আমেরিকা বনাম রাশিয়ার যুদ্ধ কখন শেষ হবে?

২৪শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাশিয়া দাবি করছে ইউক্রেনে রুশভাষী ও রুশ সমর্থক নাগরিকরা অত্যাচারিত হচ্ছে। অপরদিকে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেনের অত্যাচারের কারনে স্বাধীনতা চাচ্ছে। এই এলাকায় স্বাধীনতাকামীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সরকারী বাহিনীর সাথে লড়াই করে আসছে। এমতাবস্থায় রুশভাষী ইউক্রেনীয়দের রক্ষা করতে রাশিয়া ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান চালানোর যুক্তি দেখাচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে দনবাসের লোহনস্ক ও দোনস্ক এলাকাকে স্বাধীন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া।

২৪শে ফব্রুয়ারী থেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনারা ঢুকে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্য শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। ফলে উভয় পক্ষেরই ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে। আপাতঃভাবে এই যুদ্ধ রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্য হলেও আসলে এই যুদ্ধ চলছে মুলত রাশিয়া ও নেটোর মধ্য। নেটোর কিছু দেশ হয়ত এই যুদ্ধ চাচ্ছে না। কিন্তু এই অংশটা খুব একটা শক্তিশালী নয়। আর এই নেটোর নেতৃত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই ইউক্রেনে মুলত যুদ্ধ চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্য। এই যুদ্ধ ক্ষেত্রটা শুধু ইউক্রেনে।

যুক্তরাষ্ট্রকে যে কোন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বিশ্বে রাশিয়া বাদে আর দ্বিতীয় কোন দেশ নাই। এই দুটি দেশেরই রয়েছে বিশ্বের যে কোন দিক থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। একমাত্র রাশিয়াকে মোকাবেলা করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৭০ বছর আগে গঠিত হয় নেটো। শুরুতে সদস্য সংখ্যা ছিল ১২ এবং বর্তমানে ৩০। অল্প কয়েকটা দেশ বাদে ইউরোপের প্রায় সকল দেশই নেটোর সদস্য। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে যে সাম্রাজ্যবাদ চালাচ্ছে তা নেটোকে সাথে নিয়েই করছে। অর্থাৎ নেটো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের জোট। ইউরোপের দেশগুলিকে নিয়ে ইইউ নামে আরেকটি জোট রয়েছে। এটিও ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যপক প্রভাব খাটাচ্ছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। সর্বাধুনিক যত অস্ত্র আছে তা ইউক্রেনে সরবরাহ করছে। এমনকি পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাথে মিশে যুদ্ধ করছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। নানা ধরনের অবরোধ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেটো ও ইইউ রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাতে সকল দিক দিয়েই ব্যপক ক্ষতির মুখে পরেছে রাশিয়া। অপরদিকে এই দেশগুলিও নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভংগ করছে। নিজেরাও ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর ইউক্রেনের জানমালের ব্যপক ক্ষতি সাধন করছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব সারাবিশ্বেই পরেছে। বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সংকট তৈরী হয়েছে। নিত্যপন্যের দাম সারা বিশ্বেই বেড়ে গেছে। বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বে খাদ্যের অভাব দেখা দিবে বলে আভাস দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র দেশগুলি। এমনকি এখনই বিশ্বের দেশে দেশে এখনই অভাব/সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে এই যুদ্ধকে একটা টেস্ট বলে মনে করছে পশ্চিমারা। রাশিয়াকে তারা একটু বাজিয়ে দেখছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলনেস্কিকে এরা তাদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের এজেন্ট হিসাবে কাজ করাচ্ছে। পাটাপুতার ঘষাঘষিতে ইউক্রেনের এখন বারোটা বেজে গেছে। তবে রাশিয়ারও ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই যুদ্ধ পশ্চিমারা যেদিন চাইবে সেদিন হয়ত শেষ হবে।

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলিতে উপচেপড়া ভিড়

ঈদের ছুটিতে রাজধানী প্রায় ফাঁকা। এর মধ্যেও যারা ঢাকায় ঈদ করেছেন কিংবা ঢাকায় আছেন তাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। ঢাকার যারা স্থায়ী বাসিন্দা তাদের বেশীর ভাগই ঢাকাতেই ঈদ করেন। ঈদের ছুটিতে রাজধানী ও একে কেন্দ্র করে বিনোদন কেন্দ্রগুলিতে মূলত এরাই ভ্রমনে যান। রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দর্শনার্থীদের ব্যপক ভিড় দেখা যায়।

শিশুদের পাশাপাশি সব ধরনের নারী পুরুষই এই কেন্দ্রগুলিতে ভিড় করেছে। এর মধ্য রাজধানীর বিমান যাদুঘরে ঘুরে প্রচন্ড ভিড় লক্ষ করা যায়। রাজধানীর প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রেই একই রকমের ভিড়। এদের মধ্য অনেকে আবার ঢাকার সন্নিহিত জেলা সমূহ থেকে এসেছে। অনেকে স্বপরিবারে বিনোদন কেন্দ্রগুলিতে এসেছেন। কোন কোন পরিবারে ১২/১৫ জন সদস্যও দেখা গেছে।

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে গেছে রাজধানী

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে ফাঁকা হয়ে গেছে রাজধানী। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার অনেকটা যানজটমুক্ত পরিবেশে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কোন মহাসড়কেই যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।

উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজিপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ঈদের সময় বিগত বছরগুলিতে ব্যপক যানজটের কবলে পড়তে হত। এবার এই সড়কে তিনটি ফ্লাইওভার চালু হওয়ায় যানজট কেটে গেছে। ফলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ও স্বস্তিতে ঈদে বাড়ি ফিরতে পারছে মানুষ।এদিকে রাজপথ ও রাজধানীর মার্কেটগুলিও ফাঁকা হয়ে গেছে। রাজধানী ইতিমধ্য তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে ফেলেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও সড়কে ঘুরে দেখা যায় মার্কেটগুলিতে খুব একটা ক্রেতা নাই। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কও প্রায় ফাঁকা হয়ে আছে। টার্মিনালগুলিতে পর্যাপ্ত বাস থাকলেও যাত্রী সংখ্যা একেবারেই কম।ধারনা করা হচ্ছে ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১ কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে গেছে। রাজধানীর অলিগলি ফাঁকা হয়ে আছে।

শ্রীলংকা হঠাৎ করে বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করে দেয়

৪/৫ বছর আগের কথা। ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর আসে, শ্রীলংকা বাংলাদেশীদের জন্য সেদেশে অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। কোন রকম কারন দর্শনো ছাড়াই দেশটি বাংলাদেশীদের জন্য আগের এই সুবিদা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টা নিয়ে একটু বুঝার চেষ্টা করলাম। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্য তুলনামূলক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক নিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেল শুধু মাত্র শিক্ষা ছাড়া শ্রীলংকা অন্য কোন দিক থেকেই বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে নেই। তা হলে কেন বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করলো? আসলেই এদের দম্ভ ছাড়া আর কোন কারন খোঁজে পাওয়া যায়নি। এই ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশটি বুঝিয়ে দিল তাদের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বহীন।

একই সময়ে বাংলাদেশেও শ্রীলংকার নাগরিকদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা চালু ছিল। অন এরাইভেল ভিসার কারনে শ্রীলংকার নাগরিকরাই বেশী এর সুযোগ নিতো। সে সময়ে এমনকি এখনো প্রচুর সংখ্যক শ্রীলংকার নাগরিক বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে চাকুরিরত আছে। বাংলাদেশ থেকে খুব কম সংখ্যক মানুষ শ্রীলংকা ভ্রমনে যায়। শ্রীলংকার সাথে বাংলাদেশের বানিজ্যও খুব বেশী হয় না। মুলত শ্রীলংকানরাই অন এরাইভেল ভিসার সুযোগে বেশী লাভবান হত।

বাংলাদেশ অন এরাইভেল ভিসা নিয়ে শ্রীলংকার সাথে আর কোন আলোচনা না করেই একই সুবিদা বন্ধ করে দিল ২/৩ দিনের মধ্যেই। ফলে বাংলাদেশে কর্মরত শ্রীলংকানরা বিপদে পড়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত হল শ্রীলংকা। অপরদিকে বাংলাদেশ তাতে লাভবানই হল। সেই দাম্ভিক শ্রীলংকা কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে ২১শ কোটি টাকা ঋন নিয়েছে। তা পরিশোধ না করেই আবারও ২৫শ কোটি টাকা ঋন চাইলো। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পরমর্শে এইবার আর শ্রীলংকাকে টাকা দেয়নি বাংলাদেশ। সেই দাম্ভিক শ্রীলংকায় আজ খাদ্যের অভাব, জ্বালানির অভাব, কাগজের অভাব, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত। সেই দেশটি সকল দিক থেকে আজ চরম বিপর্যয়ে।

শ্রীলংকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুরাবস্থা দেখে বাংলাদেশে আশার আলো দেখছে পাকি পন্থিরা

সাম্প্রতিক সময়ে সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলংকা ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়েছে। দেশটিতে জ্বালানী সংকট, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ সংকটসহ আরো অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কাগজের অভাবে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম ও পত্রিকা ছাপা বন্ধ রয়েছে। তেলের অভাবে সেদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমনকি ক্ষুদ রাজধানী কলম্বোতে ১০ ঘন্টা লোড সেডিং চলছে। টাকার অভাবে দেশটি জ্বালানি তেলও ক্রয় করতে পারছে না। এমন কি দেশটি বাংলাদেশের কাছে আড়াই হাজার কোটি টাকা লোন চেয়েছে এই অবস্থা মোকাবেলার জন্য। এক বছর আগেও শ্রীলংকা বাংলাদেশে কাছ থেকে ২১শ কোটি টাকা লোন নিয়েছে। সেই লোনের টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারেনি দেশটি। দেশটি বিপুল পরিমান বৈদেশিক ঋনে ভারাক্রান্ত। এই সমস্ত সুযোগে দেশটিতে ব্যপক হারে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার আবাসিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে। এর মধ্য শ্রীংলকার বিরোধী দল আঁটসাঁট বেধে আন্দোলনে নেমে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে মন্ত্রী সভার সকল সদস্য পদত্যগ করেছে। সংখ্যা গরিষ্টতা হারিয়েছে সরকারী দল। এখন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার পদত্যগ চাচ্ছে বিরধী দল। দেশটিতে লুটতরাজও চলছে অন্যান্য বিশৃঙ্খলার সাথে। শ্রীলংকার সরকার পরিবর্তন এখন সময়ের ব্যপার মাত্র।

শ্রীলংকার প্রধান অর্থ আয়ের খাত পর্যটন শিল্প। করোনার দুই বছরে এই শিল্প থেকে আয় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যার ফলে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে চাপে পরেছে। অপরদিকে করোনাকালেও বাংলাদেশ অর্থনীতির সকল চাকা সচল রেখেছে। মহামারীকালে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বের বড় বড় দেশ ও সংস্থা প্রশংসা করেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভও বিপুল পরিমানে রয়েছে। শ্রীলংকার মূদ্রামান বাংলাদেশের ১টাকা সমান শ্রীলংকার ৩.৪২ রুপি। বর্তমানে অর্থনীতির সকল সূচকে দেশটি বাংলাদেশ থেকে অনেক অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২৮০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩১তম বড় অর্থনৈতিক দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তথাপিও এদেশের কিছু সরকার বিরোধী প্রচার মিডিয়া, বিরোধী দল ও ব্যক্তি শ্রীলংকার অবস্থার সাথে বাংলাদেশের অবস্থা মিলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। আশা করছেন বাংলাদেশেও শ্রীলংকার মত অবস্থা সৃষ্টি হবে, আন্দোলন হবে সরকারের বিরুদ্ধে। যার ফলশ্রুতিতে সরকারের পতন হবে। আর নিজেরা ক্ষমতায় আসবেন। যারা এমন আশা করছেন তারা সকলেই পাকিস্তান পন্থী কিংবা আওয়ামীলীগের বিরোধী।

নিত্য পন্যের বাজার নিয়ে অতিকথন

বেশ কয়েক মাস ধরেই নিত্য পন্যের মূল্য নিয়ে চলছে নানা ধরনের নেতি বাচক কথাবার্তা। বাজার মূল্যের সাথে মানুষের মুখে মুখে মূল্য শুনার অনেক তফাৎ রয়েছে। সাধারনত দেখা যায় যে জিনিষের মূল্য বাড়তে থাকে সেই জিনিষের মূল্য নিয়ে মুখে মুখে নানা গুজব চলতে থাকে। যে জিনিষের বাজার মূল্য ৫০টাকা অনেক সময় সেই জিনিষের দাম মানুষের মুখে মুখে শুনা যায় ৬০/৭০টাকা। তবে এভাবেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে ও জিনিষের দাম বাড়তে থাকে। অনেক সময় আমরা জিনিষের দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানদার প্রকৃত বিক্রয় মূল্য হতে কিছুটা বাড়িয়ে বলে। আর আমরা সেই দামই মুখে মুখে বলতে থাকি। যেমন দোকানদার তরমুজের কেজির দাম চাইলো ৬০ টাকা। তা শুনে আমরা প্রচার করি তরমুজের কেজি ৬০ টাকা। কিন্তু আমরা যদি একটু দরকষাকষি করি তাহলে দেখা যায় তরমুজের কেজি আসলে ৫০ টাকা। তবে অনেক সময় বাজার মূল্য নিয়েও রাজনীতি ও রাজনৈতিক কথাবার্তা চলে।

রাজধানীর মহাখালী কাঁচা বাজারে সরেজমিনে বিভিন্ন নিত্য পন্যের নিন্ম লিখিত মূল্য দেখা যায়-

১। পিয়াজ (দেশী)-৩৫ টাকা কেজি

২। রসুন(ইন্ডিয়ান)-১০০ টাকা কেজি

৩। আলো ১৮-২০ টাকা কেজি

৪। আদা-১০০ টাকা কেজি

৫। মশুর ডাল(দেশী) ১২০-১৩০ টাকা কেজি

৬। মশুর ডাল(মোটা) ১০০ টাকা কেজি

৭। ছোলা ডাল-৮৫ টাকা কেজি

৮। ছোলা-৭৫ টাকা কেজি

৯। করলা-৬০ টাকা কেজি

১০। ওচতা-৭০-৮০ টাকা কেজি

১১। ডেড়স-৬০ টাকা

১২। জালি কুমড়া-৪০-৫০ টাকা প্রতি পিছ

১৩। ছিচিংগা-৫০ টাকা কেজি

১৪। শশা-৭০-৮০ টাকা কেজি

১৫। লম্বা বেগুন-৭০-৮০ টাকা কেজি

১৬। কাঁচা আম-১০০-১৫০ টাকা কেজি

১৭। তরমুজ-৫০ টাকা কেজি

১৮। গ্রীন আপেল-২২০ টাকা কেজি

১৯। সবুজ আঙ্গুর-২০০-২২০ টাকা কেজি

২০। চাপা কলা ২০ টাকা হালি

নরসিংদীর রায়পুরার আমিরগঞ্জে সিএনসি-পিকআপ সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

শুক্রবার সকাল ৮টায় রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ ও হাসনাবাদ বাজারের মধ্যবর্তী নরসিংদী-রায়পুরা সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজির ড্রাইবারসহ ৪ আরোহী নিহত হয়। এই ঘটনায় ১ জন আহত হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসনাবাদ বাজার ফাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হতাহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রেরন করে।

(ফটো-গুগল ম্যাপ থেকে নেওয়া)

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায় রায়পুরা থানার চরসুবুদ্দী হতে যাত্রী নিয়ে সিএনজিটি নরসিংদী যাচ্ছিল। নরসিংদী থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান উপরোক্ত স্থানে সিএনজিটিকে মুখামুখি ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চার জন নিহত হয়। নিহতরা সকলেই সিএনজির আরোহী। তারা হলেন- রায়পুরা উপজেলার বাহেরচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুর রউফ (৬০), আবদুল্লাহপুর গ্রামের ছিদ্দিক মিয়ার ছেলে কাইয়ুম মিয়া (১৮) ও ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে আইনউদ্দীন (৩৫)। নিহত একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় আহত রিমা আক্তারকে (২০) নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসনাবাদ বাজার ফাড়ি পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজি ও পিকআপ ভ্যানটি উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। এই ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, জোয়ারি, ফন্দিবাজ, ফিকিরবাজরা মিশে গেছে যুবলীগেঃ

২০০৬ সালের শেষদিকে আওয়ামীলীগ ও তার সমমনা রাজনৈতিক দলগুলির নানা দাবি ও নানামুখী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-জামাত জোট সরকারের তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। ২০০৭ সালে সরকার নিয়ে চলে নানা নাটকীয়তা। ফলে এই সময়ে দুইবার তত্বাবধায়ক সরকারের আগমন ঘটে। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে জেলেও যেতে হয়। ২০০৭ সালেই জনমত জরিপে আওয়ামীলীগের জয়ের নিশ্চিত আভাস পাওয়া যায়। সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছিল ততই আওয়ামীলীগের জয়ের সম্ভাবনা র‍্যাপিডলি বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে জনগন নিশ্চিত হয়ে যায় যে আওয়ামীলীগই আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত জয় লাভ করবে। আর ঠিক এই সময় থেকেই আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনে নানা ধরন ও শ্রেনীর সুবিদাবাদী গোষ্টী অনুপ্রবেশ করতে থাকে। অবশ্য যদি বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা থাকতো তা হলে এই গোষ্টী হয়ত বিএনপিতেই অনুপ্রবেশ করতো। এরা হল এই দেশের ধান্ধাবাজ, ফিকিরবাজ, ফন্দিবাজ, চাঁদাবাজ, জোয়ারী, বালু ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী, বিশেষ বাহিনীর দালাল, দখলবাজ ইত্যাদি। নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য এদের দরকার সরকারি দলের ছত্রছায়া ও নেতা বনে যাওয়া।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে উপরোক্ত সুবিদাবাদীরা আওয়ামীলীগে ব্যপকভাবে অনুপ্রবেশ করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিশাল সংখ্যা গরিষ্টতা নিয়ে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। আর এই ধান্ধাবাজরা ক্রমে আওয়ামীলীগে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। এরা নানান সময়ে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নানা ধরনের উপহার কিংবা আর্থিক সহযোগীতা করে নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের ভাগ দিতে থাকে বিশেষ শ্রেনীর নেতাদের। এদের অবৈধ ব্যবসার (মাদক ব্যবসা, জোয়া, অবৈধ বালু ব্যবসা, অটো স্ট্যান্ডের চাঁদা, দালালী, সাধারন মানুষকে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা, জমি দখল ইত্যাদি) উপার্জিত টাকা মাসে মাসে বিশেষ বিশেষ নেতা ও স্থানে বন্টন করে এরা নেতাদের ও বিশেষ স্থানের নজরে আসে। এক পর্যায়ে এই সমস্ত ধান্ধাবাজরা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংঠনের সভাপতি কিংবা সেক্রেটারী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে যায়। আর এখানে সংগঠনের ত্যগী নেতারা হয় বঞ্চিত। এভাবে টাকার বিনিময়ে পদ বিতরন করে অযোগ্য ও সুবিদাবাদীদের দলে স্থান দেওয়া নিজের পায়ে কুড়াল দেওয়ার সামিল। অবৈধ ব্যবসার টাকার গরম দেখিয়ে এরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকা এলাকায়। এদের মাধ্যমে নানাভাবে সাধারন মানুষ হচ্ছে নাজেহাল।

এই সমস্ত নব্য আওয়ামীলীগারদের কাছে দল ও ত্যগী নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে আছে। এদের অপকর্মের কারনে আওয়ামীলীগ ও সরকারের বদনাম হচ্ছে। বিগত ১২/১৩ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার সারাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করলেও সবকিছু ম্লান হয়ে যাচ্ছে এই সমস্ত নব্য ও সুবিদাবাদীদের অপকর্মের কারনে। এরাই দলে উপদল সৃষ্টি করছে। দলের ভিতরে পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করছে। এদের কারনেই স্থানে স্থানে আজ আওয়ামীলীগ বিব্রত। নিজের স্বার্থ হাসিলের ব্যঘাত ঘটলেই নেতা পরিবর্তন করে। ভাগাভাগী নিয়ে বাধাগ্রস্ত হলেই নেতার বিরুদ্ধে চলে যায়। অন্য নেতার আশ্রয় নেয়। এভাবেই সারাদেশে এই শ্রেনী দলীয় কুন্দল সৃষ্টি করে চলেছে।

এই শ্রেনী রাজনীতি বলতে বুঝে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, জোয়ার আসর বসিয়ে টাকা কামানো, অটো স্ট্যান্ডের থেকে চাঁদা আদায়, মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, ওয়ারিশ নিয়ে জামেলা পাকানো, জমি বেচা কেনায় বাধা সৃষ্টি করে উভয় পক্ষ থেকে টাকা কামানো, নারীঘটিত ব্যপার নিয়ে জামেলা পাকিয়ে টাকা কামানো, সালিশে টাকা খেয়ে এক পক্ষকে জিতিয়ে দেওয়াসহ আরও নানা ধরনের অপকর্ম। বিশেষ বাহিনীর সাথে সম্পর্ক রেখে সাধারন মানুষকে ধরিয়ে দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আবার ছাড়িয়ে আনাও এদের অবৈধ আয়ের অন্যতম উৎস। আর এই অবৈধ টাকার দাপটে এরা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। এলাকায় এরা দাপিয়ে বেড়াই দামি মটর সাইকেল কিংবা প্রাইভেট কার দিয়ে। এদেরকে সবসময়ই ঘিরে থাকে এদের সাঙ্গ পাঙ্গরা। অনেকটা সিনেমার ভিলেনের মত বাস্তবে এদের চাল চলন। এহেন গোষ্টী সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ‌দলও পরিবর্তন করে আবার নতুন সরকারি দলের হয়ে যায়। মুলতঃ এরাই বর্তমান সরকারের ইমেজ নষ্টের জন্য দায়ী।

এই কুলাঙ্গার অনুপ্রবেশকারীরা অধিক মাত্রায় ঢুকে পড়েছে যুবলীগে। দেশের ৯০ শতাংশ অপকর্ম এই যুবলীগ নামধারীরাই করে থাকে। ফলে যুবলীগের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে যদি এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে যুবলীগকেই গিলে ফেলবে এই দানবেরা। এদেরকে যারা নেতা বানায় তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরি।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুবলীগ নামধারী এই কুলাঙ্গাররা মূর্খ, অনেকে নিজের নাম লেখা দূরে থাক কখনো স্কুলের বারান্দায়ও যায়নি। এদের অনেকে আবার রাস্তায় বড় হয়েছে। অথচ শুধু মাত্র অবৈধ ব্যবসার আয়ের ভাগাভাগির মাধ্যমে কিছু লোভী নেতাদের ম্যানেজ করে এরা যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের বড় বড় পদ দখল করে আছে। রাজনীতিকে এরা টাকা কামানোর মেশিন মনে করে। এরা যুবসমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে। নিজ দল ভারি করার জন্য নিরীহদের দলে নিয়ে অবৈধ কাজে লাগাচ্ছে। এদের দ্বারা সমাজ হচ্ছে কলুষিত। এরা দেশের শত্রু,জাতির শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করে দল থেকে বের দিলে যুবলীগ আবার হারানো গৌরব ও ঐতিয্য ফিরে পেতে পারে। এদের বিষদাঁত এখনই ভেঙ্গে দিতে হবে। এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এখন আওয়ামীলীগের দাবি, সাধারন মানুষের দাবি, সময়ের দাবি। বিঃদ্রঃ একই সময়ে যদি বিএনপি কিংবা অন্য কোন দল ক্ষমতায় থাকতো তাহলে এই কুলাঙ্গাররা নানা কৌশলে এই দলগুলিতে অনুপ্রবেশ করে একই কাজ করতো।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিডিয়া যুদ্ধ করছে পশ্চিমারা

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে সৃষ্ট পূর্ব ইউরোপের একটি স্বাধীন দেশ ইউক্রেন। পূর্ব থেকেই জাতিগতভাবে ইউক্রেনের ওপর প্রভাব রয়েছে রাশিয়ার। প্রযুক্তির দিক থেকে ইউক্রেন অনেক শক্তিশালী। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অনেক উন্নয়ন ও উত্থান এই ইউক্রেনকে কেন্দ্র করেই হয়েছে। এখানে রয়েছে চেরনোভিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইউক্রেনের ৫০% মানুষ রুশ ভাষায় কথা বলে। রাশিয়ার প্রতিও রয়েছে ইউক্রেনের মানুষের টান। দুই দেশের মধ্য সামাজিক সম্পর্কও ভাল রয়েছে।

দুই দশকের বেশী সময় ধরে রাশিয়ার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ভ্লাদিমির পুটিন। পশ্চিমারা রাশিয়াকে বাঙ্গতে ও পুটিনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা করে আসছেন। তারা নানা তুচ্ছ অজুহাতে পুটিন তথা রাশিয়াকে বিব্রত করার অবিরাম চেষ্টা করে আসছেন। পূর্ব ইউরোপের সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিকে একে একে নেটোতে যোগদান করিয়েছেন নানা কুট কৌশলে। কিন্তু ভেলারুশ ও ইউক্রেনকে এখনো নেটোতে যোগদান করাতে পারেননি। সম্প্রতি ভলোডিমীর জেলোনেস্কীর সরকার পশ্চিমাদের ফাঁদে পা দিয়ে নেটোতে যোগদানে রাজি হয়েছে। আর এইটা নিয়েই রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের জেলোনেস্কীর সরকারের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। নানাভাবে ইউক্রেনকে কনভিন্স করতে ব্যর্থ হয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের জেলোনেস্কী সরকারকে উৎখাতের ছক আটে।

ইউক্রেন ভূগৌলিক ও রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমাদের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার পাশের এই দেশটিকে নেটোর নিয়ন্ত্রনে নিয়ে রাশিয়াকে আরও চাপে ফেলতে চাইছে পশ্চিমারা। রাশিয়ার শক্তি কমাতে পশ্চিমারা অনেক আগে থেকেই নানা কুটকৌশল অবলম্বন করে আসছে। ইউক্রেনে যাতে নেটো তথা পশ্চিমারা তথা আমেরিকা ঘাটি করতে না পারে সেই জন্যই জেলোনেস্কী সরকারকে উৎখাত করতে যুদ্ধে নেমেছে রাশিয়া। দীর্ঘ দিন ধরে রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকা পুটিনকে কোনভাবেই দমাতে পারছে না পশ্চিমারা। পশ্চিমারা নানা কুটচালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরী করেছে। এখন এই পশ্চিমারাই আবার ইউক্রেনের জন্য মায়া কান্না করছে। এই সবই হচ্ছে রাজনীতির অংশ।

মিডিয়ার মাধ্যমে রাশিয়াকে বহুমাত্রিক দিক দিয়ে চাপে রেখেছে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা। বিবিসি, সিএনএন ও আরও অনেক শক্তিশালী মিডিয়ার মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অবরোধ দিয়ে রাশিয়াকে সারা দুনিয়া থেকে আলাদা করে ফেলেছে তথাকথিত পশ্চিমারা। রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংশ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অপরদিকে ইউক্রেনের জন্য মায়াকান্না করে যাচ্ছে।

স্বাধীন দেশ ইরাকে হামলা চালিয়ে সাদ্দামকে উৎখাত করতে কত মানুষের প্রান কেড়ে নিয়েছে আমেরিকা। লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে হত্যা করেছে আমেরিকা। আফগানিস্তানে হাজার হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমেরিকা। সিরিয়ায় রক্তের হুলি খেলা খেলছে আমেরিকা ও তার মিত্ররা। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তানসহ আরো অনেক দেশ আজ অশান্ত শুধু পশ্চিমাদের কারনে। কোথায় ছিল তখন মায়া কান্না, কোথায় ছিল তখন মানবতা। অথচ আজ তারা ও তাদের মিডিয়া মায়াকান্না করছে ইউক্রেনের জন্য। এর সবই রাজনীতির অংশ মাত্র।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ

রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের চার নির্বাচন কমিশনার হলেন জেলা ও দায়রা জজ (অব.) বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আহসান হাবিব খান, সিনিয়র সচিব (অব.)  মো. আলমগীর ও সিনিয়র সচিব (অব.) আনিসুর রহমান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল আব্দুল হামিদের কাছে ১০ সদস্যের নামের তালিকা জমা দেয়। এই ১০ জনের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতাবলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন।

নতুন এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে শপথ নিবেন। প্রধান বিচারপতি নতুন এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার নির্বাচন কমিশনারকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই দেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। উল্লেখ্য ১৪ই ফেব্রুয়ারী সাবেক নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়।

হাবিবুল আউয়াল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে ২০১৭ সালে অবসরে যান। বিসিএসের ১৯৮১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা তার আগে আইন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এবং সংসদ সচিবালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।

জমে উঠেছে অমর একুশে বই মেলা, দর্শনার্থীর ভির

করোনা অতিমারীর কারনে এইবার অমর একুশে বই মেলা-২০২২ শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। অবশেষে করোনা সংক্রমনের হার কমে আসায় ২ সপ্তাহ পিছিয়ে ১৫ই ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয় এই মেলা। যা প্রতি বছর ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়ে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ই ফেব্রুয়ারী বিকাল ৩টায় ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে এই মেলার শুভ উদ্বোদন ঘোষনা করেন। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে সাত লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে এই মেলার পরিসর সাজানো হয়েছে।

এইবারের মেলায় স্টল ও প্যাভেলিয়ন মিলিয়ে ৭৭৬টি ইউনিট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। আর এই স্টল ও প্যাভেলিয়ন সমুহ বরাদ্ধ নেয় মোট ৫৩৪টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্য মেলার মুল অংশ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে রয়েছে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের ১৪২টি স্টল ও সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গনে রয়েছে ৪৩২টি প্রতিষ্ঠানের ৬৩৪ স্টল ও প্যাভেলিয়ন। মেলায় বেশ কয়েকটি খাবারের দোকানও রয়েছে। তবে অন্য বারের তুলনায় এবার খাবারের মান ভাল ও দামেও কম আছে।

(মেলায় এমদাদুল হক মিলনের সাক্ষাতকার নিচ্ছে নিউজ ২৪)

মেলায় আশাতীত দর্শক সমাগম হচ্ছে। মালিকদের সাথে আলাপ করে জানা যায় এইবার বিক্রিও ভাল হচ্ছে। প্রতিদিনই মেলায় নতুন নতুন বই আসছে। বই প্রেমীদের সমাগমে মেলা এখন মুখরিত। বাঙ্গালী সংস্কৃতির যে সমস্ত অনুষ্ঠান মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে তার মধ্য অমর একুশে বই মেলা অন্যতম স্থান দখল করে আছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বই প্রেমীরা ও লেখক কবিরা এই মেলায় আসেন দেখতে ও বই কিনতে। ফলে এই মেলা হয়ে উঠে লেখক, সাহিত্যক ও কবিদের মিলন মেলা। এই মেলায় নতুন নতুন কবি, সাহিত্যিক ও লেখকরা নতুন নতুন বই নিয়ে আসছেন।

প্রতিদিন মেলা দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে। ছুটির দিনে মেলা শুরু হয় সকাল ১১টা থেকে। মেলা ২৮শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত করা হতে পারে বলে দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

২২শে ফেব্রুয়ারী থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে-শিক্ষামন্ত্রী

মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ২২শে ফেব্রুয়ারী থেকে শ্রেনীকক্ষে সরাসরি পাঠদানের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আজ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী দিপু মনি এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২২শে ফেব্রুয়ারী থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। শুধু মাত্র যে সকল ছাত্র-ছাত্রী কোভিড টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে শুধু তারাই ক্লাসে অংশ পারবে।

ফাইল ফটো

বৃহস্পতিবার রাতে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটির সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকের বিষয়ে আরও কিছু দিন কোভিড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে প্রাথমিকে অনলাইনে যথারীতি ক্লাশ চলবে।

বাপ্পী লাহিড়ীর জীবন বৃতান্ত

বাপ্পী লাহিড়ী পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে সমৃদ্ধ এক পরিবারে ২৭ নভেম্বর ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আলোকেশ বাপ্পী লাহিড়ী। তার বাবা অপরেশ লাহিড়ী ছিলেন বাংলা সঙ্গীতের একজন জনপ্রিয় গায়ক। মা বাঁশরী লাহিড়ীও ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও গায়িকা যিনি শাস্ত্রীয় ঘরাণার সঙ্গীত এবং শ্যামা সঙ্গীতে বিশেষ পারঙ্গমতা দেখিয়েছিলেন।

বাপ্পী লাহিড়ী হিন্দী চলচ্চিত্র শিল্প-সহ বাংলা গানের গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক হিসেবে দুই বাংলাসহ ভারতীয় উপমহাদেশে পরিচিত। সঙ্গীত জগতে তিনি বাপ্পী-দা নামেও সমধিক পরিচিত। তিনি নিজের লিখিত অনেকগুলো গান স্বকণ্ঠে ধারণ করেছেন। ১৯৮০’র দশকের চলচ্চিত্র বিশেষ করে ডিস্কো ড্যান্সার, নমক হালাল এবং শরাবী’র ন্যায় বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করে তিনি সমাদৃত হন।

বাপ্পী লাহিড়ীর সংসারে তার স্ত্রী – চিত্রাণী, কন্যা – রিমা এবং পুত্র – বাপ্পা রয়েছে। তিনি অলঙ্কারের ভক্ত হিসেবে পরিচিতি। সাধারণতঃ তাকে পোশাকের সাথে স্বর্ণের অলঙ্কার এবং কালো চশমা পরিধান করতে দেখা যায়। বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কিশোর কুমার ছিলেন তার মামা।

পিতা-মাতার সান্নিধ্যে থেকেই তিনি সংগীতকলায় হাতে খড়ি ও প্রশিক্ষণ নেন। বাপ্পী তিন বছর বয়সেই তবলা বাজাতে শুরু করেন। তিনি ১৯ বছর বয়সে দাদু (১৯৭২) নামক বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ করেন। বাপ্পী লাহিড়ী ১৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে চলে যান। ১৯৭৩ সালে হিন্দী ভাষায় নির্মিত নানহা শিকারী ছবিতে তিনি প্রথম সংগীত রচনা করেন। এরপর তাহির হুসেনের জখমী (১৯৭৫) চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এতে তিনি সংগীত রচনাসহ গায়কের দ্বৈত ভূমিকায় অংশ নেন। অসম্ভব কিছু নয় শিরোনামে মোহাম্মদ রফি এবং কিশোর কুমারের সঙ্গেও দ্বৈত সংগীতে অংশ নেন। তার পরের চলচ্চিত্র হিসেবে চালতে চালতে ছবিটির গানও দর্শক-শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি রবিকান্ত নাগাইচের সুরক্ষা ছবিতে গান গেয়ে সংগীতকার হিসেবে জনপ্রিয়তা পান।

মিঠুন চক্রবর্তী’র ডিস্কো নাচের চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮০’র দশকে মিঠুন চক্রবর্তী এবং বাপ্পী লাহিড়ী একসাথে বেশ কিছু ভারতীয় ডিস্কো চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এছাড়াও, তিনি দক্ষিণ ভারত থেকে পরিচালিত অনেক হিন্দী চলচ্চিত্রের গানে অংশ নিয়েছেন। সমগ্র ভারতবর্ষে তিনি নিজেকে ‘ডিস্কো কিং’ নামে পরিচিতি লাভে সমর্থ হন। ১৫ই ফেরুয়ারী দিবাগত রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

এখন থেকে ৪০ বছর বয়স হলেই বুস্টার ডোজ টিকা পাবেন

বুস্টার ডোজ করোনা টিকা পাওয়ার বয়স কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে ৪০ বছর হলেই বুস্টার ডোজ টিকা পাবেন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন। তিনি আজ মহাখালী বিসিপিএস অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। এর আগে বুস্টার ডোজ পাওয়ার সর্বনিন্ম বয়স ছিল ৫০ বছর। তারও আগে এই সীমা ছিল ৬০ বছর। জাহিদ মালেক জানান, বুস্টার ডোজ নেওয়ার আশানুরুপ সারা পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের হাতে ৯ কোটি টিকা রয়েছে। তাই বুস্টার ডোজ নেওয়ার বয়স কমিয়ে ৪০ করা হল।

(ফাইল ফটো)

উল্লেখ্য ইতিমধ্য যারা টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময় থেকে ৬ মাস পার হয়েছে তারাই বুস্টার ডোজ পাচ্ছেন। বুস্টার ডোজ পাওয়ার জন্য নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নাই। আগের নিবন্ধনেই মোবাইলে ম্যাসেজ আসবে।

একদিনে করোনায় ২০ জনের প্রাণহানি, সনাক্তের হার ৩৩.৩৭ শতাংশ

গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে আরও ১৫৪৪০ জন। একই সময়ে মৃত্যুবরন করেছে আরও ২০ জন। এই নিয়ে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে যথাক্রমে ১৭৬২৭৭১ জন ও ২৮৩০৮ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সনাক্তের হার দাড়িয়েছে ৩৩.৩৭ শতাংশে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ফাইল ফটো

দেশে এ পর্যন্ত মোট ১২৩৫৬৯৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ্য হয়েছে ১৫৬২৩৬৯ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ১৭২০৯৪ জন। প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্য টেস্ট হয়েছে ১০৫৩৯ জনের। প্রতি ১০ লক্ষে মৃত্যু হয়েছে ১৬৯ জনের। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী।

মারা যাওয়াদের মধ্য ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১ জন,  ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন ও ১০ বছরের কম বয়সের ১ জন রয়েছে। বিভাগ ওয়ারি বিশ্লেষনে দেখা যায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের  ৯ জন, রাজশাহী বিভাগের ২ জন,বরিশাল বিভাগের ১ জন সিলেট বিভাগের ২ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন রয়েছেন।

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে মিজোরামে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

রিখটার স্কেলে ভূকম্পের তীব্রতা ছিল ৫.৪। ভারতের সময় বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে আর বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশের চট্রগ্রাম অঞ্চলেও এই কম্পন অনুভূত হয়।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিজোরামের চম্পাই থেকে ৫৮ কিলোমাটির দক্ষিণ-পূর্বে। যার গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার। ভারতের কোচবিহার, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট, মালদাসহ পুরো উত্তরাঞ্চলেই এই কম্পন অনুভূত হয় বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

১ দিনের পরীক্ষায় করোনা সনাক্ত ১০৮৮৮ জন

দেশে করোনায় আক্রান্তের হার খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে আরও ১০৮৮৮ জন। একই সময়ে মৃত্যুবরন করেছে আরও ৪ জন। এই নিয়ে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে যথাক্রমে ১৬৫৩১৮২ জন ও ২৮১৮০ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সনাক্তের হার দাড়িয়েছে ২৬.৩৭ শতাংশে। মোট পরীক্ষা বিবেচনায় সনাক্তের হার ১৩.৭৭ শতাংশ। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ফাইল ফটো

দেশে করোনায় মৃত্যু হার ১.৭ শতাংশ ও সুস্থ্যতার হার ৯৪.০৫ শতাংশ।এ পর্যন্ত মোট ১২০০৭৫৮১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ্য হয়েছে ১৫৫৪৮৪৫ জন।

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার

সোমবার এই ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মন্ত্রী-পরিষদ বিভাগ। এই বিধিনিষেধ আগামী ১৩ই জানুয়ারী থেকে কার্যকর হবে। মন্ত্রী-পরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি নিন্মে দেওয়া হল।

প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। করোনায় আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ায় এর লাগাম টেনে ধরতে এই বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সরকার।

প্রবল বর্ষণে কুয়েতে জনজীবন বিপর্যস্ত, সাধারন ছুটি ঘোষনা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে ভারি বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অনেক হাইওয়ে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সোমবার সারাদেশে সাধারন ছুটি চলছে। রবিবার কুয়েতের কোন কোন এলাকায় ৬০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে যা বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের অর্ধেকেরও বেশী।

বৃষ্টির পানিতে দেশটির অনেক এলাকায় জলমগ্ন হয়ে লেকের আকার ধারন করেছে। রাস্তায় কয়েক হাজার গাড়ি পানিতে ডুবে আছে। বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র-কুয়েত টাইমস।

মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৯৩.৫৮

মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের প্রধানগণ আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল হস্তান্তর করেন। ৯টি সাধারন শিক্ষাবোর্ডে গড় পাসের হার ৯৩.৫৮। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৩.২২ এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৮৮.৪৯।

ফাইল ফটো

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৩.১৫ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৯৫৩০ জন। সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৩.৭৮ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৮৩৪ জন। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৪.৭১ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৭৭০৯ জন। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৬.২৭ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৪৬২৬ জন। ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৭.৫২ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১০০৯২ জন। যশোর শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৩.০৯ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৬৪৬১ জন। চট্রগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯১.১২ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২৭৯১ জন। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯০.১৯ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১০২১৯ জন। দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৪.৮০ ও মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৫৫৭১ জন।

1 2 3 88