নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্ট থেকে হেফাজত নেতা মামুনুল হক নারীসহ আটক

হেফাজতে ইসলামের প্রভাবশালী নেতা ও কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্ট থেকে আটক করেছে পুলিশ। এই সময় তার সাথে এক নারী ছিল। স্থানীয়রা মামুনুলকে ওই নারীসহ রয়েল রিসোর্টের ৫ম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে অবিরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল জানায় ওই নারী তার ২য় স্ত্রী। তার বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করা হলে মামুনুল কোন উত্তর দেননি। মামুনুল নারীসহ ওই রিসোর্টে অবস্থান করছেন এই খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে তার রুমে ওই মহিলাসহ অবরুদ্ধ করে রাখে বিকাল ৩টার সময়। ওই নারীর বাড়ি কোথায় ও নাম জিজ্ঞাসা করলে মামুনুল জবাব দেননি। পরে মামুনুল পুলিশকে জানায় সে তার ২য় স্ত্রী ও তার নাম আমেনা। তবে ওই নারী আসলেই মামুনুলের স্ত্রী কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ব্যপারে আরও বিস্তারিত আসছে……।

বাংলাদেশের রাজনীতিঃকাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়ে

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত উঠেছে অযৌক্তিক কারনে। স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করেই এর কারন বলে আপাততভাবে মনে হচ্ছে। আসলে এর মূল রয়েছে আরও অনেক গভীরে। শেখ হাসিনার সরকার একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনের দিকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনর সরকার ক্ষমতায় আসার পর সর্বক্ষেত্রে দেশের দৃশ্যমান ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে।

৩৫ শত মেগাওয়াট থেকে বেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে, যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যপক উন্নয়ন সাধন হয়েছে, নানা ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় ৮৫% সম্পূর্ণ হয়েছে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, বেশ কয়েকটি নতুন ব্রীজ নির্মানসহ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করায় সেখানে এখন আর যানঝট থাকছে না। অপরদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডও ৪ লেনে উন্নীত হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যপক আমুল পরিবর্তন এসেছে। ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে দেখলে মনে হয় এটা ইউরোপের কোন দেশের রাস্তা। দেশে শিক্ষার হার ১০/১২ বছর আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে দরিদ্র হার অনেক কমেছে, মাতৃমৃত্যু ও নবজাতক মৃত্যু হার অনেক কমেছে। এই সরকার কমিনিটি ক্লিনিক তৈরী করে প্রতিটি গ্রামে স্বাস্থসেবা পৌছে দিয়েছে। মানুষের মাথা পিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ডলারের ওপরে পৌছেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, দেশের ৯৫% অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছে গেছে। গ্রামে গ্রামে পাকা বাড়ি, অনেকটা শহরের মতই মনে হয়। প্রতিটা গ্রামেই এখন পাকা রাস্তা রয়েছে। শহরের সমস্ত সুবিদা এখন গ্রামেই পাওয়া যায়, আধুনিক পদ্ধতিতে মানুষ চাষাবাদ করছে। উৎপাদিত ফসলও উপযুক্ত মুল্যে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকেরা।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রেরন করে পৃথীবিকে বাংলাদেশের সক্ষমতার জানান দিয়েছে এই সরকার। জঙ্গি দমন করে সারাবিশ্বে প্রসংশিত হয়েছে বাংলাদেশ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ অতি স্বচ্ছতার সাথে করে যাচ্ছে এ সরকারই। রাজধানীতে কুড়িল ফ্লাইওভার, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা শহরের যানঝট কমিয়েছে এই সরকার। রাজধানীতে আরও তৈরী হচ্ছে মেট্রোরেল যা উত্তরা থেকে নারায়নগঞ্জ পর্যন্ত সার্ভিস দিবে। অপরদিকে তৈরী হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। সারাদেশ জুড়েই ব্যপক উন্নয়ন আর উন্নয়নই চোখে পড়ে। সারাদেশটাই শহরের মত হয়ে গেছে। গ্রামে গ্রামে চলে গেছে ইন্টারনেট সেবা। গ্রামে বসে সহজেই মানুষ পেয়ে যাচ্ছে সারাবিশ্বের খবর। দেশের ১০ কোটি মানুষের হাতে চলে গেছে মোবাইল সেবা। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। আর এসবের পিছনে অবদান রেখে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। ব্যপক উন্নয়নের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে। সারা বিশ্বের বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রশংশা করে যাচ্ছে। দেশের মানুষও শেখ হাসিনার শাসনকে ব্যপকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে অকৃপনভাবে। কিন্তু সরকার বিরোধীদের কাছে তা হিংসার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

আর এই সময়ে একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্টি ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি করে শেখ হাসিনার সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। অন্য কোন সুবিদাজনক ইস্যু না পেয়ে তারা মোদীর আগমনকে ইস্যু হিসাবে বেছে নিয়েছে। তাই অত্যান্ত সুপরিকল্পিতভাবে তারা তাদের সহযাত্রী হিসাবে হেফাজতকে বেছে নিয়েছে। হেফাজতের মধ্য দুটি অংশ রয়েছে-একটি রাজনৈতিক অংশ ও অপরটি অরাজনৈতিক। হেফাজতের রাজনৈতিক অংশের মধ্যেই রয়েছে জামাত-বিএনপি ও স্বাধীনতা বিরোধীরা। মুলত এই অংশটিই মোদীর আগমনের বিরোধীতা করার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। তারা শুক্রবার জুমাবাদ বাইতুল মোকারম জাতীয় মসজিদ থেকে তান্ডবের ছক কষে। ঢাকা ও আশপাশের জেলা সমূহ থেকে হেফাজতের কর্মীরা বাইতুল মোকারমে আসে। জুম্মার দু রাকাত নামাজ শেষ হতেই তারা জুতা হাতে নিয়ে প্রদর্শন করে। অর্থাৎ তারা মোদীর আগমনের প্রতিবাদ শুরু করে এভাবে। সাধারন মুসল্লীদের একটি অংশ তার প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। মসজিদের ভিতর ও বাহিরে ব্যপক তান্ডব চালায় তারা। বাহিরে অপেক্ষমান পুলিশের সাথেও ব্যপক ঢিল পাটকেল ছুড়াছুড়ি হয়। পুলিশ এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে টিয়ার গ্যাস ও ফাকা গুলি করে। ২ ঘন্টা ধরে তথাকথিত হেফাজতের কর্মীরা বাইতুল মোকারম মসজিদে অবস্থান করে। তাদের সাথে জিন্সের প্যান্ট ও টি শার্ট পরিহীত অনেক তরুনকে দেখা যায়। মুলত এরা শিবিরের ছেলে ছিল। এরাই মুলতঃ তান্ডব চালায়।

একই সময়ে হাট হাজারী মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার মাদ্রাসা ছাত্র শিক্ষদের নেতৃত্বে রাস্তায় এসে ব্যপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে তারা স্থানীয় থানা ভাংচুর করে, ভুমি অফিসে আগুন দেয় ও আরও বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী স্থাপনায় ব্যপক তান্ডব চালায়। এই সময়ে পুলিশের সাথে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এক সময় আত্ন্ররক্ষার্থে গুলি চালালে বেশ কয়েকজন তথাকথিত হেফাজত কর্মী হতাহত হয়।

একই সময়ে হেফাজত ও স্বাধীনতা বিরোধীদের আরেক ঘাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডব চালায় তথাকথিত হেফাজত কর্মীরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। শহরের আরও সরকারী বেসরকারী স্থাপনায় ব্যপক ধ্বংশযজ্ঞ চালায়। পরদিন শনিবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যপক তান্ডব চালায় তারা। এদের সাথে জিন্সের প্যান্ট ও টি শার্ট পরিহিত অনেককে দেখা যায়। মুলত এরা জামাত- বিএনপির কর্মীসমর্থক। এরাই বিভিন্ন স্থানে ব্যপক সহিংসতা চালিয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক হেফাজত নেতাও বলেছেন তাদের কর্মীরা জ্বালাও পোড়াও কিংবা ভাংচুর করেনি। তিনি বলেছেন তাদের মিছিলে কিছু ছেলে পেলে ঢুকে পড়েছিল। মুলত এরাই থানাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে, ভাংচুর করেছে, আগুন দিয়েছে। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী দিয়েছে, হেফাজতের বিরোদ্ধে নয়, সরকারের বিরুদ্ধে। আবার হেফাজতের কর্মসূচীতে ব্যপকভাবে অংশ গ্রহন করেছে বিএনপি-জামাত। নরসিংদীতে রবিবার হরতাল চলাকালে হেফাজতের মিছিলে বিএনপি-জামাত কর্মীরা ব্যপকহারে অংশ গ্রহন করে। হেফাজত এদের ডাকেনি, এমনিতেই তারা ঢুকে পড়েছে হেফাজতের মিছিলে। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে বিএনপি-জামাতের হাতে সরকারের মোকাবেলা করার মত ইস্যু নাই। যার ফলে তারা বিনা দাওয়াতে ঢুকে যাচ্ছে হেফাজতের ভিতরে। আর সৃষ্টি করছে সাম্প্রদায়িক উম্মাদনা। যদি হেফাজতের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে হটানো যায়। এ যেন কাকের বাসায় কুকিলের ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফুটানোর মত ঘটনা।

বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে হেফাজতের হরতাল আংশিক পালিত

আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডবের মধ্য দিয়ে সারাদেশে আংশিকভাবে হেফাজতে ইসলামীর ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাইতুল মোকাররম মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বাহির করিলে মুসল্লীদের ২টি গ্রুপের মধ্য উত্তেজনা তৈরী হয়। এক পর্যায়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পুলিশ কাঁদানো গ্যাস ছুড়ে দেড় ঘন্টায় পরিস্থিত নিয়ন্ত্রনে আনে। তার আগে ঢাকার আশপাশের জেলা সমূহ থেকে হেফাজতের কর্মীরা বাইতুল মোকারম মসজিদে জমায়েত হয়। নামাজ শেষ না হতেই তারা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।

একই সময়ে হেফাজতে ইসলামের ঘাটি হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার মাদ্রাসা ছাত্র শিক্ষক বাহির হয়ে সেখানে তান্ডব চালিয়ে ভুমি অফিস, স্থানীয় থানাসহ নানা স্থানে ব্যপক তান্ডব চালাতে থাকে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বেশ কিছু সরকারী সম্পত্তি। তারা থানায় হামলা করে ইটপাটকেল ছুড়ে থানা ভাংচুর করে। একপর্যায়ে আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সর্ট গান দিয়ে গুলি চালালে বেশ কয়েকজন হেফাজত কর্মী হতাহত হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতের আরেক ঘাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শনিবার তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। এখানেও বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনায় ব্যপক ভাংচুর করে ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে ভাংচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে। শুক্রবার হেফাজতে ইসলাম আজকের এই হরতাল ঘোষনা করে। সারাদেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে আংশিকভাবে এই হরতাল পালিত হয়।

হরতাল চলাকালে সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারও তান্ডব চালায় হেফাজতের কর্মীরা। তারা আজও বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনা ভাংচুর করে। সকালে ট্রেনে ঢিল ছুড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা-চট্রগ্রাম রেল চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোডে ব্যারিকেড দিলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আতংষ্ক সৃষ্টি করে। ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সমস্ত ঘটনায় আজও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে সকালে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েকটি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক একত্রিত হয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এই সময় তারা বিদ্যুতের খুটি ফেলে রাস্তা বন্ধ করে রাখে। এখানে তারা মোট ৫টি গাড়ি ভাংচুর করে ও জ্বালিয়ে দেয়। উল্লেখ্য এই মাদ্রাসাগুলি হেফাজতের ঘাটি হিসাবে পরিচিত। অপরদিকে চট্রগ্রামে তেমন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হাটহাজারীতে ব্যারিকেড দিয়ে চট্রগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়ক বন্ধ করে রাখে হেফাজত কর্মীরা। সেখানে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় ছিল।

নরসিংদীর বেলানগরে হেফাজত কর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরেও হেফাজত সমর্থিত বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা রয়েছে। এখানেও ছাত্র-শিক্ষরা পিকেটিং করে আতংষ্ক সৃষ্টি করে। এছাড়া সারাদেশ থেকে আর তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দেশের অন্যান্য বিভাগে আজকের হতালের আঁচ পড়েনি।

করোনায় আরও এক নক্ষত্রের জীবনাবসান

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সিলেট ৩ আসনের এমপি মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরন করেন। ৭ই মার্চ করোনা টেস্টে পজেটিভ আসলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১০ই ফেব্রুয়ারী তিনি করোনার প্রথম ডোজও নিয়েছিলেন। সেই সময় তার কোন পাশ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।

মাহমদ-উস সামাদের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। তিনি ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুক্রবার সকাল ১১টায় তার মরদেহ হেলিকপ্টারে করে ফেঞ্চুগঞ্জে নেওয়া হবে। আগামীকাল বিকাল ৫টায় তার নিজ বাড়িতে নামাজে জানাজা শেষে সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারেরে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক জানিয়েছেন।

প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার সকাল ১১টা থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। এই প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিন শাখা। তাতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোসারফ হোসেন। বেলা ১২টার সময় মোসারফ হোসেনের বক্তব্যর শেষেরদিকে সমাবেশে বেশ উত্তেজনা চলছিল। সমাবেশ থেকে একদল বিএনপি নেতাকর্মী প্রেসক্লাবের বেড়া ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একই সময়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লাঠি চার্জে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সময় বিএনপি নেতা মোসারফ হোসেনসহ অন্যান্যরা প্রেসক্লাবের ভিতরে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা প্রেসক্লাব থেকে বাহির হয়ে চলে যান।

এদিকে কর্তব্যরত পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিনা উস্কানীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয়নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, নাজিম উদ্দিন আলম, হাবিবুন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

মিয়ানমারে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে সামরিক শাসক

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী এক নীরব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকে সেদেশে বিক্ষোভ দানা বেধে উঠতে থাকে। এই বিক্ষোভ দমাতে সামরিক বাহিনী প্রথমে ফেইসবুক সেবা বন্ধ করে দেয় সেদেশে। বিক্ষোভ ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় পরে ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার সেবাও বন্ধ রাখে সেনাবাহিনী। আজ আবার দেশটির ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচীকে আটক করে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে সেনাবাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুচীকে ১৫ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আটক রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনা কর্মকর্তারা। সুচীর দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের অধিকাংশকেই ইতিমধ্য গ্রেপ্তার করেছে সামরিক সরকার। সেনাবাহিনীর এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারন করেছে বিশ্বনেতারা। জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে।

১৯৬২ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে প্রায় ৫০ বছর যাবৎ মিয়ানমার শাসন করে আসছে। কয়েক বছর আগে মিয়ানমারে আংশিক গণতন্ত্র ফিরে আসেলেও তা পূর্ণতা লাভের আগেই সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে।

আরও এক মামলায় তারেক জিয়ার ২ বছরের সাজা

মানহানির এক মামলায় তারেক রহমানকে ২ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার নড়াইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম-২ আদালতের বিচারক আমাতুল মোর্শেদা এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে একই বছরের ২৪শে আগস্ট নড়াইলের হাকিম আদালতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানির এই মামলাটি করেছিলেন কালিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার শাহাজাহান বিশ্বাস।

রায়ে তারেক রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে রায়ে। ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আনিত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করেন উক্ত আদালতের বিচারক। এই নিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৪ টি মামলার রায়ে তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের জেল, মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় ৭ বছর জেল ও একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। উল্লেখ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক রয়েছেন।

সুচীকে আটক, মিয়ানমারে আবার সামরিক শাসন জারি

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচীসহ বেসামরিক নেতাদের আটক করে সেদেশে ১ বছরের জন্য জরুরী অবস্থা জারি করে সামরিক শাসন জারি করা হয়েছে। সোমবার ভোরে সূচীসহ অধিকাংশ বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সুচীসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত নভেম্বরে অনুষ্টিত নির্বাচনে সুচীর দল কারচুপি করেছে। সেই নির্বাচনে সূচীর দল একক সংখ্যা গরিষ্টতা পেয়েছিল।

সামরিক শাসন জারি করে দেশটির ক্ষমতা গ্রহন করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইংয়। সুচীকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে এক বছরের জন্য দেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেওয়া হয় বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়। গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অং সান সুচীর দলের সাথে বিরোধ চলে আসছিল।

এদিকে সুচীকে গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব। মিয়ানমারে গনতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষকে আহবান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক শাসককে সতর্ক করে সুচীর মুক্তি দাবি করেছে।

দিল্লিতে অবস্থিত ইসরায়িলের দূতাবাসের অদুরে বোমা হামলা

শুক্রবার বিকালে এ পি জে আব্দুল কালাম রোডে অবস্থিত ইসরায়িলের দূতাবাসের অদুরে এই বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। যে স্থানে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটেছে সেখান থেকে ইসরায়িলের দূতাবাস ১৫০ মিটার দুরে অবস্থিত। এই বিস্ফোরনে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ার সূত্র থেকে জানা গেছে। বিস্ফোরনের পরপরই সেখানে দমকল বাহিনীর কর্মীরা উপস্থিত হয়। সেই সাথে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর করীরাও সেখানে এসেছেন।

ফুটপাতে একটি ফুলের টবে আগে থেকেই রাখা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেড জাতীয় বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দুরে বিজয়চকে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল। ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দিল্লির পুলিশ এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে।

মহামারীকালে পদত্যগ করলেন ইটালীর প্রধানমন্ত্রী

পদত্যগ করেছেন ইতালীর প্রধানমন্ত্রী গিওসেপ্পে কন্তে। মঙ্গলবার তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যগপত্র জমা দেন। গত সপ্তাহে তিনি আস্তাভোটে কোনক্রমে উতরে গেলেও সেদেশের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্টতা হারিয়েছেন। করোনা মহামারীর কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে শিল্পোন্নত এই দেশতিতে। ভেঙ্গে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি, বিপর্যস্ত সারাদেশ। করোনায় দেশটিতে এখনো প্রতিদিন গড়ে মারা যাচ্ছেন ৪০০ মানুষ। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৮৬ হাজারের ওপরে। আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ লক্ষ পেড়িয়ে গেছে। মহামারী ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারার কারনেই তিনি পদত্যগ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

তার জোট থেকে সরে গেছেন ইতালীর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দল। আর এ কারনে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সেদেশের প্রেসিডেন্ট আবারও তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারে। এই অবস্থায় কন্তে হয়ত তার জোটের পরিধি বাড়িয়ে আরও শক্তিশালীভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফিরে আসতে পারেন। এই অবস্থায় দেশটিতে পুনঃনির্বাচনও হতে পারে। তবে সব মিলেয়ে দেশটিতে তালমাতাল অবস্থা চলছে। ইতালীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশীও কাজ করছে। মহামারী ও অর্থনৈতিক মন্দার কারনে তারাও ভাল নেই।

বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষনা দিয়েছে ইউনেস্কো

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন রবিবার তার কার্যালয়ে এ তথ্য জানান। জনাব মোমেন বলেন, ‘মুজিববর্ষে একটি সুখবর আছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর নামে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দ্য ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে।’

সারা বিশ্বে সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর কার্যনির্বাহী বোর্ড ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে। আর পুরস্কারটির নাম হবে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’। জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের শরৎকালীন ২১০তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এবং এটাই প্রথম জাতিসংঘের কোনো অঙ্গ সংস্থা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করল। এটি মুজিব বর্ষে ও বিজয়ের মাসে দেশের জন্য আরেকটি উপহার।

ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী বোমা হামলায় নিহত

ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার তেহরান প্রদেশের দামাভান্দ কাউন্টির আবসার্দ শহরে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মোহসেন ফাখরিজাহের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। এই সময় হামলাকারীদের সাথে মোহসেনের দেহরক্ষীদের গুলি বিনিময় হয়। হামলায় গুরুতর আহত মোহসেন ফাখরিজাদেহকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মোহসেন ফাখরিজাদেহকে ইরানী বোমার জনক বলে ধারনা করা হয়। এই হত্যার পিছনে ইসরায়িলের হাত রয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ইসরাইলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য আসেনি। ইরান সম্প্রতি ইউরিনিয়াম সমৃদ্ধকরন আরও বৃদ্ধি করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দাবি করে আসছে। আর এই সময়েই ইরানের শীর্ষ এই বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়েছে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে।

নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে অপসারন

নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম হিরু (এমপি) এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ আব্দুল মতিন ভূইয়াকে অপসারন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিল্বব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে জিএম তালেব হোসেনকে। অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলীকে।

বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্নেল নজরুল ইসলাম হিরু পরপর তিন বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে যারা জীবন বাজি রেখে নরসিংদী সদর আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন তাদেরকে অবজ্ঞা করার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামীলীগে যারা হাইব্রিড তাদেরকে বেশী মূল্যায়নের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মূলধারার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের তিনি কোনঠাসা করে রেখেছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে ঠিক কি কারনে তাকে অপসারন করা হয়েছে কেন্দ্র থেকে তা জানানো হয়নি।

অপরদিকে অপসারিত জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূইয়া নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি মূলধারার আওয়ামীলীগের নেতা হলেও ইদানিং স্থানীয় রাজনীতিতে নানা কারনে বিতর্কিত। তিনি প্রয়াত এমপি মোসলেহ উদ্দিন ভূইয়ার ছোট ভাই ও একজন মুক্তিযোদ্ধা।

কারাফটকে শেষবারের মত মায়ের মুখ দেখলেন নরসিংদীর বহুল আলোচিত পাপিয়া

কাশিমপুর কারাগারের ফটকে পাপিয়া তার মৃত মায়ের মুখ শেষবারের মত দেখলেন। সোমবার রাত ১০টায় পাপিয়ার বোন ও বোন জামাই লাশবাহী অ্যাম্বোলেন্সে করে কারাগার ফটকে লাশ নিয়ে গেলে কারা কর্তৃপক্ষ পাপিয়াকে লাশ দেখান। এই সময় পাপিয়া কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কারাফটকে লাশ প্রায় ২০ মিনিটের মত ছিল।

পাপিয়ার বাড়ি নরসিংদী শহরে এবং তিনি নরসিংদী জেলা যুবমহিলালীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। তার স্বামীর নাম সুমন চৌধুরী। অবৈধ অস্ত্র, মাদক, অবৈধ সম্পদ, যৌন ব্যবসাসহ বিভিন্ন মামলায় পাপিয়া দম্পতি এখন জেলে আছেন। এর মধ্য অবৈধ অস্ত্রের একটি মামলার রায় ১২ই অক্টোবর দেওয়ার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট স্যুট ভাড়া নিয়ে পাপিয়া দম্পতি দীর্ঘদিন যৌন ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।

লেবাননে বিস্ফোরনে হতাহতদের মধ্য ৭৮ জন বাংলাদেশী রয়েছে

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি কেমিকেল গোডাউনে বিস্ফোরনে হতাহতদের মধ্য ৭৮ জন বাংলাদেশী রয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার বাংলাদেশ মিশন। এ পর্যন্ত এ বিস্ফোরনে ৩ জন বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর দিয়েছে বাংলাদেশ মিশন। এদের মধ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১ জন, মাদারীপুরের ১ জন ও অন্য ১ জন অজ্ঞাত রয়েছেন। এরা সেখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও লেবাননে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত ২১ জন নৌবাহিনীর সদস্যও আহত হয়েছেন বলে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্য ১ জন গুরুতর আহত রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে (ইউনিফিল) মেরিটাইম টাস্কফোর্সের অধীনে লেবাননে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস ‘বিজয়’ তখন বৈরুত বন্দরেই নোঙর করা ছিল। বিস্ফোরণের ধাক্কায় জাহাজেরও ক্ষতি হয়েছে। লেবাননের বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশীদের মধ্য অধিকাংশই হাসপাতাল ছেড়েছেন। এখনো ১০/১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে লেবাননের রাজধানী বৈরুত বন্দরের কাছে একটি কেমিকেল গোডাউনে রাখা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিস্ফোরনে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২৮ জনে দাড়িয়েছে। গোডাউনটিতে প্রায় ৩ হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল। বিস্ফোরনে বেশ কয়েকটি ভবন উড়ে যায়, সাড়ি সাড়ি যানবাহন ধবংস হয়। একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব এই বিস্ফোরনে নিহত হয়। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী এই হামলার উপযুক্ত বিচারের ঘোষনা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইরান ও ইসরাইল উদ্ধারকাজে সহযোগিতার ঘোষনা দিয়েছে। ফ্রান্সের একটি উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্য লেবাননের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মন্তব্য করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং ওনকে নিয়ে নানা গুজব চলছে বিশ্বজুড়ে

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং ওনকে নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বজুড়ে। তাকে সর্বশেষ ১১ই এপ্রিল একটি রাজনৈতিক মিটিয়ে দেখা গিয়েছিল। এর পর থেকে তার আর কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মাঝে একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়েও তাকে দেখা যায়নি। ১৫ই এপ্রিল কিমের পিতামহের জন্মদিন ছিল। এটি উত্তর কোরিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস হিসাবে গুরুত্বের সাথেই এতদিন পালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এখানেও কিমকে দেখা যায় নি। ফলে তাকে নিয়ে গুজবের ডালাপালা বিস্তার লাভ করতে থাকে। অনেকে বলছেন, কিম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্য মৃত্যুবরন করেছেন। কিন্তু এর পক্ষে বিপক্ষে কোন সত্যতা খুজে পাওয়া যায়নি।

তীব্র ধূমপায়ী ৩৬ বছর বয়সী কিমের হার্টের সমস্যার কথাও শুনা যাচ্ছে। ধূমপানের কারনে নাকি তার হার্টের মারাত্নক ক্ষতি হয়েছে। সেই জন্য তিনি হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় শায়িত আছেন বলে তার খবর রাখেন সিউল ভিত্তিক এমন একটি সূত্র দাবি করছে। আবার উত্তর কোরিয়া নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছেন হাওয়াইয়ের এক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর চেংওন হেরিসন কিম বলেন, কিমের স্বাস্থ্য সবসময়ই একটু নাজুক থাকায় তার অসুস্থ্যতা নিয়ে জল্পনা কল্পনা বেশী হচ্ছে। সম্ভবত কিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ্য হয়ে উঠছেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে তাকে কোন মিটিয়ে দেখা যায়নি বলে তাকে নিয়ে নিউজ করেন এমন অনেকেই জানিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি নিয়ে গবেষনা করেন ও কলাম লিখেন এমন একজন পিটার ওয়ার্ড। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের অসুস্থ্যতা হয়ত অতটা সিরিয়াস না। খুব বেশী সিরিয়াস হলে বিমান কিংবা সেনাবাহিনীর মুভমেন্ট সেটেলাইটে দেখা যেত। কিন্তু বাস্তবে এমনটি দেখা যাচ্ছে না। চায়না থেকে একদল চিকিৎসক উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছেন বলে রয়টার’স জানিয়েছে। যদি কিম জং ওন ইতিমধ্য মারা যেতেন তাহলে হয়ত রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা ঘোষনা করা হত। কিন্তু বাস্তবে এমনটি হয়নি বলে কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে যে প্রপাকান্ডা ছড়িয়েছে তা অতটা সত্য নাও হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে কিম মারা গেলে উত্তর কোরিয়ায় অস্থিতিশীলতা তৈরী হতে পারে বলে আল জাজিরার বিশ্লেষনে বলা হয়েছে। ৩২ বছর বয়সে কিম তার বাবার মৃত্যুর পর দেশটির প্রেসিডেন্টের পদে আসীন হন।

নরসিংদীর রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের খাদ্য সামগ্রী বিতরন

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

সোমবার রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে দরিদ্রদের মধ্য খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে ১০০ জন দরিদ্র জনগোষ্টীর মধ্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এই খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান এই খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো জামিল খান ও রায়পুরা থানা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এমদাদুল হক খান মিঠু।

বিতরনকৃত খাদ্য সামগ্রীর মধ্য রয়েছে প্রতি জনের জন্য ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আলো ও ১ কেজি ডাল। উল্লেখ্য করোনা ভাইরাসের কারনে সারাদেশ লকডাউনে থাকায় খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবি জনগোষ্টী কর্মহীন হয়ে পরে। যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশেই বিনা মূল্যে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরন শুরু হয়েছে এবং তা অব্যহত থাকবে।

ঢাকা-১০ ও গাইবান্ধা- ৩ আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা জয়ী

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন পেয়েছেন ১৫৯৫৫ ভোট আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ রবিউল আলম পেয়েছেন ৮১৭ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির হাজী মো. শাহজাহান পেয়েছেন ৯৭ ভোট, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপির কাজী মুহাম্মদ আব্দুর রহিম পেয়েছেন ৬৩ ভোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের  নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী পেয়েছেন ১৫ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মিজানুর রহমান পেয়েছেন ১৮ ভোট। নির্বাচনে ৫.২৮% ভোট কাস্ট হয়।

অপরদিকে গাইবান্ধা ৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। স্মৃতি পেয়েছেন ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক পেয়েছেন ৪১ হাজার ৪০৮ ভোট। স্মৃতি বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক। অপরদিকে ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল পাচটা পর্যন্ত ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাটের একটি আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহন অনুষ্টিত হয়।

মক্ষীরানীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত আছে

র‍্যাবের সদস্যরা ৩ মাস লেগে থেকে তথ্য অনুসন্ধান করে সম্প্রতি শামীমা নুর পাপিয়াকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তার স্বামী সুমন চৌধুরী ও আরো দুই সহযোগীকে ভারতে গমনের প্রাক্কালে গ্রেপ্তার করে। পাপিয়া গ্রেপ্তারের পর থেকেই পাপিয়ার পাপের সম্রাজ্যের নানা অজানা তথ্য বের হয়ে আসে। নানা ধরনের অবৈধ ব্যবসা করে পাপিয়া দম্পতি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক বনে যায়। কিভাবে পাপিয়া এত অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে তা র‍্যাবের অনুসন্ধানে বেড়িয় এসেছে।

পাপিয়া দম্পতি অবৈধ পন্থায় এই অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে। অসামাজিক ব্যবসা থেকেই পাপিয়ার আয়ের সিংহভাগ আসে। প্রথমদিকে পাপিয়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মেয়েদের চাকুরীসহ নানা প্রলোবন দেখিয়ে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় বাধ্য করত। তার এই অবৈধ ব্যবসাকে বাধাহীন করতে পাপিয়া স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। পরে তার এই অবৈধ ও অসামাজিক ব্যবসা আরো বিস্তার লাভ করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের সুপারিশে পাপিয়া হয়ে যায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদিকা। নারী ও অর্থ ব্যবহার করে পাপিয়া এই পদ ভাগিয়ে নিয়েছে। পরে পাপিয়া আরো শক্তিধর হয়ে ঢাকার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে দেহ ব্যবসার সম্প্রসারন করে। ইতিমধ্য পাপিয়া নানা কৌশলে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কিছু প্রভাবশালী নেতাকে অসামাজিক সার্ভিস প্রদান করে তাদের সাথে আরো সখ্যতা গরে তুলে। এক পর্যায়ে পাপিয়া এই সমস্ত নেতাদের তুষ্ট করে নানা কাজ ভাগিয়ে নিতে গুলশানের ৫ তারকা ওয়েস্টিন হোটেলের বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট স্যুট ভাড়া নিয়ে সেখানে রমরমা মদ ও দেহ ব্যবসা চালায়। আর এর আড়ালে পাপিয়া প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের অসামাজিক কাজে সহায়তা করে নানা তদবির বানিজ্য করে বিপুল অর্থের মালিক হয়। পাপিয়াদের সাথে পুলিশসহ সরকারী আমলাদেরও সখ্যতা আছে। যার ফলে পাপিয়ারা ধরা ছুয়ার বাইরে থেকে যায়।

নরসিংদীতে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীর একটি ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর নাম কিউ সি। এই বাহিনীর মাধ্যমে পাপিয়া মুক্তিপন, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অবৈধ কাজ চালিয়ে আসছিল। নরসিংদীতে পাপিয়ার একটি টর্চার সেলও রয়েছে। এই সেলে বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষ ধরে এনে নির্যাতন করে মুক্তিপন আদায় করা হত। পাপিয়ার জন্ম ১৯৯১ সালের ২৭শে অক্টোবর। সেই হিসাবে তার বর্তমান বয়স ২৯ এর নীচে। পাপিয়ার পাপের কাহিনী সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। পাপিয়াকে গ্রেপ্তারের পর সারাদেশে তুলপাড় শুরু হয়েছে।

এই রকম মক্ষীরানী পাপিয়ারা বড় বড় সকল রাজনৈতিক দলেই রয়েছে। অবৈধ ব্যবসাকে কন্টকমুক্ত করতে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী সেজে দলের অফিসগুলিতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। সিনেমার নায়িকাদের মত সেজেগুজে তারা পার্টি অফিসে যায়। ক্ষমতাধর নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। নারী সরবরাহের মাধ্যমে নেতাদের তুষ্ট করে নানা তদবির শুরু করে। আস্তে আস্তে এই অসামাজিক কাজের পরিধি আরো বাড়াতে থাকে। এমনি করে পাপিয়ারা ক্ষমতাধর হয়ে উঠে।

ক্ষমতাসীন দলের পাপিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে। পাপিয়াদের অনেকেই গাঁ ঢাকা দিয়ে আছে গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য। পাপিয়াদের যারা নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছে তাদের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চলছে। পাপিয়াদের সহযোগিতা করে আসা রাঘব বোয়ালরা শীঘ্রই ধরা পড়বে বলে আশা করছে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এরা অতি ক্ষমতাধর হওয়ায় সাবধানে এগুচ্ছে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সব লীগের মধ্যে থাকা পাপিয়াদের বিরুদ্ধে একশন শুরু হয়ে গেছে

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

পাপিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়ে গেছে। শনিবার দুপুরে র‍্যাব-১ এর সদস্যরা শামীমা নুর পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে সুমন মতি ও তাদের আরো দুই সহযোগীসহ হযরত শাহজালাল বিমান বন্দর দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাবার সময় আটক করে। র‍্যাপ তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী মুদ্রা উদ্ধার করে। পরে পাপিয়া দম্পতির ইন্দিরা রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান টাকা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। র‍্যাব তাদের অধীনে থাকা ইন্দিরা রোডে বিলাসবহুল দুটি ফ্লাট, রাজধানীর এফডিসি গেটের পাশে যৌথ মালিকানায় গাড়ির সো রুম, নরসিংদীতে দুটি ফ্লাট, একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার ও বাসাইল এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্লটের সন্ধান পায়। বিলাসবহুল বেশ কয়েকটি গাড়িও রয়েছে পাপিয়া দম্পতির। অতি অল্প সময়ে তারা বিপুল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছে। তাদের বৈধ আয়ের তেমন কোন ব্যবসা ছিল না।

র‍্যাব-১ জানিয়েছে পাপিয়া ও তার স্বামী নারী পাচার, অসামাজিক কার্যকলাপ, দেহ ব্যবসা, জাল মুদ্রা, চোরা চালান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এ ছাড়াও তারা নিজস্ব বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজি ও মুক্তিপন আদায়ের সাথে জড়িত ছিল। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তারা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকাও নিয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছে র‍্যাব। নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা প্রলোবন দেখিয়ে যুবতিদের এনে রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে দেহ ব্যবসাও চালিয়ে আসছিল কুখ্যাত এই পাপিয়া ও তার স্বামী। গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুট সারা বছরই পাপিয়ার নামে বরাদ্ধ থাকতো। এই স্যুটে পাপিয়া জোরপূর্বক মেয়েদের দিয়ে দেহ ব্যবসা চালাতেন বলে তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। এই হোটেলে প্রতিদিন আড়াই লক্ষ টাকা করে বারের বিল পরিশোধ করতেন পাপিয়া। সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে তদবির বানিজ্যও চালিয়ে আসছিলেন পাপিয়া।

শামীমা নুর পাপিয়া নরসিংদী সরকারী কলেজে পড়াশুনা করেছেন বলে তার ফেসবুক পাতা থেকে জানা যায়। তার জন্ম ২৭ শে অক্টোবর ১৯৯১ সালে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায়। সে হিসাবে তার বয়স মাত্র ২৯ বছর। তার অবৈধ আয়ের সিংহভাগ আসে দেহ ব্যবসা থেকে। অতি অল্প সময়ে পাপিয়া দম্পতির অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। অল্প বয়স থেকে পাপিয়া বেসামালভাবে চলাফেরায় অব্যস্ত ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এত অল্প বয়সে পাপিয়া কিভাবে যুব মহিলা লীগের নরসিংদী জেলার সভাপতি হয়েছে তা নিয়ে নরসিংদীসহ সারাদেশে নানা গুঞ্জন চলমান আছে। মদ, অর্থ আর নারী দিয়েই পাপিয়া যুব মহিলা লীগের এই পদ লাভ করেছেন বলে আলোচনা হচ্ছে। কারা পাপিয়াকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে সহযোগিতা করেছে তা নিয়ে গোয়েন্দারা কাজ করছেন বলে জানা গেছে। যুব মহিলা লীগের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ ব্যবহার করে পাপিয়া তার পাপের সম্রাজ্য আরো বড় করেছেন। এটি ক্ষমতাসীন দলের ভিতরে শুদ্ধি অভিযানের অংশ বলেই জানা গেছে। সকল লীগের ভিতরে থাকা পাপিয়াদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আওয়ামীলীগের ওপর মহল থেকে জানা গেছে। ইতিমধ্য আদালত পাপিয়া দম্পতির ৩ মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। শনিবার গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পরই যুব মহিলা লীগ থেকে পাপিয়াকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

1 2 3 25