে সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলংকা ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়েছে। দেশটিতে জ্বালানী সংকট, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ সংকটসহ আরো অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কাগজের অভাবে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম ও পত্রিকা ছাপা বন্ধ রয়েছে। তেলের অভাবে সেদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমনকি ক্ষুদ রাজধানী কলম্বোতে ১০ ঘন্টা লোড সেডিং চলছে। টাকার অভাবে দেশটি জ্বালানি তেলও ক্রয় করতে পারছে না। এমন কি দেশটি বাংলাদেশের কাছে আড়াই হাজার কোটি টাকা লোন চেয়েছে এই অবস্থা মোকাবেলার জন্য। এক বছর আগেও শ্রীলংকা বাংলাদেশে কাছ থেকে ২১শ কোটি টাকা লোন নিয়েছে। সেই লোনের টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারেনি দেশটি। দেশটি বিপুল পরিমান বৈদেশিক ঋনে ভারাক্রান্ত। এই সমস্ত সুযোগে দেশটিতে ব্যপক হারে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার আবাসিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে। এর মধ্য শ্রীংলকার বিরোধী দল আঁটসাঁট বেধে আন্দোলনে নেমে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে মন্ত্রী সভার সকল সদস্য পদত্যগ করেছে। সংখ্যা গরিষ্টতা হারিয়েছে সরকারী দল। এখন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার পদত্যগ চাচ্ছে বিরধী দল। দেশটিতে লুটতরাজও চলছে অন্যান্য বিশৃঙ্খলার সাথে। শ্রীলংকার সরকার পরিবর্তন এখন সময়ের ব্যপার মাত্র।

শ্রীলংকার প্রধান অর্থ আয়ের খাত পর্যটন শিল্প। করোনার দুই বছরে এই শিল্প থেকে আয় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যার ফলে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে চাপে পরেছে। অপরদিকে করোনাকালেও বাংলাদেশ অর্থনীতির সকল চাকা সচল রেখেছে। মহামারীকালে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বের বড় বড় দেশ ও সংস্থা প্রশংসা করেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভও বিপুল পরিমানে রয়েছে। শ্রীলংকার মূদ্রামান বাংলাদেশের ১টাকা সমান শ্রীলংকার ৩.৪২ রুপি। বর্তমানে অর্থনীতির সকল সূচকে দেশটি বাংলাদেশ থেকে অনেক অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২৮০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩১তম বড় অর্থনৈতিক দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তথাপিও এদেশের কিছু সরকার বিরোধী প্রচার মিডিয়া, বিরোধী দল ও ব্যক্তি শ্রীলংকার অবস্থার সাথে বাংলাদেশের অবস্থা মিলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। আশা করছেন বাংলাদেশেও শ্রীলংকার মত অবস্থা সৃষ্টি হবে, আন্দোলন হবে সরকারের বিরুদ্ধে। যার ফলশ্রুতিতে সরকারের পতন হবে। আর নিজেরা ক্ষমতায় আসবেন। যারা এমন আশা করছেন তারা সকলেই পাকিস্তান পন্থী কিংবা আওয়ামীলীগের বিরোধী।

ইউক্রেনে রাশিয়ার রণকৌশলঃ-

২৪শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমন শুরু করে। উভয় পক্ষের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে আজ তা এক মাসে গড়িয়েছে। আক্রমনের শুরুতে রাশিয়ান বাহিনীর যে ক্ষিপ্রতা ছিল তা এখন থেমে গেছে বলে অনেকে মনে করেন। উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিন দিকে দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনকে ঘিরে আক্রমন করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পূর্বদিকে রাশিয়া সীমান্তে দুনস্ক ও লিউনস্ক আগে থেকেই দখল করে রেখেছে ওই এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। পুবের শহর খারকিভ ঘিরে এক মাস ধরে আক্রমন চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। দক্ষিনের বন্দর নগরী মারিওপল দখল করে নিয়েছে রাশিয়ান সৈন্যরা। শুরুতেই রুশ সেনারা উত্তরের চেরনিহিভ দখল করে নিয়েছিল। শুরুতেই রুশ সেনারা দখল করে নিয়েছিল দক্ষিনের খেরশন ও জাপুরঝিয়াও। জাপুরজিয়াতে রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রতিদিনই স্থল ও আকাশপথে ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ সেনারা। ইউক্রেনের পশ্চিমের শহর এলভিভেও বেশ কয়েকবার আকাশপথে মিশাইল হামলা করেছে রাশিয়া। এই এলভিভ দিয়েই ইউক্রেনের শরণার্থীরা পোল্যান্ডে পালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে ইউক্রেনের সীমান্ত লাগোয়া পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছে। রাশিয়ান হামলায় ইউক্রেন এখন বিপর্যস্ত। ইউক্রেনের সেনারাও রাশিয়ান সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে পাল্টা আক্রমন চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ২৪শে ফেব্রুয়ারী যুদ্ধ শুরুর ২ দিনের মধ্যেই রাশিয়ান বাহিনী কিয়েভের উপকন্ঠে চলে গিয়েছিল। কিয়েভের কেন্দ্র থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ান সৈন্যদের অবস্থান জানিয়ে নানা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সংবাদ প্রচার করে আসছিল। এর পর থেকেই কিয়েভ অভিমুখে রাশিয়ান বাহিনীর অগ্রযাত্রা থেমে যায়। এর কারন কি হতে পারে?

এর উত্তরে বলা যায় এইটা হয়ত রাশিয়ার রণকৌশল হতে পারে। কিয়েভে প্রবেশ করলে রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনীয় বাহিনীর চোরাগোপ্তা হামলার শিকার হতে পারে। এতে তাদের জান ও বহরের ব্যপক ক্ষতি সাধন হতে পারে। যার ফলে রাশিয়ান বাহিনী কিয়েভে মিশাইল হামলা চালিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অবকাঠামো ধ্বংস করতে ব্যস্ত রয়েছে। রাশিয়ান বাহিনী কিয়েভের উপকন্ঠ থেকে খানিকটা পিছিয়ে গেছে হয়ত ইউক্রেনীয় বাহিনীকে কিয়েভ থেকে পশ্চিম-উত্তর উপকন্ঠে আসতে প্রলোপদ্ধ করতে। ফলে সাধারন মানুষের জানমালের ক্ষতি কম করে সাড়াশি আক্রমন চালিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পরাস্ত করতে সহজ হবে। এই সময় রাশিয়ান বাহিনী স্থল ও আকাশপথে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর আক্রমন চালিয়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারবে। ফলে কিয়েভ দখল ও দখল করে রাখা হয়ত রাশিয়ান বাহিনীর জন্য সহজ হবে।

রাশিয়া আগেই জানিয়ে দিয়েছে তাদের ইউক্রেনে অভিযানের উদ্দেশ্য হল ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ করা ও লোনস্ক ও দুনস্কের স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসাবে ইউক্রেনের স্বীকৃতি আদায় করা। অপরদিকে উইক্রেনের নেটোতে যোগদানকেও বাধাগ্রস্ত করা। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের অবকাঠামোর ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। রাশিয়ান বাহিনীরও জানমালের বিয়োগ হচ্ছে। ইউক্রেনেরও হয়ত এই ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাহির হয়ে আসতে রাশিয়ার সাথে নিঃশর্ত আলোচনায় রাজি কিংবা রাশিয়ার দাবি মেনে নিতেও আপত্তি নাই। এটি করলে ইউক্রেন বেঁচে যাবে, একটি দেশ বেঁচে যাবে, দেশের মানুষ বেঁচে যাবে। কিন্তু ইউক্রেনের পশিমা মুড়লেরা হয়ত চাচ্ছে এই যুদ্ধ যতবেশী দিন লেগে থাকবে ততবেশী ক্ষয়ক্ষতি হবে উভয় দেশেরই। পশ্চিমারা হয়ত চাচ্ছে যুদ্ধ করে রাশিয়ার সামরিক শক্তির আরও অপচয় হউক। ফলে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের হয়ত আসল চিত্র না দিয়ে ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রলোপদ্ধ করে যাচ্ছে। রাশিয়ান বাহিনীর যুদ্ধের রসদ শেষ হয়ে গেছে, গোলাবারুদ শেষ হয়ে গেছে, ইউক্রেন বাহিনীর হামলায় রাশিয়ান বাহিনীর ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে, রাশিয়ান বাহিনী আর যুদ্ধ করতে চাচ্ছে না, এই বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে গেছে-এই সব কথা প্রচার করে ইউক্রেন বাহিনী কিংবা দেশকে চাঙ্গা রেখে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চাচ্ছে পশ্চিমারা। এদিকে রাশিয়া যুদ্ধের শুরু থেকে বরাবরই বলে আসছে এই যুদ্ধে তারা পরিকল্পনা মোতাবেকই এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য অর্জন হবেই। তারা ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর অবকাঠামোগুলি একে একে গুড়িয়ে ক্রমশঃই লক্ষ্য অর্জনের দিকে যাচ্ছে। পশ্চিমারা এই যুদ্ধে রাশিয়ার বিপক্ষে সরাসরি অংশ গ্রহন না করলেও নানা অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রাশিয়াকে সারা দুনিয়া থেকে আলাদা করে ফেলেছে। ইউক্রেনকে তারা অর্থ, অস্ত্র ও সাহস দিয়ে যাচ্ছে যাতে করে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এই যুদ্ধের এক পক্ষে রয়েছে রাশিয়া আর তার বিপক্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমারা। অন্যভাবে বলা যায় একদিকে রাশিয়া আর অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সারা দুনিয়া। সময়ই বলে দিবে এই যুদ্ধে কে জিতবে, কে হারবে।

ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও স্থানে রাশিয়ার চতুর্মুখী হামলা

রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযানের ১৮তম দিনে চারদিকে থেকে হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার ব্যপক ক্ষতি সাধন করেছে । রাশিয়া আগে থেকেই ঘিরে ফেলেছে খারকিভ, চেহেরনিভ, সুমি ও মারিউপোল। অভিযানের শুরু থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলি প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাও বিমান বন্দরসহ অকেজো করে দিয়েছে। পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায় রাশিয়ার সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকন্ঠে থেকে কিয়েভে অবস্থিত ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনায় ব্যপক হামলা চালাচ্ছে। একের পর এক মিশাইল হামলায় কিয়েভ এখন বিপর্যস্ত। ইউক্রেনীয় বাহিনীও কিয়েভের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রুশ সেনাবহর লক্ষ করে হামলা চালাচ্ছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারনা এই সপ্তাহেই রাশিয়ার হাতে কিয়েভের পতন ঘটবে। রাশিয়া তার লক্ষ্য হাসিলে ধীরে ধীরে কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উত্তরপূর্ব, উত্তর ও উত্তরপশ্চিম দিক থেকে কিয়েভকে ঘিরে ফেলেছে রাশিয়ান সেনা বহর। অপরদিকে ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলেও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এদিকে গতকাল ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে পোলল্যান্ড সীমান্তের কাছে লিভিভে ইউক্রেনের একটি সামরিক ট্রেনিং শিবিরে বিমান হামলা চালিয়ে সেটিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। এই ঘাটিতেই নেটো সৈন্যদের সামরিক প্রশিক্ষন দেওয়া হত। এছাড়াও গতকাল রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলে কয়েকটি বিমান ঘাটিতে হামলা চালিয়ে ব্যপক ক্ষতিসাধন করেছে। রাশিয়া এখন সারা ইউক্রেনেই হামলা জোরদার করছে। ইতি মধ্য প্রায় ৩০ লক্ষ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে পোল্যান্ডসহ পাশের দেশগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, জোয়ারি, ফন্দিবাজ, ফিকিরবাজরা মিশে গেছে যুবলীগেঃ

২০০৬ সালের শেষদিকে আওয়ামীলীগ ও তার সমমনা রাজনৈতিক দলগুলির নানা দাবি ও নানামুখী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-জামাত জোট সরকারের তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। ২০০৭ সালে সরকার নিয়ে চলে নানা নাটকীয়তা। ফলে এই সময়ে দুইবার তত্বাবধায়ক সরকারের আগমন ঘটে। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে জেলেও যেতে হয়। ২০০৭ সালেই জনমত জরিপে আওয়ামীলীগের জয়ের নিশ্চিত আভাস পাওয়া যায়। সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছিল ততই আওয়ামীলীগের জয়ের সম্ভাবনা র‍্যাপিডলি বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে জনগন নিশ্চিত হয়ে যায় যে আওয়ামীলীগই আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত জয় লাভ করবে। আর ঠিক এই সময় থেকেই আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনে নানা ধরন ও শ্রেনীর সুবিদাবাদী গোষ্টী অনুপ্রবেশ করতে থাকে। অবশ্য যদি বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা থাকতো তা হলে এই গোষ্টী হয়ত বিএনপিতেই অনুপ্রবেশ করতো। এরা হল এই দেশের ধান্ধাবাজ, ফিকিরবাজ, ফন্দিবাজ, চাঁদাবাজ, জোয়ারী, বালু ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী, বিশেষ বাহিনীর দালাল, দখলবাজ ইত্যাদি। নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য এদের দরকার সরকারি দলের ছত্রছায়া ও নেতা বনে যাওয়া।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে উপরোক্ত সুবিদাবাদীরা আওয়ামীলীগে ব্যপকভাবে অনুপ্রবেশ করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিশাল সংখ্যা গরিষ্টতা নিয়ে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। আর এই ধান্ধাবাজরা ক্রমে আওয়ামীলীগে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। এরা নানান সময়ে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নানা ধরনের উপহার কিংবা আর্থিক সহযোগীতা করে নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের ভাগ দিতে থাকে বিশেষ শ্রেনীর নেতাদের। এদের অবৈধ ব্যবসার (মাদক ব্যবসা, জোয়া, অবৈধ বালু ব্যবসা, অটো স্ট্যান্ডের চাঁদা, দালালী, সাধারন মানুষকে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা, জমি দখল ইত্যাদি) উপার্জিত টাকা মাসে মাসে বিশেষ বিশেষ নেতা ও স্থানে বন্টন করে এরা নেতাদের ও বিশেষ স্থানের নজরে আসে। এক পর্যায়ে এই সমস্ত ধান্ধাবাজরা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংঠনের সভাপতি কিংবা সেক্রেটারী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে যায়। আর এখানে সংগঠনের ত্যগী নেতারা হয় বঞ্চিত। এভাবে টাকার বিনিময়ে পদ বিতরন করে অযোগ্য ও সুবিদাবাদীদের দলে স্থান দেওয়া নিজের পায়ে কুড়াল দেওয়ার সামিল। অবৈধ ব্যবসার টাকার গরম দেখিয়ে এরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকা এলাকায়। এদের মাধ্যমে নানাভাবে সাধারন মানুষ হচ্ছে নাজেহাল।

এই সমস্ত নব্য আওয়ামীলীগারদের কাছে দল ও ত্যগী নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে আছে। এদের অপকর্মের কারনে আওয়ামীলীগ ও সরকারের বদনাম হচ্ছে। বিগত ১২/১৩ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার সারাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করলেও সবকিছু ম্লান হয়ে যাচ্ছে এই সমস্ত নব্য ও সুবিদাবাদীদের অপকর্মের কারনে। এরাই দলে উপদল সৃষ্টি করছে। দলের ভিতরে পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করছে। এদের কারনেই স্থানে স্থানে আজ আওয়ামীলীগ বিব্রত। নিজের স্বার্থ হাসিলের ব্যঘাত ঘটলেই নেতা পরিবর্তন করে। ভাগাভাগী নিয়ে বাধাগ্রস্ত হলেই নেতার বিরুদ্ধে চলে যায়। অন্য নেতার আশ্রয় নেয়। এভাবেই সারাদেশে এই শ্রেনী দলীয় কুন্দল সৃষ্টি করে চলেছে।

এই শ্রেনী রাজনীতি বলতে বুঝে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, জোয়ার আসর বসিয়ে টাকা কামানো, অটো স্ট্যান্ডের থেকে চাঁদা আদায়, মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, ওয়ারিশ নিয়ে জামেলা পাকানো, জমি বেচা কেনায় বাধা সৃষ্টি করে উভয় পক্ষ থেকে টাকা কামানো, নারীঘটিত ব্যপার নিয়ে জামেলা পাকিয়ে টাকা কামানো, সালিশে টাকা খেয়ে এক পক্ষকে জিতিয়ে দেওয়াসহ আরও নানা ধরনের অপকর্ম। বিশেষ বাহিনীর সাথে সম্পর্ক রেখে সাধারন মানুষকে ধরিয়ে দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আবার ছাড়িয়ে আনাও এদের অবৈধ আয়ের অন্যতম উৎস। আর এই অবৈধ টাকার দাপটে এরা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। এলাকায় এরা দাপিয়ে বেড়াই দামি মটর সাইকেল কিংবা প্রাইভেট কার দিয়ে। এদেরকে সবসময়ই ঘিরে থাকে এদের সাঙ্গ পাঙ্গরা। অনেকটা সিনেমার ভিলেনের মত বাস্তবে এদের চাল চলন। এহেন গোষ্টী সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ‌দলও পরিবর্তন করে আবার নতুন সরকারি দলের হয়ে যায়। মুলতঃ এরাই বর্তমান সরকারের ইমেজ নষ্টের জন্য দায়ী।

এই কুলাঙ্গার অনুপ্রবেশকারীরা অধিক মাত্রায় ঢুকে পড়েছে যুবলীগে। দেশের ৯০ শতাংশ অপকর্ম এই যুবলীগ নামধারীরাই করে থাকে। ফলে যুবলীগের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে যদি এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে যুবলীগকেই গিলে ফেলবে এই দানবেরা। এদেরকে যারা নেতা বানায় তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরি।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুবলীগ নামধারী এই কুলাঙ্গাররা মূর্খ, অনেকে নিজের নাম লেখা দূরে থাক কখনো স্কুলের বারান্দায়ও যায়নি। এদের অনেকে আবার রাস্তায় বড় হয়েছে। অথচ শুধু মাত্র অবৈধ ব্যবসার আয়ের ভাগাভাগির মাধ্যমে কিছু লোভী নেতাদের ম্যানেজ করে এরা যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের বড় বড় পদ দখল করে আছে। রাজনীতিকে এরা টাকা কামানোর মেশিন মনে করে। এরা যুবসমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে। নিজ দল ভারি করার জন্য নিরীহদের দলে নিয়ে অবৈধ কাজে লাগাচ্ছে। এদের দ্বারা সমাজ হচ্ছে কলুষিত। এরা দেশের শত্রু,জাতির শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করে দল থেকে বের দিলে যুবলীগ আবার হারানো গৌরব ও ঐতিয্য ফিরে পেতে পারে। এদের বিষদাঁত এখনই ভেঙ্গে দিতে হবে। এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এখন আওয়ামীলীগের দাবি, সাধারন মানুষের দাবি, সময়ের দাবি। বিঃদ্রঃ একই সময়ে যদি বিএনপি কিংবা অন্য কোন দল ক্ষমতায় থাকতো তাহলে এই কুলাঙ্গাররা নানা কৌশলে এই দলগুলিতে অনুপ্রবেশ করে একই কাজ করতো।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিডিয়া যুদ্ধ করছে পশ্চিমারা

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে সৃষ্ট পূর্ব ইউরোপের একটি স্বাধীন দেশ ইউক্রেন। পূর্ব থেকেই জাতিগতভাবে ইউক্রেনের ওপর প্রভাব রয়েছে রাশিয়ার। প্রযুক্তির দিক থেকে ইউক্রেন অনেক শক্তিশালী। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অনেক উন্নয়ন ও উত্থান এই ইউক্রেনকে কেন্দ্র করেই হয়েছে। এখানে রয়েছে চেরনোভিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইউক্রেনের ৫০% মানুষ রুশ ভাষায় কথা বলে। রাশিয়ার প্রতিও রয়েছে ইউক্রেনের মানুষের টান। দুই দেশের মধ্য সামাজিক সম্পর্কও ভাল রয়েছে।

দুই দশকের বেশী সময় ধরে রাশিয়ার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ভ্লাদিমির পুটিন। পশ্চিমারা রাশিয়াকে বাঙ্গতে ও পুটিনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা করে আসছেন। তারা নানা তুচ্ছ অজুহাতে পুটিন তথা রাশিয়াকে বিব্রত করার অবিরাম চেষ্টা করে আসছেন। পূর্ব ইউরোপের সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিকে একে একে নেটোতে যোগদান করিয়েছেন নানা কুট কৌশলে। কিন্তু ভেলারুশ ও ইউক্রেনকে এখনো নেটোতে যোগদান করাতে পারেননি। সম্প্রতি ভলোডিমীর জেলোনেস্কীর সরকার পশ্চিমাদের ফাঁদে পা দিয়ে নেটোতে যোগদানে রাজি হয়েছে। আর এইটা নিয়েই রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের জেলোনেস্কীর সরকারের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। নানাভাবে ইউক্রেনকে কনভিন্স করতে ব্যর্থ হয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের জেলোনেস্কী সরকারকে উৎখাতের ছক আটে।

ইউক্রেন ভূগৌলিক ও রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমাদের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার পাশের এই দেশটিকে নেটোর নিয়ন্ত্রনে নিয়ে রাশিয়াকে আরও চাপে ফেলতে চাইছে পশ্চিমারা। রাশিয়ার শক্তি কমাতে পশ্চিমারা অনেক আগে থেকেই নানা কুটকৌশল অবলম্বন করে আসছে। ইউক্রেনে যাতে নেটো তথা পশ্চিমারা তথা আমেরিকা ঘাটি করতে না পারে সেই জন্যই জেলোনেস্কী সরকারকে উৎখাত করতে যুদ্ধে নেমেছে রাশিয়া। দীর্ঘ দিন ধরে রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকা পুটিনকে কোনভাবেই দমাতে পারছে না পশ্চিমারা। পশ্চিমারা নানা কুটচালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরী করেছে। এখন এই পশ্চিমারাই আবার ইউক্রেনের জন্য মায়া কান্না করছে। এই সবই হচ্ছে রাজনীতির অংশ।

মিডিয়ার মাধ্যমে রাশিয়াকে বহুমাত্রিক দিক দিয়ে চাপে রেখেছে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা। বিবিসি, সিএনএন ও আরও অনেক শক্তিশালী মিডিয়ার মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অবরোধ দিয়ে রাশিয়াকে সারা দুনিয়া থেকে আলাদা করে ফেলেছে তথাকথিত পশ্চিমারা। রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংশ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অপরদিকে ইউক্রেনের জন্য মায়াকান্না করে যাচ্ছে।

স্বাধীন দেশ ইরাকে হামলা চালিয়ে সাদ্দামকে উৎখাত করতে কত মানুষের প্রান কেড়ে নিয়েছে আমেরিকা। লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে হত্যা করেছে আমেরিকা। আফগানিস্তানে হাজার হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমেরিকা। সিরিয়ায় রক্তের হুলি খেলা খেলছে আমেরিকা ও তার মিত্ররা। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তানসহ আরো অনেক দেশ আজ অশান্ত শুধু পশ্চিমাদের কারনে। কোথায় ছিল তখন মায়া কান্না, কোথায় ছিল তখন মানবতা। অথচ আজ তারা ও তাদের মিডিয়া মায়াকান্না করছে ইউক্রেনের জন্য। এর সবই রাজনীতির অংশ মাত্র।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ

রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের চার নির্বাচন কমিশনার হলেন জেলা ও দায়রা জজ (অব.) বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আহসান হাবিব খান, সিনিয়র সচিব (অব.)  মো. আলমগীর ও সিনিয়র সচিব (অব.) আনিসুর রহমান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল আব্দুল হামিদের কাছে ১০ সদস্যের নামের তালিকা জমা দেয়। এই ১০ জনের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতাবলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন।

নতুন এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে শপথ নিবেন। প্রধান বিচারপতি নতুন এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার নির্বাচন কমিশনারকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই দেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। উল্লেখ্য ১৪ই ফেব্রুয়ারী সাবেক নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়।

হাবিবুল আউয়াল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে ২০১৭ সালে অবসরে যান। বিসিএসের ১৯৮১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা তার আগে আইন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এবং সংসদ সচিবালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।

পরলোকে শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী

শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী মারা গেছেন। ২০শে ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুবরন করেন। তার বার্ধক্য জনিত নানা জটিলতা ছিল। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি ১৯৩৮ সালের ১৫ই জানুয়ারী ভারতের কলিকাতায় জন্ম গ্রহন করেন। জন্মকালে তার পিতা কলিকাতায় কর্মরত ছিলেন। তার পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুরে। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক জানিয়েছেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বেগম মুশতারী শফীর স্বামী ডাঃ মোহাম্মদ শফী ও তার ভাই এহসান শহীদ হন। বেগম মুশতারী সফী ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন শব্দ সৈনিক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গঠনেও তার পরিবারের ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য ২০১৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমীর ফেলো নির্বাচিত হন। তিনি বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। এর মধ্য রয়েছে ভ্রমণকাহিনী, উপন্যাস, স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ, কিশোর গল্পগ্রন্থ, ও মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক বই।

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে শোক দিবস পালিত হচ্ছে

আজ ১৫ই আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপদগামী একটি অংশ বাঙ্গালী জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে। এই হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতির জীবনে এক কলষ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে প্রত্যুষে ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই সময় তিনি সেখানে কিছু সময় নীরবতা পালন করেন। সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল তখন সশস্ত্র সালাম জানায়। এর পর সেখানে কুরআন তেলাওয়াত শেষে ১৫ই আগস্টে নিহত সকলের জন্য দোয়া পাঠ করা হয়।

১৫ই আগস্টে বঙ্গবন্ধুর সাথে যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের মধ্য রয়েছেন স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের, বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপৌত্র সুকান্ত বাবু; বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকট আত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু। নিহতদের মধ্য আরও রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল ও পুলিশের এসবির সাব ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমান।

শেখ কামাল ছিলেন দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠক-অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার

গত ৫ই আগস্ট শেখ কামালের ৭২তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জুম আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, শেখ কামাল ছিলেন দেশের সর্বশ্রেষ্ট ক্রীড়া সংগঠক। মননে, চিন্তায় আধুনিকতায় এক স্বপ্ন পুরুষ।উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন আবুধাবি জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ হাবিবুল হক খন্দকার। তিনি শেখ কামালের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠী হিসাবে অনেক অজানা তথ্য সভায় উপস্থাপন করেন।তিনি বলেন মিথ্যাচার ও বানোয়াট অপপ্রচারের মাধ্যমে এক সময় শেখ কামালের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়েছে। শেখ কামাল দেশের জন্য গঠনমূলক চিন্তা করতেন।সংস্কৃতিমনা ও আবহানী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল ছিলেন যুবসমাজের প্রতীক।মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার মানবিক গুনাবলীর অন্যতম বৈশিষ্ট ছিল। বাউবির এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এইসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় অন্যান্যদের মধ্য বক্তব্য রাখেন বাউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ নাসিম বানু, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ মাহবুবা নাসরিন।আরও সংযুক্ত ছিলেন বাউবির রেজিস্টার, বিভিন্ন স্কুলের ডীন, পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

সড়ক দুর্ঘটনায় রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নাসির খান নিহত

নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন খান (৫২) এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার পুলেরঘাট এলাকায় মটর বাইক চালিয়ে নরসিংদী ফেরার পথে পিছন থেকে একটি সিএনজি সজোড়ে ধাক্কা দিলে মটরবাইকটি ছিটকে পড়ে। এই সময় তিনি ও তার সাথে থাকা আরোহী রাজিব সাহা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা অজ্ঞান অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে বাজিতপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার নাসির উদ্দিনকে মৃত ঘোষনা করে। বেলা ৩টার সময় আহত রাজিব সাহার জ্ঞান ফিরে। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নিজ ঠিকাদারীর কাজ দেখাশুনা করতে সহকারী রাজিব সাহাকে নিয়ে মোঃ নাসির উদ্দিন খান কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ায় যান। কাজ তদারকি শেষে পুলেরঘাট এলাকায় তিনি দুর্ঘটনায় পতিত হন। তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য বাজিতপুরে জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। শনিবার সকালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রায়পুরার গন-মানুষের নেতা একাধিকবার রায়পুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও সাবেক মন্ত্রী রাজি উদ্দিন রাজু, রায়পুরা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফজাল হোসেন, আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন শাখা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ জামিল খানসহ অন্যান্য আরও অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

মোঃ নাসির উদ্দিন খানের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য তিনি আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন শাখা আওয়ামিলীগেরও সভাপতি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। শনিবার বাদ আসর রায়পুরা উপজেলা পরিষদে ও বাদ মাগরিব হাসনাবাদ হাই স্কুল মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার সকাল ১১টা থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। এই প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিন শাখা। তাতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোসারফ হোসেন। বেলা ১২টার সময় মোসারফ হোসেনের বক্তব্যর শেষেরদিকে সমাবেশে বেশ উত্তেজনা চলছিল। সমাবেশ থেকে একদল বিএনপি নেতাকর্মী প্রেসক্লাবের বেড়া ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একই সময়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লাঠি চার্জে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সময় বিএনপি নেতা মোসারফ হোসেনসহ অন্যান্যরা প্রেসক্লাবের ভিতরে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা প্রেসক্লাব থেকে বাহির হয়ে চলে যান।

এদিকে কর্তব্যরত পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিনা উস্কানীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয়নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, নাজিম উদ্দিন আলম, হাবিবুন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

মিয়ানমারে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে সামরিক শাসক

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী এক নীরব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকে সেদেশে বিক্ষোভ দানা বেধে উঠতে থাকে। এই বিক্ষোভ দমাতে সামরিক বাহিনী প্রথমে ফেইসবুক সেবা বন্ধ করে দেয় সেদেশে। বিক্ষোভ ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় পরে ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার সেবাও বন্ধ রাখে সেনাবাহিনী। আজ আবার দেশটির ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচীকে আটক করে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে সেনাবাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুচীকে ১৫ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আটক রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনা কর্মকর্তারা। সুচীর দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের অধিকাংশকেই ইতিমধ্য গ্রেপ্তার করেছে সামরিক সরকার। সেনাবাহিনীর এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারন করেছে বিশ্বনেতারা। জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে।

১৯৬২ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে প্রায় ৫০ বছর যাবৎ মিয়ানমার শাসন করে আসছে। কয়েক বছর আগে মিয়ানমারে আংশিক গণতন্ত্র ফিরে আসেলেও তা পূর্ণতা লাভের আগেই সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে।

আরও এক মামলায় তারেক জিয়ার ২ বছরের সাজা

মানহানির এক মামলায় তারেক রহমানকে ২ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার নড়াইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম-২ আদালতের বিচারক আমাতুল মোর্শেদা এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে একই বছরের ২৪শে আগস্ট নড়াইলের হাকিম আদালতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানির এই মামলাটি করেছিলেন কালিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার শাহাজাহান বিশ্বাস।

রায়ে তারেক রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে রায়ে। ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আনিত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করেন উক্ত আদালতের বিচারক। এই নিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৪ টি মামলার রায়ে তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের জেল, মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় ৭ বছর জেল ও একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। উল্লেখ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক রয়েছেন।

সুচীকে আটক, মিয়ানমারে আবার সামরিক শাসন জারি

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচীসহ বেসামরিক নেতাদের আটক করে সেদেশে ১ বছরের জন্য জরুরী অবস্থা জারি করে সামরিক শাসন জারি করা হয়েছে। সোমবার ভোরে সূচীসহ অধিকাংশ বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সুচীসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত নভেম্বরে অনুষ্টিত নির্বাচনে সুচীর দল কারচুপি করেছে। সেই নির্বাচনে সূচীর দল একক সংখ্যা গরিষ্টতা পেয়েছিল।

সামরিক শাসন জারি করে দেশটির ক্ষমতা গ্রহন করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইংয়। সুচীকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে এক বছরের জন্য দেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেওয়া হয় বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়। গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অং সান সুচীর দলের সাথে বিরোধ চলে আসছিল।

এদিকে সুচীকে গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব। মিয়ানমারে গনতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষকে আহবান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক শাসককে সতর্ক করে সুচীর মুক্তি দাবি করেছে।

দিল্লিতে অবস্থিত ইসরায়িলের দূতাবাসের অদুরে বোমা হামলা

শুক্রবার বিকালে এ পি জে আব্দুল কালাম রোডে অবস্থিত ইসরায়িলের দূতাবাসের অদুরে এই বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। যে স্থানে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটেছে সেখান থেকে ইসরায়িলের দূতাবাস ১৫০ মিটার দুরে অবস্থিত। এই বিস্ফোরনে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ার সূত্র থেকে জানা গেছে। বিস্ফোরনের পরপরই সেখানে দমকল বাহিনীর কর্মীরা উপস্থিত হয়। সেই সাথে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর করীরাও সেখানে এসেছেন।

ফুটপাতে একটি ফুলের টবে আগে থেকেই রাখা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেড জাতীয় বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দুরে বিজয়চকে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল। ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দিল্লির পুলিশ এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে।

মহামারীকালে পদত্যগ করলেন ইটালীর প্রধানমন্ত্রী

পদত্যগ করেছেন ইতালীর প্রধানমন্ত্রী গিওসেপ্পে কন্তে। মঙ্গলবার তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যগপত্র জমা দেন। গত সপ্তাহে তিনি আস্তাভোটে কোনক্রমে উতরে গেলেও সেদেশের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্টতা হারিয়েছেন। করোনা মহামারীর কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে শিল্পোন্নত এই দেশতিতে। ভেঙ্গে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি, বিপর্যস্ত সারাদেশ। করোনায় দেশটিতে এখনো প্রতিদিন গড়ে মারা যাচ্ছেন ৪০০ মানুষ। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৮৬ হাজারের ওপরে। আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ লক্ষ পেড়িয়ে গেছে। মহামারী ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারার কারনেই তিনি পদত্যগ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

তার জোট থেকে সরে গেছেন ইতালীর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দল। আর এ কারনে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সেদেশের প্রেসিডেন্ট আবারও তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারে। এই অবস্থায় কন্তে হয়ত তার জোটের পরিধি বাড়িয়ে আরও শক্তিশালীভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফিরে আসতে পারেন। এই অবস্থায় দেশটিতে পুনঃনির্বাচনও হতে পারে। তবে সব মিলেয়ে দেশটিতে তালমাতাল অবস্থা চলছে। ইতালীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশীও কাজ করছে। মহামারী ও অর্থনৈতিক মন্দার কারনে তারাও ভাল নেই।

বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষনা দিয়েছে ইউনেস্কো

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন রবিবার তার কার্যালয়ে এ তথ্য জানান। জনাব মোমেন বলেন, ‘মুজিববর্ষে একটি সুখবর আছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর নামে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দ্য ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে।’

সারা বিশ্বে সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর কার্যনির্বাহী বোর্ড ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে। আর পুরস্কারটির নাম হবে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’। জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের শরৎকালীন ২১০তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এবং এটাই প্রথম জাতিসংঘের কোনো অঙ্গ সংস্থা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করল। এটি মুজিব বর্ষে ও বিজয়ের মাসে দেশের জন্য আরেকটি উপহার।

ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী বোমা হামলায় নিহত

ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার তেহরান প্রদেশের দামাভান্দ কাউন্টির আবসার্দ শহরে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মোহসেন ফাখরিজাহের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। এই সময় হামলাকারীদের সাথে মোহসেনের দেহরক্ষীদের গুলি বিনিময় হয়। হামলায় গুরুতর আহত মোহসেন ফাখরিজাদেহকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মোহসেন ফাখরিজাদেহকে ইরানী বোমার জনক বলে ধারনা করা হয়। এই হত্যার পিছনে ইসরায়িলের হাত রয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ইসরাইলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য আসেনি। ইরান সম্প্রতি ইউরিনিয়াম সমৃদ্ধকরন আরও বৃদ্ধি করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দাবি করে আসছে। আর এই সময়েই ইরানের শীর্ষ এই বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়েছে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে।

1 2 3 25