জার্মানির লেপার্ড-২ ট্যাংক সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে জার্মানির তৈরী লেপার্ড ট্যাংক নিয়ে চলছে ব্যপক আলোচনা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলনেস্কি জার্মানির কাছে এই ট্যাংক চেয়েছেন। অনেকে বলে আসছেন এই ট্যাংক ইউক্রেনের সেনারা পেলে যুদ্ধের গতি প্রকৃতির মোড় ঘুরে যাবে। কিন্তু জার্মানি ইউক্রেনকে এই ট্যাংক দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এটি একটি অতি শক্তিশালী ও আধুনিক ট্যাংক।

লেপার্ড-২ ট্যাংক

লেপার্‌ড-২ জার্মানির তৈরী একটি তৃতীয় প্রজন্মের ট্যাংক। ক্রাউস মাফেই ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির সেনাবাহিনীর জন্য লেপার্ড-২ ট্যাংক তৈরী করেন। এটি ১৯৭৯ সালে পশ্চিম জার্মানির সেনাবাহিনী প্রথম ব্যবহার শুরু করে।এই সময় থেকে এটি লেপার্ড-১ ট্যাংকের উন্নত সংস্করণ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি রাইন মেটাল দিয়ে তৈরী ও ১২০ মিমি স্মুথবোর কামান দিয়ে সজ্জিত। এই ট্যাংকটি এমটিউ ফ্রেডরিকশাফন দ্বারা তৈরী একটি বি-১২ টুইন-টার্বো ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে চালিত।

জার্মানি ও ১৩টি ইউরোপীয় দেশসহ কানাডা, চিলি, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরও এই ট্যাংক ব্যবহার করে। এই ট্যাংক কসোভো ও আফগানিস্তানে ব্যবহার হয়েছে।তুরস্ক সিরিয়ায় এই ট্যাংক ব্যবহার করেছে। এর দুটি মডেল রয়েছে লেপার্ড ২এ৪ ও লেপার্ড ২এ৫। অরিজিনাল মডেল ২এ৪ এ উলম্বভাবে মুখোমুখি বুরুজ বর্ম রয়েছে। লেপার্ড ২এ৫ এ তীর আকৃতির বুরুজ এপ্লিক আর্মার রয়েছে।এ ছাড়াও এ মডেলটিতে লেজার রেঞ্জফাইন্ডার, ডিজিটাল ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, একটি স্থিতিশীল প্রধান বন্দুক, কোএক্সিয়াল মেশিনগান, নাইট ভিশন ও দেখার জন্য উন্নত সরঞ্জাম রয়েছে। এটি আঁকাবাঁকা ও উচুনিচু দিয়ে চলার সময়ও লক্ষ ভেদ করতে সক্ষম।

ইইউ নেটোর ক্রীতদাস হিসাবে কাজ করছে-পুটিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন বলেছেন, ইইউ নেটোর ক্রীতদাস হিসাবে কাজ করছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে নেটো ও ইইউ একসঙ্গে ইউক্রেনের জয়ের পক্ষে কাজ করবে মঙ্গলবার এই যৌথ ঘোষনা আসার পরিপ্রেক্ষিতে পুটিন এই মন্তব্য করেছেন। আর নেটো ও ইইউর যৌথ ঘোষনা উত্তর আটলান্টিকে ইইউর অধস্তনতাই প্রকাশ করে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। আর এই ঘোষনাকে বল প্রয়োগ করে আমেরিকার স্বার্থ হাসিলের একটি হাতিয়ার বলে মনে করেন জাখারোভা।

ছবি-সংগৃহীত

জাখারোভা বলেন ইউরোপীয়রা আমেরিকার কাছে তাদের বিশ্ব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বকিয়তা হারিয়ে ফেলেছে এবং আমেরিকার ওপর তাদের ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতাই প্রকাশ পাচ্ছে। এদিকে রাশিয়ার ভাড়াটে গ্রুপ ওয়াগনার দাবি করছে যে তারা ইউক্রেনের লবনখনি সমৃদ্ধ শহর বলদারের দখল নিয়েছে। অপরদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলদার শহরে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

মজা পাইলাম না!

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু। এই সেতুর নির্মাণ বাধাগ্রস্ত করতে প্রকাশ্যে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমাদের দেশের আমেরিকার দালালগুলো উলঙ্গ হয়ে নেমেছিল পধ্মা সেতুর বিরুদ্ধে।অনেকে বলেছিল “পদ্মাসেতু জোড়াতালি দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে। আমি এই সেতুতে উঠবো না। আপনারাও উঠবেন না। বিপদ আছে কিন্তু।” কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে শেখ হাসিনার সরকার পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হয়, দেশের মানুষ তাতে অনেক খুশী হয়। কিন্তু যারা পদ্মাসেতুর বিপক্ষে ছিল তারা খুশী হতে পারেনি। তবে সেতু উদ্বোধনের পরপরই বিরোধীরাও খুশীতে নেচে উঠেছিল। সেতু উদ্বোধন কিংবা নির্মাণের কারনে না। একটা নাটবল্ট লোজ থাকার কারনে। সেই হিসাবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন দেশের সরকারী দল-সরকার বিরোধী দল সকলেই খুশী হয়েছিল তা বলা যায়।

কিন্তু ২৮ তারিখ দেশের আরও এক মেগাপ্রকল্প মেট্রোরেল চালু হয়েছে। তাতে সরকারি দল, সাধারন মানুষ ও সরকারের পক্ষের সকলেই খুশী হয়েছে। তবে সরকার বিরোধীরা খুশী হতে পারেনি। কারন মেট্রোরেলে নাটবল্ট লোজ পাওয়া যায়নি। পাইলে হয়ত বিরোধীরাও আনন্দে উৎসবে মেতে উঠতে পারতো। তাই মেট্রোরেল চালুর মধ্য দিয়ে দেশের সব মানুষ মজা পাইলো না – এ কথা বলাই যায়।

নরসিংদী জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কাঠালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মতবিনিময় সভা

আসন্ন নরসিংদী জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আব্দুল মতিন ভূইয়ার পক্ষে মাধবদীর কাঠালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সোমবার এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। এই মতবিনিময় সভায় কাঠালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উক্ত ইউনিয়নের ১৩ জন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ১৩ জন জনপ্রতিনিধির সকলেই আব্দুল মতিন ভূইয়াকে কাপ পিরিচ মার্কায় ভোট দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই সভায় নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি জিএম তালেব হোসেন ও সাধারন সম্পাদক পীরজাদা মোহাম্মদ আলী ছাড়াও প্রার্থী আব্দুল মতিন ভূইয়া বক্তব্য রাখেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আব্দুল মতিন ভূইয়া একজন সৎ, নির্লোভ, বিনয়ী ও যোগ্য প্রার্থী। তার বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের কোন অভিযোগ নাই। মতিন ভূইয়াকে ভোট দেওয়ার জন্য সকল বক্তাই ভোটারদের অনুরোধ করেন। আগামী ১৭ই অক্টোবর নরসিংদী জেলা পরিষদ নির্বচনে মতিন ভূইয়া বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তাতীলীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ ফজলুর রহমান ও নরসিংদী পৌরসভার মেয়র আমজাদ হোসেন বাচ্চু।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাইব্রিডরাই হবে আওয়ামীলীগের জন্য বড় সমস্যা

২০০৮ সাল থেকে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করেছে কিছু সুবিদাভোগী। এদের অনেকেই খুদ রাজনীতিতেই নবাগত। ক্রমেই গ্রুপিং লবিং করে এরা এদের অবস্থান পাকাপুক্ত করছে। এদের দাপটে আওয়ামীলীগের ত্যগী নেতাকর্মীরা দলে কোনঠাসা হয়ে আছে। মোনাফেকি আচার আচরনের কারনে ভোটের রাজনীতিতে এরা ভালই করছে। সজজেই এরা সাধারন মানুষকে ম্যানেজ করে পক্ষে নিয়ে যেতে পারে। এদের প্রতি রয়েছে বিএনপি-জামাতের সমর্থন।

Thumbnail

দল মনোনয়ন না দিলে এরা দলের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্বতন্ত্র কিংবা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যায়। এই কাজটি করতে দলের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। কারন এরা দলের আসল নেতাকর্মী না। পরে আর সুযোগ নাও আসতে পারে। তাই অতি দ্রুততার সাথে এগিয়ে যেতে হবে। নগদ যা পাওয়া যায় নিয়ে নিতে হবে। এরাতো অনুপ্রবেশ করেছেই দল থেকে সুবিদা নেওয়ার জন্য।

এদের অনেকে থানার দালালী করে বেশ ভালই ইনকাম করে থাকে। অনেকে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সাথেও জরিত। ঠিকাদারি ব্যবসায়ও এরা এগিয়ে আছে। অর্থ দিয়ে নেতাদের ম্যানেজ করে পদ দখলেও এরা ওস্তাদ। এরা দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যায়। এদের অনেকে নির্বাচনে বিজয়ীও হয়ে যায়। নৌকা ডুবাতে বিএনপি-জামাতের একচেটিয়া ভোট তারা পেয়ে যায়। আর বিএনপি-জামাত নিজ দলীয় প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে তখন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নৌকা ডুবিয়ে আনন্দ পায়।

আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড এই হাইব্রিড নেতাদের নিয়ে বেশ চিন্তিত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরা সমস্যা সৃষ্টি করবে। তাই আগে থেকেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে দলীয় হাইকমান্ডে।

নরসিংদীতে আনন্দঘন পরিবেশে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত

নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা, দোয়া, তবারক বিতরণ ও আনন্দ র‍্যালির আয়োজন করা হয়। শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি জিএম তালেব হোসেন, সাধারন সম্পাদক পীরজাদা মোহাম্মদ আলী, নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ভূইয়াসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশ গ্রহনে জন্মদিনের এই অনুষ্ঠান শেষে আনন্দ র‍্যালির আয়োজন করা হয়। তাতে সকল শ্রেনী-পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করে।

টান টান উত্তেজনা ও সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৭ই সেপ্টেম্বর শনিবার নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে জি এম তালেব হোসেনকে সভাপতি ও পীরজাদা মোহাম্মদ আলীকে সাধারন সম্পাদক ঘোষনা করা হয়। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নরসিংদী জেলায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অবশেষে টান টান উত্তেজনা ও সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। নরসিংদী মুসলেহ উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিপুল জনসমাগম হয়।

এই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের (এমপি)। সম্মেলনের উদ্ভোদক ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়ামের সদস্য জনাব ডঃ আব্দুর রাজ্জাক (এমপি)। এই সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম (এমপি)। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্য আরও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট কামরুল ইসলাম, মৃনাল কান্তি দাস্‌, এডভোকেট সানজিদা খাতুন, দেলোয়ার হোসেন, মেহের আফরুজ চুমকি, সামসুন নাহার চাপা, এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার, ইকবাল হোসেন অপু (এমপি), আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীমসহ আরও অনেকে।

এই সম্মেলনে সভাপতি হিসাবে ৩ জন প্রার্থী ছিলেন। তারা হলেন জি এম তালেব হোসেন, লেঃ কর্নেল নজরুল ইসলাম হিরু (এমপি) ও জহিরুল হক মোহন (এমপি)। অপরদিকে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন ১৮ জন। তাদের মধ্য পীরজাদা মোহাম্মদ আলী, কামরুজ্জামান কামরুল, মন্তাজ উদ্দিন ভূইয়া ও আমিরুল ইসলাম ভূইয়া ছিলেন অন্যতম। এই সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিএম তালেব হোসেন ও সভা সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক পীরজাদা মোহাম্মদ আলী। দ্বিতীয় অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন ডঃ আব্দুর রাজ্জাক। ডঃ আব্দুর রাজ্জাক সভাপতি হিসাবে জিএম তালেব হোসেন ও সধারন সম্পাদক হিসাবে পীরজাদা মোহাম্মদ আলীর নাম ঘোষনা করেন।

সাজেদা চৌধুরীর জীবন বৃতান্ত

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা ছিলেন। তিনি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপপ্রাপ্ত হন এবং একই সময়ে তিনি বাংলাদেশ গার্ল-গাইড এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক সনদ সিলভার এলিফ্যান্ট পদক লাভ করেন। তিনি ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক বর্ষসেরা নারী নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

ব্যক্তি জীবন

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মাতা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী গোলাম আকবর চৌধুরী রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী ছিলেন। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর তার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৫৬ সাল থেকে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৯–১৯৭৫ সময়কালে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন।

১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন।। ১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে তিনি বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক ও ১৯৭২-১৯৭৬ সময়কালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডের জাতীয় কমিশনার ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়কের দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে টেকনোক্র‍্যাট কোটায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে, তিনি ফরিদপুর (ফরিদপুর-২; নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন) থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।দশম ও একাদশ সাধারণ নির্বাচনেও তিনি এ জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা হন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও তিনি একই পদ অলংকৃত করেন।

মৃত্যু

তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষে ১১ সেপ্টেম্বর রোববার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

নরসিংদী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আব্দুল মতিন ভূইয়া

আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে নরসিংদী জেলায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল মতিন ভূইয়া। আজ বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবন গনভবনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় ৬৪ জেলার জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলী‌গের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করা হয়। তাতে নরসিংদী জেলায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল মতিন ভূইয়া। আওয়ামীলীগের নির্বাচনী বোর্ডের প্রধান শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সভায় গাইবান্ধা ৫ আসনের উপনির্বাচনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য ঘোষনা করা হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আমির হোসেন আমু, শেখ সেলিম, কাজী জাফরুল্লাহ, কর্নেল ফারুক খান, ড. আব্দুল রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, মাহবুব উল আলম হানিফসহ অন্যান্যরা।

নুরু মিয়া একজন কৃষক

অনেকদিন আগে টিভিতে ইন্ডিয়ান একটা মুভি দেখেছিলাম। মুভিটির নাম মিঃ ইন্ডিয়া। তাতে নায়ক নায়িকা হিসাবে ছিলেন অনিল কাপুর ও শ্রীদেবী। অনিল কাপুরের হাতে একটা আংটি ছিল। এই আংটি থাকার কারনে অনিল কাপুরকে তার আশপাশের কেউই দেখতে পেতেন না। শ্রীদেবী যখন গুন্ডাদের খপ্পরে পড়েন তখন ছায়া হয়ে অনিল কাপুর শ্রীদেবীর পাশে থেকে গুন্ডাদের কঠিন মাইর দিতেন। এই সময় গুন্ডা ও শ্রীদেবী কেহই অনিল কাপুরকে দেখতে পেতেন না। শ্রীদেবী হাত পা নাড়ালেই গুন্ডারা পড়ে যেত। তাতে শ্রীদেবী ও গুন্ডারা মনে করতো এটা শ্রীদেবীরই কারিশমা।

Premium Vector | Indian farmer plows field with plough of pulled ox

হালে নুরুল হক নুর আন্দোলনে নামলেই বিএনপি-জামাতের লোকেরা তাকে জনবল দিয়ে সাপোর্ট দিয়ে যায়। কিন্তু নুর মনে করে এরা সকলেই তার লোক/সাপোর্টার। প্রকৃত পক্ষে নুরের তেমন কোন সাপোর্টার নাই। মুলত বিএনপি জামাতের লোকেরাই অনিল কাপুরের মত নুরের পিছনে সরব। এইটা নুর তখনই বুঝবে যখন সময় হলে বিএনপি জামাত নুরের কাছ থেকে সরে যাবে।

নুরু মিয়া একজন কৃষক তার নিজের জমি নাই। বিএনপি-জামাতের জমি চাষ করে খায়। বিএনপি জামাতের জমি আছে কিন্তু হালের বলদ নাই।তাই নুরু বলদকে দিয়ে হাল চাষ করায়। ফসল যাবে বিএনপি-জামাতের ঘরে আর বলদ হিসাবে খাটবে নুরু।

বাংলাদেশেও শ্রীলংকার মত অবস্থা হবে এই আশায় আস্ফালন করছে কিছু মানুষ

ইদানিং কিছু মানুষ রাস্তাঘাটে, চায়ের দোকানে কিংবা বাস ট্রেনে সরকারের নানামুখী সমালোচনা করছে। পদ্মা সেতু ও বিদ্যুতের লোডসেডিং নিয়েই বেশী সমালোচনা করছে তারা। পদ্মা সেতু থেকে পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতি নিয়েই তারা বেশী সরব। তাদের কাছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল কিংবা উড়াল সড়ক এই সব কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এই সবের কথিত দুর্নীতিই তাদের কাছে বড় বিষয়। কোন রকমের তথ্য-উপাত্য ছাড়াই তারা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ দিয়ে ফেনা বের করছে। এরা হল স্বঘোষিত দুর্নীতির গবেষক। এই সমালোচকদের একটি শ্রেনী রয়েছে। এরা হল সরকার বিরোধী শ্রেনী। আরও খোলাখুলিভাবে বললে বলতে হয় এরা হল বিএনপি-জামাতের সমর্থক কিংবা নেতাকর্মী।

একটা শ্রেনী আছে যারা দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিতে বেজায় খুশি। কেননা তাতে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি হবে। আর তাতে সরকারের পতন হবে, তার দলের ক্ষমতায় যাবার পরিবেশ তৈরী হবে। বাশটা কিন্তু তার পা…… দিয়েও যাচ্ছে। তাতে সমস্যা নাই! সরকারের পতনই হলো মূখ্য বিষয়। তারা দ্রব্যমূল্য কিংবা লোড সেডিং নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ায়। তারা দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা কামনা করে। তারা প্রকৃতপক্ষে দেশের শত্রু, পাকিস্তান পন্থী। করোনা ও ইউক্রেন কারনে সারা বিশ্বেই দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি অব্যহত আছে। সারা বিশ্বের সকল দেশেই মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। তারা সরকারের সমালোচনার সময় এই বাস্তবতা মুখেও আনে না। নিজেদের বিবেকের সাথে প্রতারনা করছে এই শ্রেনী। আর দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে তারা। সরকারের পতনের লক্ষ্যে মিথ্যাচার করছে এই শ্রেনী।

সেদিন দেখলাম লোড সেডিং দেওয়াতে এক ভদ্রলোক বেজায় খুশী। খুশীতে আরও কিছু সরকার বিরোধী কথা বললেন। তিনি আশা করছেন তার দল শীঘ্রই ক্ষমতায় যেতে পারবে। এই শ্রেনী দ্রব্যমূল্যের দাম যতনা বাড়ে তার থেকে বেশী প্রচার করে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই বিভ্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সকল মানদন্ডেই শ্রীলংকা থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক মজবুত। বাংলাদেশের ১ টাকা সমান শ্রীলংকার ৩.৮১ রুপি ও বাংলাদেশের ১ টাকা সমান পাকিস্তানের ২.৪২ রুপি। তা সত্তেও অযথাই বাংলাদেশকে শ্রীলংকার সাথে তুলনা করে নিজের বিবেকের সাথে প্রতারনা করে। সম্প্রতি ঋনখেলাপীতে ঝুঁকিপূর্ণ ২৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নাই।

আবার সম্প্রতি প্রকাশিত ঋনখেলাপীতে ঝুঁকিপূর্ণ ৫০টি দেশের তালিকায়ও বাংলাদেশের নাম নাই। এই সব তথ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত্তিই প্রমান করে। তথাপিও এই দেশের কুলাঙ্গার শ্রেনী বাংলাদেশ শ্রীলংকা হবে এমন দিবাস্বপ্ন দেখে। কিন্তু বাস্তবতার সাথে তাদের এই স্বপ্নের কোন মিল নাই।

May be an image of text that says "31.8 0 55.6 Methedelogy ঋনখেলাপিতে ঝুকিপূর্ণ ৫০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই 55.25 25.78"

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ও বাঙ্গালীর বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে দুপুর ১২টায় এবং জাজিরা প্রান্তে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষনা করেন তিনি। উদ্বোধন ঘোষনার আগে দুই প্রান্তেই মোনাজাত করা হয়। মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধন ঘোষনার পর প্রধানমন্ত্রী সেতু দিয়ে মাওয়া প্রান্তের দিকে রওনা দেন। সেতুর মাঝ খানে দাঁড়িয়ে তিনি কিছু সময় সেতু ও পদ্মার নয়নাবিরাম দৃশ্য অবলোকন করেন। এই সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কিছু বিমান পদ্মা সেতুর সন্নিহিত আকাশে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। এর মধ্য জাতীয় পতাকাবাহী ৫টি হেলিকপ্টার ও মিগ-২৯ ও ছিল। এই সময় পদ্মা নদী, পদ্মা সেতু ও আকাশে এক নয়নাবিরাম দৃশ্যের অবতারনা হয়। কিছু সময় সেতুর মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে পরে আবার জাজিরা প্রান্তের দিকে রওনা দেন। এই সময় শেখ হাসিনার সাথে মেয়ে পুতুল, সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ছিলেন। সেতু উদ্বোধনের সময় আকাশে বর্ণিল রঙ ছিটানো হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে পৌছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষন দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনগনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন জনগনের শক্তিতেই আজ পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে, জনগণ পাশে ছিল বলেই পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। পদ্মা সেতু শুধু মাত্র একটি ইট-পাথরের সেতু নয়, এটি বাঙ্গালীর গর্ব, আত্নমর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক। এই সেতু নির্মাণের ফলে বাঙ্গালীর আত্ন বিশ্বাস বেড়ে গেছে। সেখ হাসিনা বলেন জনগণ সাথে ছিল বলেই সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, তাই জনগনকে সেলুট জানাই। তিনি বলেন এই সেতু নিয়ে যারা বিরোধীতা করেছিল তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নাই। আমি আশা করি এই সেতু নির্মাণের ফলে তাদেরও আত্নবিশ্বাস বেড়ে যাবে। তিনি বলেন পদ্মা সেতু নিয়ে যারা আমাদেরকে অপমান করেছিল সেতু নির্মাণের মধ্য তার প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকা মূল্য মানের নোট, স্মারক ডাক টিকেট ও খাম উম্মোচন করেন। দেশী বিদেশী প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অতিথি উদ্বোধনী উনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রিফাত কুসিক মেয়র নির্বাচিত

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অবশেষে বিজয়ের হাসি হাসলেন নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। তিনি ৩৪৩ ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। মোট ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্য সবকটির ফলাফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগের আরফানুল হক রিফাত পেয়েছেন ৫০৩১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘড়ি প্রতীক নিয়ে মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ৪৯৯৬৭ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তা রাত সড়ে ৯টায় এই ফলাফল ঘোষনা করেন।

AL's Rifat wins Cumilla city election by 343 votes

এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলে। কুসিক নির্বাচনে সকল কেন্দ্রেই ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহন চলে। ভোট গ্রহন শেষে শাস্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন সম্পর্ণ হয়েছে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিবৃতি দেন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে বিএনপির গাত্রদাহ প্রকাশ্যে রুপ পাচ্ছে

২৫শে জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হবে। এই উদ্বোধনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিএনপির গাত্রদাহ যেন প্রকাশ্যে রূপ পাচ্ছে। বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিককালে দেওয়া নানা বক্তব্যে তার প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। ২ দিন আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আর হাসিনা পদ্মা সেতু নিয়ে উৎসবে মেতে আছেন। আবার গতকাল (১৪ই জুন) বিএনপির নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের নীচ তলায় জিয়া পরিষদের এক সভায় তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নিয়ে সার্কাস করছেন।

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল (১৪ই জুন) ঠাকুরগাঁয়ে এক দলীয় কর্মসূচীতে বলেন, আমরা পদ্মা সেতু বানাতে যে টাকা খরচ হয়েছে তার হিসাব চাই। এই সেতু নির্মাণে ব্যপক দুর্নীতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আবার বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছেন পদ্মা সেতু শেখ হাসিনা তার বাপের টাকা দিয়ে তৈরী করে নাই। যদিও শেখ হাসিনা কখনো দাবি করেননি যে তিনি বাপের টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু বানিয়েছেন। বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে পদ্মা সেতু নিয়ে তাদের গাত্রদাহেরই প্রমান মিলে। সারা জাতি আজ পদ্মা সেতু নিয়ে মেতে উঠেছে। কিন্তু বিএনপি এবং এর মিত্ররা এই সেতু নিয়ে নানা নেতিবাচক কথা বলে যাচ্ছেন। এমনটা মোটেও কাম্য নয় এবং জাতি তা প্রত্যক্ষ করছে।

পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানানো হচ্ছে। আমি এই সেতুতে উঠবো না। আপনারাও উঠবেন না। রিস্ক আছে কিন্তু।’

দেশে এখন পদ্মা সেতুর সার্কাস চলছে: রিজভী
———ফটো সংগৃহীত———-

পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরুর আগেই এই সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। যার ফলে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। কোন টাকা বরাদ্ধ না দিয়েই সেদিন বিশ্ব ব্যাংক এই সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। এই ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড ছিল ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস। তিনি হিলারি ক্লিন্টনের মাধ্যমে অর্থায়ন বন্ধে প্রভাব খাটিয়েছেন। তার পিছনে ছিল সুজনের ডঃ বদিউল আলাম মজুমদার, সিডিপির ডঃ দেব প্রিয় ভট্রাচার্য, ডঃ আসিফ নজরুল, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, টি আই বির ডঃ ইফতেখার আহমেদ প্রমুখ। আর বিএনপি-জামাত সেদিন রাজনৈতিকভাবে পদ্মা সেতুর বিরোধীতা করেছিল। আর তা এখনো অব্যহত আছে। কানাডার আদালতে প্রমান হয়েছে পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয় নাই। আদালতের রায়েই একথা বলা আছে। তারপরেও এদেশে পদ্মা সেতুর বিরোধীরা নানা অলিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন এই সেতু নিয়ে।

অন্যদিকে সেতুর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষনার পরই সারাদেশে নানা ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটছে। সীতাকুন্ডে বিএম কন্টেইনার টার্মিনালে আগুন, ফেরিতে আগুন, পারাবাত ট্রেনে আগুন আরও নানা ঘটনায় গোয়েন্দারা নাশকতার আলামত পাচ্ছেন। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আগে পরে নাশকতা হতে পারে বলেও আসংস্কা করা হচ্ছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তিন বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়-জাহিদ হোসেন

বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়। শনিবার বিকালে তার হার্টের ৩টি ব্লকের মধ্য একটিতে রিং বসানো হয়। তারপর আজ বিকালে ৪৮ ঘন্টা শেষ হয়। এর মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল নয় বলে দাবি করেছেন ডাঃ জাহিদ হোসেন। ৭২ ঘন্টা পর বাকি দুটি ব্লক নিয়ে কাজ করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

ফাইল ফটো

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার সময় হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে গেলে বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এভারকেয়ারের সিসিইউতে ভর্তি খালেদা জিয়া

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ১২ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশান-২ এর বাসা ফিরোজা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।তাকে তখনই হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে। সেই সময় বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিএনপি চেয়ার পারসনের প্রেস উইনিং থেকে এই তথ্য জানা যায়।

(ফাইল ফটো)

এর আগে ২০২১ সালে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার ‘পরিপাকতন্ত্রে’ রক্ষক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। উল্লেখ্য বেগম খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এভারকেয়ার হাসপাতাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। সেই বোর্ডই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করবে।

পদ্মা সেতুর উদ্ভোধনের দিন সব জেলায় অনুষ্ঠান হবে

২৫শে জুন স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্ভোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান হবে। আর শিবচরে হবে আওয়ামীলীগের জনসভা। এই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভাষন দিবেন। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, শরিয়তপুর ও মাদারীপুরসহ আরও কয়েকটি জেলায় ২৫শে জুন থেকে ৫ দিন ব্যপী উৎসব পালন করা হবে। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় এ উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা হবে। রাজধানীর হাতিরঝিলে এই অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হবে এবং লেজার সো হবে। পদ্মাসেতুর উদ্ভোধনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে এখন উৎসবের আয়োজন চলছে।

৩রা জুন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ডিসিদের সাথে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত সমূহ গৃহিত হয়। এই বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যে পরিমান রিজার্ভ আছে তাতে ৫ মাস চলবে-মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন দেশে যে পরিমান বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ আছে তাতে ৫ মাসের আমদানী ব্যয় চলবে। কিন্তু এই ৫ মাসে যে পরিমান রেমিটেন্স আসবে ও রপ্তানি থেকে যে বৈদেশিক মূদ্রা আসবে তা তিনি বলেননি। সচেতনভাবেই তা তিনি এড়িয়ে গেছেন। কারন ওনার ও ওনার দলের উদ্দেশ্য হল দেশকে অস্থিতিশীল করা। দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ অব্যহত আছে এবং এই মহামারীকালেও দেশের রপ্তানি বেড়েই চলেছে। আমদানী, রপ্তানি এবং রেমিটেন্স প্রবাহে ভারসাম্যও আছে। গত ১২/১৩ বছরে দেশে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ কয়েক গুন বেড়েছে। তাহলে ফখরুল সাহেবরা কি করে বলেন ৫ মাসে রিজার্ভ শেষ হয়ে যাবে।আর দেশে শ্রীলংকার মত অবস্থা হবে আর ওনারা জ্বালাও-পোড়াও চালিয়ে ক্ষমতায় যাবেন। এই স্বপ্ন ওনাদের স্বপ্ন হিসাবেই থাকবে।মহামারীকালেও বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধির হার অব্যহত আছে।আগামীতেও তা অব্যহত থাকবে বলে মানুষ আশা করে।

একটা উদাহরন দিয়ে বিষয়টা পরিস্কার করি। আমার কাছে ২ লক্ষ টাকা রিজার্ভ আছে। আমি একটা চাকরি করি এবং প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা বেতন পাই। মাসে আমার খরচও ২৫ হাজার টাকা। আমার বেতন যতদিন অব্যহত থাকবে ততদিন আমার রিজার্ভ ২ লক্ষ টাকাই থাকবে। কিংবা মাসে যদি ২৫ হাজার টাকার একটু কম বেশী খরচ হয় তা হলে আমার রিজার্ভ কখনো ২ লক্ষের বেশী হবে আবার কখনো ২ লক্ষের একটু কম হবে। গড়ে আমার রিজার্ভ ২ লক্ষ টাকাই থাকবে। আবার যদি আমার খরচ কমে যায় রিজার্ভ বাড়বে। আমার আয় বেড়ে গেলেও রিজার্ভ বাড়বে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকার মত বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। এটি নানা অবস্থার সাথে কম বেশী হতেই পারে। কিন্তু বিএনপি মহাসচিব জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর চেষ্টা করছেন। ওনারা তা ১২/১৩ বছর যাবৎ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কখনো সফল হতে পারেননি। ইনসাল্লাহ এবারও ওনারা সফল হবেন না। দেশপ্রেমিক জনতা ওনাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিবে।বাংলাদেশের ১টাকা সমান শ্রীলংকার ৪.১১ রুপি। বাংলাদেশে শ্রীলংকার মত অবস্থা হবে না তা বুঝার জন্য এই তথ্যইে যতেষ্ঠ। আরও একটা তথ্য দিতে চাই আগাম৮/৯ মাসের মধ্য বাংলাদেশের মূদ্রার মান ভারতের মূদ্রার মানের সমান হয়ে যাবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ১ টাকা সমান ভারতের ০.৮৯ রুপি।

আমেরিকা বনাম রাশিয়ার যুদ্ধ কখন শেষ হবে?

২৪শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাশিয়া দাবি করছে ইউক্রেনে রুশভাষী ও রুশ সমর্থক নাগরিকরা অত্যাচারিত হচ্ছে। অপরদিকে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেনের অত্যাচারের কারনে স্বাধীনতা চাচ্ছে। এই এলাকায় স্বাধীনতাকামীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সরকারী বাহিনীর সাথে লড়াই করে আসছে। এমতাবস্থায় রুশভাষী ইউক্রেনীয়দের রক্ষা করতে রাশিয়া ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান চালানোর যুক্তি দেখাচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে দনবাসের লোহনস্ক ও দোনস্ক এলাকাকে স্বাধীন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া।

২৪শে ফব্রুয়ারী থেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনারা ঢুকে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্য শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। ফলে উভয় পক্ষেরই ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে। আপাতঃভাবে এই যুদ্ধ রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্য হলেও আসলে এই যুদ্ধ চলছে মুলত রাশিয়া ও নেটোর মধ্য। নেটোর কিছু দেশ হয়ত এই যুদ্ধ চাচ্ছে না। কিন্তু এই অংশটা খুব একটা শক্তিশালী নয়। আর এই নেটোর নেতৃত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই ইউক্রেনে মুলত যুদ্ধ চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্য। এই যুদ্ধ ক্ষেত্রটা শুধু ইউক্রেনে।

যুক্তরাষ্ট্রকে যে কোন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বিশ্বে রাশিয়া বাদে আর দ্বিতীয় কোন দেশ নাই। এই দুটি দেশেরই রয়েছে বিশ্বের যে কোন দিক থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। একমাত্র রাশিয়াকে মোকাবেলা করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৭০ বছর আগে গঠিত হয় নেটো। শুরুতে সদস্য সংখ্যা ছিল ১২ এবং বর্তমানে ৩০। অল্প কয়েকটা দেশ বাদে ইউরোপের প্রায় সকল দেশই নেটোর সদস্য। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে যে সাম্রাজ্যবাদ চালাচ্ছে তা নেটোকে সাথে নিয়েই করছে। অর্থাৎ নেটো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের জোট। ইউরোপের দেশগুলিকে নিয়ে ইইউ নামে আরেকটি জোট রয়েছে। এটিও ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যপক প্রভাব খাটাচ্ছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। সর্বাধুনিক যত অস্ত্র আছে তা ইউক্রেনে সরবরাহ করছে। এমনকি পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাথে মিশে যুদ্ধ করছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। নানা ধরনের অবরোধ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেটো ও ইইউ রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাতে সকল দিক দিয়েই ব্যপক ক্ষতির মুখে পরেছে রাশিয়া। অপরদিকে এই দেশগুলিও নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভংগ করছে। নিজেরাও ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর ইউক্রেনের জানমালের ব্যপক ক্ষতি সাধন করছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব সারাবিশ্বেই পরেছে। বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সংকট তৈরী হয়েছে। নিত্যপন্যের দাম সারা বিশ্বেই বেড়ে গেছে। বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বে খাদ্যের অভাব দেখা দিবে বলে আভাস দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র দেশগুলি। এমনকি এখনই বিশ্বের দেশে দেশে এখনই অভাব/সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে এই যুদ্ধকে একটা টেস্ট বলে মনে করছে পশ্চিমারা। রাশিয়াকে তারা একটু বাজিয়ে দেখছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলনেস্কিকে এরা তাদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের এজেন্ট হিসাবে কাজ করাচ্ছে। পাটাপুতার ঘষাঘষিতে ইউক্রেনের এখন বারোটা বেজে গেছে। তবে রাশিয়ারও ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই যুদ্ধ পশ্চিমারা যেদিন চাইবে সেদিন হয়ত শেষ হবে।

শ্রীলংকা হঠাৎ করে বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করে দেয়

৪/৫ বছর আগের কথা। ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর আসে, শ্রীলংকা বাংলাদেশীদের জন্য সেদেশে অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। কোন রকম কারন দর্শনো ছাড়াই দেশটি বাংলাদেশীদের জন্য আগের এই সুবিদা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টা নিয়ে একটু বুঝার চেষ্টা করলাম। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্য তুলনামূলক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক নিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেল শুধু মাত্র শিক্ষা ছাড়া শ্রীলংকা অন্য কোন দিক থেকেই বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে নেই। তা হলে কেন বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করলো? আসলেই এদের দম্ভ ছাড়া আর কোন কারন খোঁজে পাওয়া যায়নি। এই ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশটি বুঝিয়ে দিল তাদের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বহীন।

একই সময়ে বাংলাদেশেও শ্রীলংকার নাগরিকদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা চালু ছিল। অন এরাইভেল ভিসার কারনে শ্রীলংকার নাগরিকরাই বেশী এর সুযোগ নিতো। সে সময়ে এমনকি এখনো প্রচুর সংখ্যক শ্রীলংকার নাগরিক বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে চাকুরিরত আছে। বাংলাদেশ থেকে খুব কম সংখ্যক মানুষ শ্রীলংকা ভ্রমনে যায়। শ্রীলংকার সাথে বাংলাদেশের বানিজ্যও খুব বেশী হয় না। মুলত শ্রীলংকানরাই অন এরাইভেল ভিসার সুযোগে বেশী লাভবান হত।

বাংলাদেশ অন এরাইভেল ভিসা নিয়ে শ্রীলংকার সাথে আর কোন আলোচনা না করেই একই সুবিদা বন্ধ করে দিল ২/৩ দিনের মধ্যেই। ফলে বাংলাদেশে কর্মরত শ্রীলংকানরা বিপদে পড়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত হল শ্রীলংকা। অপরদিকে বাংলাদেশ তাতে লাভবানই হল। সেই দাম্ভিক শ্রীলংকা কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে ২১শ কোটি টাকা ঋন নিয়েছে। তা পরিশোধ না করেই আবারও ২৫শ কোটি টাকা ঋন চাইলো। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পরমর্শে এইবার আর শ্রীলংকাকে টাকা দেয়নি বাংলাদেশ। সেই দাম্ভিক শ্রীলংকায় আজ খাদ্যের অভাব, জ্বালানির অভাব, কাগজের অভাব, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত। সেই দেশটি সকল দিক থেকে আজ চরম বিপর্যয়ে।

1 2 3 26