প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ‘জঙ্গি’ ফাহিমকে ‘হত্যা’: বিএনপি
মাদারীপুরে শিক্ষকের উপর হামলার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে ‘বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা’ করে সরকার প্রকৃত ঘটনা ‘আড়ালের’ চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ বিএনপির
জঙ্গি কায়দায় শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলার সময় বুধবার তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছিল জনতা।
রিমান্ডে আনার পর ফাহিমকে নিয়ে তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের সময় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ তিনি নিহত হন বলে পুলিশের দাবি।
ফাহিম নিহত হওয়ার পর দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সরকার তাকে (ফাহিম) ক্রসফায়ারে হত্যা করলেন।
“হত্যা করার মানে হচ্ছে, একটা জিনিসকে তিনি (সরকার) আড়াল করলেন। তিনি এটাকে সামনে আসতে দিলেন না।”
গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় বিএনপির যোগসাজশ রয়েছে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, সরকারের মদদেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
রিজভী বলেন, “এই যে (ফাহিমকে) রিমান্ডে নিয়েছেন, রিমান্ডে নিয়ে তাদের (জঙ্গি) নেটওয়ার্ক এবং আর কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করা যেত।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালে গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমের লাশ
“রিমান্ডের পরবর্তী পর্যায়ে তার স্বীকারোক্তি নিয়ে, তা যাছাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে একটা জিনিস জানা যেত, সে জঙ্গি কি না এবং প্রকৃত জঙ্গি হলে আর কারা কারা জড়িত। তাদের নামগুলো জানা যেত। তা না করে তাকে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হল।”
চলমান হত্যাকাণ্ডে সরকার জড়িত বলে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, “আজকের যে ঘটনাটিতে আবার সুপ্রমাণিত হল, এই জঙ্গিবাদের কর্মকাণ্ডের যে ঘন কুয়াশা তৈরি করেছে সরকার, এগুলোর সঙ্গে তারা জড়িত।”
অভিযান শেষেও গ্রেপ্তার
জঙ্গিদমনের সাপ্তাহব্যাপী ‘সাড়াশি অভিযান’ শুক্রবার রাতে শেষ হলেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার অব্যাহতভাবে চলছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।
জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শেষেও বিরোধী নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।
শনিবার ঢাকার পল্লবী, ফেনীর সোনাগাজী, খুলনা মহানগর, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, বাগেরহাটের শরণখোলা, নাটোরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের তালিকা তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ছবি)
রিজভী বলেন, “কালকে সকালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শেষ হয়েছে। এরপরও বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। আমি পরশুদিন বলেছিলাম, গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ২৬৮২ জনের মতো। এখন এই সংখ্যা ২৭শর অধিক হয়ে গেছে।”
“আমরা মনে করি, সাঁড়াশি অভিযানের পরও এভাবে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যই হচ্ছে জঙ্গি দমন নয়, বিএনপি দমন। জঙ্গি দমনের নামে প্রহসন করছে সরকারের দায়িত্বশীল লোকেরা।”
সরকারের ‘সদিচ্ছার ঘাটতির’ কারণে জঙ্গি দমনে কোনো কার্য্কর উদ্যোগ নেই বলেও দাবি করেন রিজভী।
“শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গি দমনের নামে দেশবাসীকে কঙ্কালে পরিণত করতে চাচ্ছেন। তাদের (সরকার) উদ্দেশ্য শুভ নয় বলেই তাদের জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান এখন জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ জঙ্গিরা তাদের কর্মকাণ্ডের গতি হ্রাস করেছে বলে মনে হয় না।”
“আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি হচ্ছে গুম-খুন। এরা একমুখী দৃষ্টিকোণ, উগ্র মনোভাব ও বেপরোয়া প্রকাশ ভঙ্গি দিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। তাই জঙ্গিবাদ ও আওয়ামীবাদ যমজ দুই ভাই।”
সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে ছিলেণ যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।