চীনে স্বর্ণখনিতে আটকে পড়া ১১ জনকে উদ্ধার

গত ১০ই জানুয়ারী চীনের শানডং প্রদেশের হুসান স্বর্ণখনিতে এক বিস্ফোরণের পর খনির প্রবেশ মুখটি ধসে পড়েছিল। এর ফলে খনির ২০০০ ফুট নিচে আটকা পড়ে ২২ জন শ্রমিক। এদের মধ্য ১ জন মৃত্যুবরন করেছে খনির ভিতরেই। ১৪ দিন আটকা থাকার পর ১১ জনকে রোববার উদ্ধার করার খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। তবে বাকি ১০ জনের কি অবস্থা তা এখনো জানা যায়নি।

ঘটনার ১ সপ্তাহ পর্যন্ত আটকে পড়া শ্রমিকদের সাথে কোন রকম যোগাযগ করা যায়নি। গত ১৭ই জানুয়ারী খনির গভীরে ওপর থেকে একটি রশি পাঠানো হলে তাতে টান অনুভব করে উদ্ধার কর্মীরা। আর রশিতে বেধে একটি চিরকোট পাঠায় শ্রমিকরা। তখনই ১১ শ্রমিকের প্রানে বেঁচে থাকার কথা জানা যায়। পরে ড্রিল মেশিন(বড় ধরনের) দিয়ে ছিদ্র করে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে খাবার ও ঔষধ পাঠানো হয়।

আজ যখন ১১ জনকে উদ্ধার করে ওপরে উঠানো হয় তখন তারা বেশ ক্লান্তছিল। এবং এদেরকে অ্যম্বোলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি ১০ শ্রমিকের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানার চেষতা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। চীনে কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন খনিতে বিস্ফোরন ঘটে এবং তা খবরে শিরোনাম হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী একটি বিমান নিখোঁজ

শ্রীওইজায়া এয়ারের এই বিমানটি উড্ডয়নের ৪ মিনিটের মধ্যই রাডার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। তার আগে বিমানটি ১ মিনিটের কম সময়ে ১০ হাজার ফুট উপরে উঠে। শনিবার বিমানটি ৫০ জন যাত্রী নিয়ে রাজধানী জাকার্তা থেকে ওয়েস্ট কালিমান্টিন প্রদেশের পন্টিয়ানাক যাচ্চিল। রিলায়েবল ফ্লাইট ট্রেকিং সংস্থা ফ্লাইট ২৪ জানিয়েছে এসজে-১৮২ বিমানটি ১০০০০ ফুট ওপরে উঠার পর নিখোঁজ হয়।

বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমানটি ২৭ বছরের পুরাতন একটি বিমান। ইন্দোনেশিয়ান বিমান সংস্থা শ্রীওইজায়া এয়া্র বিমানটি নিখোঁজের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে।

ভারতে হাসপাতালে আগুনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে। ভারতের স্থানীয় সময় রাত ২টার সময় মহারাষ্ট্রের ভান্ডারা জেলার একটি হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন লাগে । হাসপাতালটির নবজাতক ইউনিটে এই আগুন লাগলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১০ শিশু মারা যায়। এই সময় নবজাতক ইউনিটে ১৭ জন শিশু ছিল। ৭ জনকে হাসপাতালের কর্মীরা উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। শিশুদের বয়স ১ দিন থেকে ৩ মাসের মধ্য ছিল।

বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারনা করছে হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক জানিয়েছেন।সূত্রঃ আনন্দ বাজার পত্রিকা।

যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে প্রায় ৪ হাজার জনের মৃত্যু

দেশটিতে একদিনেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩৯২৭ জন। যা যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের মহামারীর শুরু থেকে একদিনে আক্রান্তের রেকর্ড। অপরদিকে দেশটিতে বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৮৯৬৭১ জন। জনহপকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষনা বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৯৭১৫৮৯৯ জন। অপরদিকে মোট মৃত্যুবরন করেছে ৩৪১৮৪৫ জন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থোনি ফাউসি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বড়দিনের ছুটিতে লোকদের সমাবেশের পরে শীতের মাসগুলোতে মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এখনো আসেনি। দেশটিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ লক্ষ মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটি মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের বিস্ফোরণ

বড়দিনের সকালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসী অঙ্গরাজ্যের ন্যাসভিল শহরে বড় ধরণের বিস্ফোরণে অন্তত তিন জন আহত হয়েছেন। যে স্থানটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে সেখানের স্থাপনাগুলিতে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিস্ফোরনের এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে দেশটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ধারনা করছেন। এই বিস্ফোরনে আশেপাশের বাড়িগুলির জানালার কাছ ভেঙ্গে গেছে। গাছপালা উড়ে গেছে, আগুন জলছিল সে স্থানে।

এই বিস্ফোরনে আহত ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরনের পর দমকল বাহিনীর লোকজন এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। নিরাপত্তা রক্ষীরা এলাকাটিকে ঘিরে রেখেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপনের কাজ চলছে।

https://nyti.ms/2KUHwSG

পরিবর্তিত রুপের করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরীতে সময় লাগবে ৬ সপ্তাহ

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মান কোম্পানী বায়োএনটেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবর্তিত রুপের করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরীতে সময় লাগবে ৬ সপ্তাহ। তবে ফাইজার ও বায়োএনটেকের বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন, তাদের তৈরী করোনা ভাইরাসের টিকা রূপ পরিবর্তন করা করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও কাজ করবে। আর না ও যদি করে তা হলে ৬ সপ্তাহের মধ্য তারা এটির কার্যকরী টিকা তৈরীতে সক্ষম।

বায়োএনটেকের প্রধান নির্বাহী উগুর শাহীন মঙ্গলবার এক সাক্ষাতকারে এমন তথ্য দিয়েছেন।

আবার জেগে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার ভয়ষ্কর আগ্নেয়গিরি

এর প্রভাবে ৪ কিলোমিটার ভুমি থেকে আকাশ ছেয়ে গেছে কালো ধোঁয়ায়। আশপাশের রাস্তা ও ভুমি ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে ছাইয়ে। ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশে ইলি লিউওটোলোক নামক এই আগ্নেয়গিরি হঠাৎই জেগে উঠেছে রবিবার। ইতিমধ্য ওই এলাকা থেকে ২৭শ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজধানী জাকার্তা থেকে ২৬০০ কিলোমিটার পূর্বে হঠাৎই এই আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই, লাভা বেরিয়ে আসতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। বিপদ আশষ্কা করে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। আবার অনেককে সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ছোট বড় প্রায় ১৩০০ আগ্নেয়গিরি রয়েছে। পুরো মাত্রায় জেগে উঠার আগে এগুলি থেকে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ কালো ধোঁয়া ও ছাই বের হয়। এই সময় সামান্য সক্রিয় থাকে আগ্নেয়গিরি। তারপরই ধারন করে ভয়ষ্কর রুপ। আগ্নেয়গিরি বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সবে শুরু হয়েছে, এর পর আগ্নেয়গিরি থেকে ক্রমাগত লাভা উদ্গিরণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে গরম মেঘ, লাভা স্রোত, লাভা-ধস ও বিষাক্ত গ্যাসে ছেয়ে যেতে পারে সন্নিহীত এলাকা। আপাতত ইন্দোনেশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সূত্রঃ আনন্দ বাজার পত্রিকা। 

ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী বোমা হামলায় নিহত

ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার তেহরান প্রদেশের দামাভান্দ কাউন্টির আবসার্দ শহরে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মোহসেন ফাখরিজাহের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। এই সময় হামলাকারীদের সাথে মোহসেনের দেহরক্ষীদের গুলি বিনিময় হয়। হামলায় গুরুতর আহত মোহসেন ফাখরিজাদেহকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মোহসেন ফাখরিজাদেহকে ইরানী বোমার জনক বলে ধারনা করা হয়। এই হত্যার পিছনে ইসরায়িলের হাত রয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ইসরাইলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য আসেনি। ইরান সম্প্রতি ইউরিনিয়াম সমৃদ্ধকরন আরও বৃদ্ধি করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দাবি করে আসছে। আর এই সময়েই ইরানের শীর্ষ এই বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়েছে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে।

আবারও বিশ্ব সেরা সাকিব আল হাসানই

ক্রিকেটের অলরাউন্ডার রেঙ্কিংয়ে আবারও সাকিব আল হাসানের নাম প্রথম স্থানে চলে এসেছে। ফলে সাকিব ফিরে পেলেন প্রথম স্থান। আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারনে রেঙ্কিং থেকে বাদ পরেছিল সাকিব আল হাসানের নাম। সম্প্রতি পাকিস্তান এবং জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ের তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি। তবে তালিকায় সাকিবের ধারেকাছেও নেই অন্য কোন ক্রিকেটার।

৩৭৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান। তার পরেই রয়েছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। তার রেটিং পয়েন্ট ৩০১। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ডের দুই ক্রিকেটার যথাক্রমে ক্রিস ওকস ও বেন স্টোকস।

তুরস্কে ভূমিকম্পের ৯০ ঘন্টা পর ৪ বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার

একটি বাথরুমের ভিতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির চিৎকার শুনে অবস্থান সনাক্ত করে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার স্থানীয় মেয়র জানান, ভূমিকম্পের প্রায় চার দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আইদা নামের শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছে উদ্ধারকারীরা।
এর আগে সোমবারও ধ্বংশস্তূপের ভিতর থেকে ১ শিশুসহ ২ জনকে উদ্ধার করা হয়। এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যহত আছে। ধারনা করা হচ্ছে ধ্বংশস্তূপের মধ্য এখনো অনেকে থাকতে পারে। ভূমিকম্পের পর থেকে এখনো অনেকে নিখুজ রয়েছে।

গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রান হারিয়েছে ১০২ জন ও আহত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার।

ভারতে ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড

ভারতে গত ২৪ ঘন্টায় রেকর্ড ৮৬ হাজার ৪৩২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে একদিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্তের বিশ্বরেকর্ড হলো ভারতে। অপরদিকে গত ২৪ দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৮৯ জন। আর ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৫৬১ জনে ও মোট আক্রান্তের সংখ্য ৪০২৩১৭৯ জন। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে গত ২৪ ঘন্টায় এ আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর জানা গেছে।

একই সময়ের মধ্যে আমেরিকা ও ব্রাজিলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৫০ হাজার ৮৫৯ ও ৫০ হাজার ১৬৩ জন। গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে সুস্থ্য হয়েছে ৭০০৭২ জন ও মোট সুস্থ্য ৩১০৭২২৩ জন। আর এখন চিকিৎসাধীন আছেন ৮৪৬৩৯৫ জন।

লেবাননে বিস্ফোরনে হতাহতদের মধ্য ৭৮ জন বাংলাদেশী রয়েছে

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি কেমিকেল গোডাউনে বিস্ফোরনে হতাহতদের মধ্য ৭৮ জন বাংলাদেশী রয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার বাংলাদেশ মিশন। এ পর্যন্ত এ বিস্ফোরনে ৩ জন বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর দিয়েছে বাংলাদেশ মিশন। এদের মধ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১ জন, মাদারীপুরের ১ জন ও অন্য ১ জন অজ্ঞাত রয়েছেন। এরা সেখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও লেবাননে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত ২১ জন নৌবাহিনীর সদস্যও আহত হয়েছেন বলে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্য ১ জন গুরুতর আহত রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে (ইউনিফিল) মেরিটাইম টাস্কফোর্সের অধীনে লেবাননে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস ‘বিজয়’ তখন বৈরুত বন্দরেই নোঙর করা ছিল। বিস্ফোরণের ধাক্কায় জাহাজেরও ক্ষতি হয়েছে। লেবাননের বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশীদের মধ্য অধিকাংশই হাসপাতাল ছেড়েছেন। এখনো ১০/১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে লেবাননের রাজধানী বৈরুত বন্দরের কাছে একটি কেমিকেল গোডাউনে রাখা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিস্ফোরনে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২৮ জনে দাড়িয়েছে। গোডাউনটিতে প্রায় ৩ হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল। বিস্ফোরনে বেশ কয়েকটি ভবন উড়ে যায়, সাড়ি সাড়ি যানবাহন ধবংস হয়। একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব এই বিস্ফোরনে নিহত হয়। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী এই হামলার উপযুক্ত বিচারের ঘোষনা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইরান ও ইসরাইল উদ্ধারকাজে সহযোগিতার ঘোষনা দিয়েছে। ফ্রান্সের একটি উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্য লেবাননের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মন্তব্য করেছেন।

হায়া সুফিয়া বা আয়া সোফিয়া বা হাজিয়া সোফিয়া মসজিদের ইতিহাস

মধ্যযুগের রোম সাম্রাজ্যের সাবেক রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের (বর্তমান ইস্তাম্বুল) প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি মসজিদ যেটি আদিতে গির্জা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। হায়া সোফিয়ার অর্থ (গ্রিক: Ἁγία Σοφία, “পবিত্র জ্ঞান”; লাতিন: Sancta Sophia বা Sancta Sapientia; তুর্কী: Ayasofya) । সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ (উসমানীয় সুলতান) মুহামেত কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর খ্রিস্টানদের কাছ থেকে আয়া সোফিয়া কিনে নিয়ে স্থাপনাটি মসজিদে রূপান্তর করেন। ১৪৫৩ সালের ১ জুনে মসজিদে রূপান্তরিত আয়া সোফিয়ায় প্রথমবারের মত জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ইমামতি করেন ফাতিহ-এর শিক্ষক শায়খ আক শামসুদ্দিন।

জাস্টিনিয়ান প্রথমের আদেশে ৫৩২ সাল এবং ৫৩৭ সালের মধ্যে কনস্টান্টিনোপলের খ্রিস্টান ক্যাথেড্রাল হিসাবে এটি নির্মিত হয়। ব্যাসিলিকাটি মাইলাতাসের গ্রীক জিওমিটার ইসিডোর এবং ট্রেলসের অ্যান্থিমিয়াস ডিজাইন করেছিলেন। বর্তমান জাস্টিনিয়ান ইমারতটি একই স্থানে অধিষ্ঠিত তৃতীয় গির্জা। এর আগে এটি নিকা দাঙ্গায় ধ্বংস হয়েছিল। কনস্টান্টিনোপলের একিউম্যানিকাল মহাবিশপ এপিসোপাল সী অনুসারে এটি প্রায় এক হাজার বছর ধরে বিশ্বের বৃহত্তম ক্যাথেড্রাল হিসাবে রয়ে গিয়েছিল, ১৫১৫ সালে সেভিল ক্যাথেড্রাল সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত। ১২০৪ সালে এটি চতুর্থ ক্রুসেডারদের দ্বারা লাতিন সাম্রাজ্যের অধীনে রোমান ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ১২৬১ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের ফিরে আসার পরে পূর্ব অর্থোডক্স চার্চে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল এর পতনের পর অটোমান সাম্রাজ্যের তৎকালীন মুসলিম শাসক ফতেহ সুলতান মুহাম্মদ নিজ অর্থায়নে এটি খ্রীষ্টানদের থেকে ক্রয় করে একটি মসজিদে রূপান্তরিত করেন। ১৯৩৫ সালে, যেহেতু তারা বিক্রির পর পূণরায় এটিকে গীর্জা স্থাপন করতে পারছে না তাই ধর্মনিরপেক্ষ করতে এটিকে একটি যাদুঘরে পরিবর্তন করা হয়েছিল। ২০২০ সালের জুলাইয়ের গোড়ার দিকে কাউন্সিল অফ স্টেট ১৯৩৪ সালের মন্ত্রিসভার জাদুঘর স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তুরস্কের রাষ্ট্রপতির একটি আদেশের পরে হায়া সোফিয়াকে পূণরায় একটি মসজিদ হিসাবে পুনর্নির্মাণের আদেশ দেয়। এই পদক্ষেপের নিন্দা জানায় ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ গীর্জা এবং অনেক আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ। যদিও তারাই এটি বিক্রি করেছিল।

চার্চটি প্রজ্ঞার ঈশ্বর লোগোসকে উৎসর্গ করা হয়েছিল, যিনি ত্রিতত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তি, খ্রিস্টের লোগোস অবতারের জন্মের স্মরণে ২৫ ডিসেম্বর (ক্রিসমাস) এর পৃষ্ঠপোষক ভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গ্রীক শব্দ জ্ঞানের জন্য লাতিন ভাষায় সোফিয়া হলো ফোনেটিক বানান এবং যদিও এটি কখনও কখনও সান্টা সোফিয়া, ‘সেন্ট সোফিয়া’ হিসাবে অভিহিত হয়। তবে এটি শহীদ সোফিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। গ্রীক ভাষায় এর পুরো নাম ‘নাৎস তিস হাগাস টু থিও সোফিয়াস, লিট. যার আক্ষরিক অর্থ ‘ঈশ্বরের পবিত্র জ্ঞানের মন্দির’। চার্চটি বেশ কয়েকটি ধ্বংসাবশেষ রেখেছিল এবং একটি ১৫ মিটার (৪৯ ফুট) রৌপ্য আইকনোস্টেসিসের বৈশিষ্ট্যযুক্ত ছিল। প্রায় এক হাজার বছর ধরে পূর্ব অর্থোডক্স চার্চের কেন্দ্রস্থলে ভবনটি সরকারীভাবে মাইকেল আই সেরুলারিয়াসের বহনকারীকে বহিষ্কারের সাক্ষ্য দিয়েছিল। ১০৫৪ সালে পোপ লিও চতুর্থর রাষ্ট্রদূত হ্যাম্বার্ট অফ সিলভা ক্যান্ডিডা দ্বারা এটি এমন একটি কাজ যা সাধারণত পূর্ব-পশ্চিম ধর্মবাদের সূচনা হিসাবে বিবেচিত হয়। চতুর্থ ক্রুসেডের নেতৃত্বাধীন ভেনিসের ডেজ এবং ১২০৪ স্যাক কনস্ট্যান্টিনোপল এনরিকো দানডোলোকে গির্জার মধ্যে সমাহিত করা হয়েছিল।

১৪৫৩ সালে, ফতেহ সুলতান মুহাম্মদ ক্যাথেড্রালকে মসজিদে রূপান্তরের আদেশ দেন। মহাবিশপদেরকে চার্চ অফ দ্য হোলিত অ্যাপোস্টলে স্থানান্তরিত করেন, যা এই শহরের ক্যাথেড্রাল হয়ে উঠেছিল। যদিও শহরের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছিল, তবুও এই উদ্দেশ্যটির জন্য আলাদা তহবিল রেখে ক্যাথেড্রাল রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।‌ চার্চবেল বা ঘন্টা, বেদী, আইকনোস্টেসিস, অম্বো এবং ব্যাপটিস্ট্রি সরানো হয়েছিল এবং ধ্বংসাবশেষগুলোও ধ্বংস করা হয়েছিল। যীশু, তাঁর মা মেরি, খ্রিস্টান সাধু এবং স্বর্গদূতদের চিত্রিত মোজাইকগুলি শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বা এর উপরে প্লাস্টার করা হয়েছিল। এর পরিবর্তে ইসলামী স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছিল, যেমন একটি মিনবার (মিম্বার), চারটি মিনার এবং একটি মিহরাব – একটি কুলুঙ্গি যা প্রার্থনার দিক নির্দেশ করে(কিবলা)। এটির প্রাথমিক রূপান্তর থেকে ১৬১৬ সালে নিকটবর্তী সুলতান আহমেদ মসজিদ নির্মাণ সমাপ্তির আগ পর্যন্ত ও নীল মসজিদের আগে এটি ইস্তাম্বুলের প্রধান জামে মসজিদ ছিল। হায়া সোফিয়ার বাইজেন্টাইন আর্কিটেকচার নীল মসজিদ, ইহজাদে মসজিদ, সলেমনিয়ে মসজিদ, রিস্টেম পাশা মসজিদ এবং কালী আলী পাশা কমপ্লেক্স সহ আরও অনেক উসমানীয় মসজিদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করেছিল।

কমপ্লেক্সটি চার বছর ধরে জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকাকালীন ১৯৩১ সাল পর্যন্ত মসজিদ হিসাবে থেকে যায়। এরপর এই স্থাপনাটি ১৯৩৫ সালে আধুনিক তুরস্কের স্থপতি ও স্বাধীন তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি “মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক” যাদুঘরে রূপান্তর করেন। এটি ১৯৩৫ সালে তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের যাদুঘর হিসাবে পুনরায় খোলা হয়েছিল। হায়া সোফিয়া ছিল ২০১৪ সালে, তুরস্কের দ্বিতীয় সর্বাধিক পরিদর্শন করা যাদুঘর। বার্ষিক প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন দর্শনার্থী এতে আকৃষ্ট হতো। সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, হায়া সোফিয়া ২০১৫ এবং ২০১৯ সালে তুরস্কের সবচেয়ে বেশি পর্যটন-আকর্ষণীয় স্থান ছিল।

মসজিদে রূপান্তরের পর এর দেয়ালে মার্বেল পাথরে অঙ্কিত যীশু খ্রিস্টের অনেক গুলো ছবি সিমেন্ট দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। ছবিগুলো প্রায় ৫০০ বছরের জন্য সিমেন্টের নিচে চাপা পড়ে। কিন্তু এই স্থাপনাটিকে যাদুঘরে রূপান্তরের পর ছবিগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়। ফলে যীশুখ্রিস্টের ছবিগুলো অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে অঙ্কিত “আল্লাহু ও মুহাম্মদ” এর আরবিতে অঙ্কিত মার্বেল পাথরও এর পাশাপাশি সংরক্ষিত হয়। তাই এই নামগুলোর পাথর অনেক বেশি উজ্জ্বল থাকে। এরপর থেকে এই স্থাপনায় নতুন নিয়ম প্রবর্তন হয়। প্রধান নিয়মটি হল, “এই স্থাপনার মূল অংশ বা হলরুম ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, সেটি মুসলিম অথবা খ্রিস্টান ধর্ম উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু এই স্থাপনার উভয় ধর্মের জন্য আলাদা সংরক্ষিত জায়গা রয়েছে। অর্থাৎ এই কমপ্লেক্ষটিতে একটি মসজিদ ও একটি গির্জা নির্মাণ করা হয়। যা শুধুমাত্র যাদুঘরের কর্মচারী কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত।”

৩১ মার্চ ২০১৮ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান কুরআন তিলাওয়াত করে ফতেহ সুলতান মুহাম্মদসহ হায়া সোফিয়ার জন্য কাজ করা সকলের রহুের মাগফেরাতে মোনাজাত করেন। ১০ জুলাই ২০২০ সালের রোজ শুক্রবার তুরস্কের শীর্ষআদালত এটাকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের রায় ঘোষণা করে। আদালতের রায়ের পর এটিকে পুনরায় মসজিদে রুপান্তরের কার্যক্রম গ্ৰহণ করা হয় এবং রায়ের পর মসজিদে আজান দেওয়া হয়েছে যা প্রায় ৮৬ বছর পর। আজ শুক্রবার (২৪/০৭/২০২০ ইং) এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের কথা রয়েছে।

আগস্টে আসছে করোনা ভাইরাসের ভেকসিন

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা করোনা ভাইরাসের ভেকসিন তৈরী করছেন। তারা জানিয়েছেন, মানুষ তাদের তৈরি করোনার ভেকসিন ইনহেলারের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবে। এটি করোনা ভাইরাস নিয়ে শত হতাশার মাঝেও একটি ভাল খবর। অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা আশা করছেন আগস্টের শুরুর দিকে এটি ব্যবহারের উপযোগী হবে। এই ভেকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে ৮০ % আত্মবিশ্বাসী সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পারসোনালাইজড মেডিসিনের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল এই তথ্য জানিয়েছেন। আর তিনিই ইনহেলার ভ্যাকসিন প্রকল্পের নেতৃত্বে আছেন।

যুক্তরাজ্যের ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, ভেকসিন কার্যকর প্রমানিত হলে তারা ২০০ কোটি ডোজ ভেকসিন তৈরি করবে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী পাস্কাল সারিওট জানান, তাদের তৈরি ‘এজেডডি১২২’ ভেকসিনটি কার্যকর কি না তা আগস্টের মধ্যেই জানা যাবে। মাইক্রোসফটের বিল গ্রেডস এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ১০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি সই করেছে। এর মাধ্যমে কোম্পানীটি যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটি ডোজ ভেকসিন সরবরাহ করবে।

সিঙ্গাপুরে লক্ষন ছাড়াই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

কোন রকম লক্ষন ছাড়াই সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে। এই বিষয়টি সিঙ্গাপুর সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই সেখানে লকডাউন ধীরে ধীর শিথিল করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে ডুরমেটরীতে বসবাসকারী অভিবাসী শ্রমিকরাই করোনা ভাইরাসে বেশী সংখ্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। এখন যারা আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছেন তাদের অর্ধেকের বেশী আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে কোন রকম লক্ষন ছাড়া। সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় গঠিত টাস্কফোর্সের সহ-প্রধান লরেন্স ওং সোমবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন। লরেন্স বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, প্রতিটি লক্ষণযুক্ত শনাক্তের বিপরীতে কমপক্ষে একটি উপসর্গহীন কেস আছে।”

প্রায় দুই মাসের লকডাউন শেষে গত সপ্তাহে স্কুল এবং কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে সিঙ্গপুরে। দেশটিতে এই পর্যন্ত ৩৮২৯৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্য থেকে ২৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে। ২৫৩৬৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ্য হয়েছে। আর চিকিৎসাধীন আছে ১২৯০৩ জন। দেশটিতে প্রতি ১০ লক্ষে আক্রান্ত হয়েছে ৬৫৪৯ জন এবং প্রতি ১০ লক্ষে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যু হার অনেক কম।

চীনের করোনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞ দল এখন ঢাকায়

১০ সদস্য বিশিষ্ট চীনা করোনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞ দল এখন ঢাকায়। আজ দুপুরে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন চীনা করোনা বিশেষজ্ঞ দলকে অভ্যর্থনা জানান। এই সময় তার সাথে বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ডিজি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এফ এম বোরহান উদ্দীন। চিকিৎসক দল পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং টেলিফোন করে আশ্বস্ত করেছিলেন।

চীনের বিশেষজ্ঞ দলটি বাংলাদেশে দুই সপ্তাহ অবস্থান করবেন। এই সময়ে তারা বাংলাদেশে কিভাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করবেন ও বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের সহযোগিতা করবেন। তারা ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। এর আগে চীনের চিকিৎসকরা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে চিকিৎসা বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছিল। চীনে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বাংলাদেশ চীনে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছিল। পরে চীনও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে চীন সফল হয়েছে।

লিবিয়ায় বাংলাদেশী ২৬ নাগরিকের হত্যার বিচারেরে দাবি জানাল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এ কে আব্দুল মোমেন লিবিয়া সরকারের কাছে এ আহবান জানান। শুক্রবার এই এক ভিডিও বার্তায় জনাব মোমেন এই তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহতে ২৬ বাংলাদেশীকে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনী গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় আহত অপর ১১ বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, লিবিয়ায় এক পাচারকারী নিহত হবার পর তার স্বজনরা প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলী থেকে ৯৫ মাইল দূরে মিজদাহ নামক স্থানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশী ২৬ জনের সাথে আফ্রিকান ৪ নাগরিককেও হত্যা করেছে এই চক্রটি। এই ঘটনায় আরও ১১জন বাংলাদেশী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। আহতদের মধ্য ৫ জনের অবস্থা আশংস্কাজনক বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এ কে আব্দুল মোমেন। এদের মধ্য ১ জন পালিয়ে এসে এক ফার্মেসী মালিকের বাসায় আশ্রয় নিয়ে লিবিয়াস্থ্য বাংলাদেশ মিশনে খবর দিলে কর্মকর্তারা লিবিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগ করে এবং হতাহতদের খোঁজ খবর নেয়। ত্রিপলী থেকে ১০৬ মাইল দক্ষিনপশ্চিমে জিতানের একটি হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশী হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পাচারকারীদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলেছে

ভারতে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৯৮২২ জন। আর এর মধ্য মৃত্যুবরণ করেছে মোট ৪৩০৭ জন। সুস্থ্য হয়েছেন এ পর্যন্ত ৬৩৪৬৫ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থ্যতার হার ৪২.৩৬% এবং মৃত্যু হার ২.৮৭%। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৪৮৭২ জন ও মৃত্যু হয়েছে ১৩৫ জনের। ভারতের রাজ্যগুলির মধ্য আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাত ও দিল্লি—এই চারটি রাজ্যে। কলকাতায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪২০২ জন ও মৃত্যু হয়েছে ২১১ জনের।

ভারতে এ পর্যন্ত মোট টেস্ট হয়েছে ৩১২৬১১৯ জনের এবং প্রতি ১০ লক্ষে টেস্ট হয়েছে ২২৬৮ জনের। প্রতি ১০ লক্ষে আক্রান্ত হয়েছে ১০৯ জন এবং প্রতি ১০ লক্ষে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আর বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট টেস্ট হয়েছে ২৫৮৫৫০ জনের এবং প্রতি ১০ লক্ষে টেস্ট হয়েছে ১৫৭১ জনের। প্রতি ১০ লক্ষে আক্রান্ত হয়েছে ২২৩ জন এবং প্রতি ১০ লক্ষে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।

কুয়েতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে দিশেহারা বাংলাদেশীরা

প্রতিদিনই কুয়েতে বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৫ জন। এর মধ্য ১১৫ জন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীও রয়েছে। দেশটিতে বসবাসরত মিশরী ও ইন্ডিয়ানরা সবচেয়ে বেশী সংখ্যায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৭ জন মিশরী, ১৮৪ জন ইন্ডিয়ান ও ১০৯ জন কুয়েতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বাকি ২১০ জন কুয়েতে কর্মরত অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন। কুয়েতে এ পর্যন্ত ১২৮৬০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছে ৮ জন। এই নিয়ে দেশটতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৬ জনে। গত ১ সপ্তাহেই কুয়েতে কর্মরত ৫ শতাধিক বাংলাদেশী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ইতিমধ্য কুয়েতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী মৃত্যুবরন করেছে বলেও জানা গেছে।

কুয়েতে বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তার ও সেবিকারাও বিপুল সংখ্যায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কুয়েতে কর্মরত ২ লক্ষাধিক বাংলাদেশী শ্রমিক ঝুকিতে আছেন। ১ রুমে গাদাগাদি করে থাকেন ১০/১২ জন শ্রমিক। একেকটা বিল্ডিংয়ে থাকেন ৫০০ থেকে ১০০০ জন মানুষ। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেমন আতংস্কের মধ্য দিনযাপন করছেন তেমনি দেশে তাদের স্বজনরাও উৎকণ্ঠায় আছেন। তবে দেশটিতে করোনা ভাইরাসের প্রধান বাহক কুয়েতিরাই।

কুয়েতে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০১৭ জন ও প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্য মৃত্যুবরন করেছে ২৩ জন। যেখানে বাংলাদেশে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্য আক্রান্ত হয়েছে ১২২ জন ও প্রতি ১০ লক্ষে মৃত্যুবরন করেছে ২ জন। দেশটিতে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। কুয়েতের জনসংখ্যা ৪২৬২১৫৬ জন। এর মধ্য ২/৩ ভাগই সেদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিক। কুয়েতে কর্মরত অনেক বাংলাদেশী গত ২ মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না। ফলে অনেক বাংলাদেশী বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আবার কুয়েতে বসবাসরত ৪ হাজারের অধিক বাংলাদেশী নানাহ কারনে অবৈধ হয়ে গেছেন দেশটিতে। কুয়েত সরকার সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করায় এই অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী শ্রমিকরা দেশে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এরাও এখন কুয়েতে খাদ্য ও বাসস্থানসহ নানা সমস্যায় আছেন।

ইতালী, ফ্রান্স ও স্পেন অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার চিন্তা করছে, কুয়েত-সৌদি বের করে দিচ্ছে

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশ ইতালী, ফ্রান্স ও স্পেন অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। এই কঠিন সময়ে ওই সমস্ত দেশে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের তারা তাড়িয়ে দিচ্ছে না। ট্রাম্পের আমরা সমালোচনা করি, আমেরিকা কিংবা ইতালীর সমালোচনা করি। তারাই এই কঠিন সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের সে সমস্ত দেশ থেকে বের করে না দিয়ে বরং বৈধ করে নেওয়ার চিন্তা করছে। এই কঠিন সময়েও ইইউরোপে অভিবাসন লাভের আশায় তিউনিশিয়া থেকে ১২৮ জন বংলাদেশীসহ প্রায় ২ হাজারের অধিক মানুষ ইতালীতে ঢুকে পড়েছে নৌপথে। যুক্তরাজ্যেও প্রায় লক্ষাধিক বাংলাদেশী অবৈধভাবে বসবাস করছে। কিন্তু দেশটি অবৈধ বাংলাদেশীদের সে দেশ থেকে বাহির করে দেওয়ার চিন্তা করছে না। মনে হয় তারা বুঝে গেছে কেন করোনা ভাইরাসের আভির্বাব হয়েছে। আর তাই তারা মানুষকে মানুষ হিসাবে গন্য করে এই কঠিন সময়ে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।

আর আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ কুয়েত ও সৌদি আরব সে সমস্ত দেশে থাকা অবৈধ শ্রমিকদের জোড় করে সেদেশ থেকে বাহির করে দিচ্ছে। শুধু তাই নই তারা বাংলাদেশ সরকারকে এই সমস্ত শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চাপ ও হুমকিও দিয়ে আসছে। কুয়েতে থাকা ৪ হাজারের অধিক বাংলাদেশী অবৈধ শ্রমিক ফিরিয়ে না আনলে দেশটি বাংলাদেশকে ব্লেকলিস্টে ফেলবে বলেও হুমকি দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে আর জনশক্তি নিবে না ও যারা ইতিমধ্য কুয়েতে বৈধভাবে কর্মরত আছে তাদের ভিসা আর নবায়ন না করারও হুমকি দিয়েছে দেশটি। করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বনীতি হল যে যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। কিন্তু দেশ দুটি নানা কারনে অবৈধ হয়ে যাওয়া শ্রমিদের দেশে চলে যেতে বাধ্য করছে। মাত্র কয়েক হাজার শ্রমিকের বরনপোষনের ব্যবস্থা করতেও তারা অনিহা প্রকাশ করে যাচ্ছে। এই সমস্ত শ্রমিকরা খালি হাতে দেশে ফিরে আসলে দেখা দিবে নানা পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যা। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলি এখনো বুঝতে পারে নাই কেন করোনার আগমন ঘটেছে।

২৭ ও ২৮শে এপ্রিল ২৪৬ জন কুয়েতের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন। অবৈধ হয়ে যাওয়ায় কুয়েত থেকে বুধবার ২৯৯ জন দেশে ফিরে এসেছেন সাধারন ক্ষমার আওতায়। ১৬, ১৭ , ২১ ও ২২ মে আরও এক হাজার ৮০০ প্রবাসীকে দেশে পাঠানো হবে বলে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।

1 2 3 37