আমেরিকা বনাম রাশিয়ার যুদ্ধ কখন শেষ হবে?

২৪শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাশিয়া দাবি করছে ইউক্রেনে রুশভাষী ও রুশ সমর্থক নাগরিকরা অত্যাচারিত হচ্ছে। অপরদিকে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেনের অত্যাচারের কারনে স্বাধীনতা চাচ্ছে। এই এলাকায় স্বাধীনতাকামীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সরকারী বাহিনীর সাথে লড়াই করে আসছে। এমতাবস্থায় রুশভাষী ইউক্রেনীয়দের রক্ষা করতে রাশিয়া ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান চালানোর যুক্তি দেখাচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে দনবাসের লোহনস্ক ও দোনস্ক এলাকাকে স্বাধীন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া।

২৪শে ফব্রুয়ারী থেকেই ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনারা ঢুকে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্য শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। ফলে উভয় পক্ষেরই ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে। আপাতঃভাবে এই যুদ্ধ রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্য হলেও আসলে এই যুদ্ধ চলছে মুলত রাশিয়া ও নেটোর মধ্য। নেটোর কিছু দেশ হয়ত এই যুদ্ধ চাচ্ছে না। কিন্তু এই অংশটা খুব একটা শক্তিশালী নয়। আর এই নেটোর নেতৃত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই ইউক্রেনে মুলত যুদ্ধ চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্য। এই যুদ্ধ ক্ষেত্রটা শুধু ইউক্রেনে।

যুক্তরাষ্ট্রকে যে কোন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বিশ্বে রাশিয়া বাদে আর দ্বিতীয় কোন দেশ নাই। এই দুটি দেশেরই রয়েছে বিশ্বের যে কোন দিক থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। একমাত্র রাশিয়াকে মোকাবেলা করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৭০ বছর আগে গঠিত হয় নেটো। শুরুতে সদস্য সংখ্যা ছিল ১২ এবং বর্তমানে ৩০। অল্প কয়েকটা দেশ বাদে ইউরোপের প্রায় সকল দেশই নেটোর সদস্য। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে যে সাম্রাজ্যবাদ চালাচ্ছে তা নেটোকে সাথে নিয়েই করছে। অর্থাৎ নেটো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের জোট। ইউরোপের দেশগুলিকে নিয়ে ইইউ নামে আরেকটি জোট রয়েছে। এটিও ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যপক প্রভাব খাটাচ্ছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। সর্বাধুনিক যত অস্ত্র আছে তা ইউক্রেনে সরবরাহ করছে। এমনকি পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাথে মিশে যুদ্ধ করছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। নানা ধরনের অবরোধ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেটো ও ইইউ রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাতে সকল দিক দিয়েই ব্যপক ক্ষতির মুখে পরেছে রাশিয়া। অপরদিকে এই দেশগুলিও নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভংগ করছে। নিজেরাও ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর ইউক্রেনের জানমালের ব্যপক ক্ষতি সাধন করছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব সারাবিশ্বেই পরেছে। বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সংকট তৈরী হয়েছে। নিত্যপন্যের দাম সারা বিশ্বেই বেড়ে গেছে। বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বে খাদ্যের অভাব দেখা দিবে বলে আভাস দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র দেশগুলি। এমনকি এখনই বিশ্বের দেশে দেশে এখনই অভাব/সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে এই যুদ্ধকে একটা টেস্ট বলে মনে করছে পশ্চিমারা। রাশিয়াকে তারা একটু বাজিয়ে দেখছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলনেস্কিকে এরা তাদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের এজেন্ট হিসাবে কাজ করাচ্ছে। পাটাপুতার ঘষাঘষিতে ইউক্রেনের এখন বারোটা বেজে গেছে। তবে রাশিয়ারও ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই যুদ্ধ পশ্চিমারা যেদিন চাইবে সেদিন হয়ত শেষ হবে।

১৭ বছর ধরে ঘুমিয়ে আছেন সৌদির এই যুবরাজ

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ১৭ বছর ধরে ঘুমিয়ে আছেন এই যুবরাজ। সৌদি রাজ পরিবারের এই যুবরাজের নাম প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালাল। সম্প্রতি মিডিয়ায় তার একটি ছবিও প্রকাশ হয়েছে। এক টুইটার পোস্টে যুবরাজ আল-ওয়ালিদের ওই ছবিটি প্রকাশ করেন সৌদি রাজকুমারী রিমা বিনতে তালাল। ছবিতে এই যুবরাজের বাবা খালেদ বিন তালালকেও দেখা যাচ্ছে।

সামরিক কলেজে পড়ার সময় ২০০৫ সালে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন এই যুবরাজ। তারপর থেকেই তিনি কুমায় আছেন। আর কোমায় থাকা মানেই ঘুমিয়ে থাকা। তাই তাকে স্লিপিং প্রিন্সও বলে থাকেন অনেকে। যুবরাজের বাবা এখনো আশা করেন তার ছেলে একদিন জেগে উঠবে। ২০১৫ সালে সে একবার হাত সরিয়ে নিচ্ছিল। ২০২০ সালেও একবার এরকম অবস্থা হয়েছিল।

শ্রীলংকা হঠাৎ করে বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করে দেয়

৪/৫ বছর আগের কথা। ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর আসে, শ্রীলংকা বাংলাদেশীদের জন্য সেদেশে অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। কোন রকম কারন দর্শনো ছাড়াই দেশটি বাংলাদেশীদের জন্য আগের এই সুবিদা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টা নিয়ে একটু বুঝার চেষ্টা করলাম। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্য তুলনামূলক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক নিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেল শুধু মাত্র শিক্ষা ছাড়া শ্রীলংকা অন্য কোন দিক থেকেই বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে নেই। তা হলে কেন বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা বন্ধ করলো? আসলেই এদের দম্ভ ছাড়া আর কোন কারন খোঁজে পাওয়া যায়নি। এই ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশটি বুঝিয়ে দিল তাদের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বহীন।

একই সময়ে বাংলাদেশেও শ্রীলংকার নাগরিকদের জন্য অন এরাইভেল ভিসা চালু ছিল। অন এরাইভেল ভিসার কারনে শ্রীলংকার নাগরিকরাই বেশী এর সুযোগ নিতো। সে সময়ে এমনকি এখনো প্রচুর সংখ্যক শ্রীলংকার নাগরিক বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে চাকুরিরত আছে। বাংলাদেশ থেকে খুব কম সংখ্যক মানুষ শ্রীলংকা ভ্রমনে যায়। শ্রীলংকার সাথে বাংলাদেশের বানিজ্যও খুব বেশী হয় না। মুলত শ্রীলংকানরাই অন এরাইভেল ভিসার সুযোগে বেশী লাভবান হত।

বাংলাদেশ অন এরাইভেল ভিসা নিয়ে শ্রীলংকার সাথে আর কোন আলোচনা না করেই একই সুবিদা বন্ধ করে দিল ২/৩ দিনের মধ্যেই। ফলে বাংলাদেশে কর্মরত শ্রীলংকানরা বিপদে পড়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত হল শ্রীলংকা। অপরদিকে বাংলাদেশ তাতে লাভবানই হল। সেই দাম্ভিক শ্রীলংকা কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে ২১শ কোটি টাকা ঋন নিয়েছে। তা পরিশোধ না করেই আবারও ২৫শ কোটি টাকা ঋন চাইলো। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পরমর্শে এইবার আর শ্রীলংকাকে টাকা দেয়নি বাংলাদেশ। সেই দাম্ভিক শ্রীলংকায় আজ খাদ্যের অভাব, জ্বালানির অভাব, কাগজের অভাব, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত। সেই দেশটি সকল দিক থেকে আজ চরম বিপর্যয়ে।

শ্রীলংকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুরাবস্থা দেখে বাংলাদেশে আশার আলো দেখছে পাকি পন্থিরা

সাম্প্রতিক সময়ে সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলংকা ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়েছে। দেশটিতে জ্বালানী সংকট, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ সংকটসহ আরো অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কাগজের অভাবে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম ও পত্রিকা ছাপা বন্ধ রয়েছে। তেলের অভাবে সেদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমনকি ক্ষুদ রাজধানী কলম্বোতে ১০ ঘন্টা লোড সেডিং চলছে। টাকার অভাবে দেশটি জ্বালানি তেলও ক্রয় করতে পারছে না। এমন কি দেশটি বাংলাদেশের কাছে আড়াই হাজার কোটি টাকা লোন চেয়েছে এই অবস্থা মোকাবেলার জন্য। এক বছর আগেও শ্রীলংকা বাংলাদেশে কাছ থেকে ২১শ কোটি টাকা লোন নিয়েছে। সেই লোনের টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারেনি দেশটি। দেশটি বিপুল পরিমান বৈদেশিক ঋনে ভারাক্রান্ত। এই সমস্ত সুযোগে দেশটিতে ব্যপক হারে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার আবাসিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে। এর মধ্য শ্রীংলকার বিরোধী দল আঁটসাঁট বেধে আন্দোলনে নেমে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে মন্ত্রী সভার সকল সদস্য পদত্যগ করেছে। সংখ্যা গরিষ্টতা হারিয়েছে সরকারী দল। এখন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার পদত্যগ চাচ্ছে বিরধী দল। দেশটিতে লুটতরাজও চলছে অন্যান্য বিশৃঙ্খলার সাথে। শ্রীলংকার সরকার পরিবর্তন এখন সময়ের ব্যপার মাত্র।

শ্রীলংকার প্রধান অর্থ আয়ের খাত পর্যটন শিল্প। করোনার দুই বছরে এই শিল্প থেকে আয় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যার ফলে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে চাপে পরেছে। অপরদিকে করোনাকালেও বাংলাদেশ অর্থনীতির সকল চাকা সচল রেখেছে। মহামারীকালে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বের বড় বড় দেশ ও সংস্থা প্রশংসা করেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভও বিপুল পরিমানে রয়েছে। শ্রীলংকার মূদ্রামান বাংলাদেশের ১টাকা সমান শ্রীলংকার ৩.৪২ রুপি। বর্তমানে অর্থনীতির সকল সূচকে দেশটি বাংলাদেশ থেকে অনেক অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২৮০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩১তম বড় অর্থনৈতিক দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তথাপিও এদেশের কিছু সরকার বিরোধী প্রচার মিডিয়া, বিরোধী দল ও ব্যক্তি শ্রীলংকার অবস্থার সাথে বাংলাদেশের অবস্থা মিলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। আশা করছেন বাংলাদেশেও শ্রীলংকার মত অবস্থা সৃষ্টি হবে, আন্দোলন হবে সরকারের বিরুদ্ধে। যার ফলশ্রুতিতে সরকারের পতন হবে। আর নিজেরা ক্ষমতায় আসবেন। যারা এমন আশা করছেন তারা সকলেই পাকিস্তান পন্থী কিংবা আওয়ামীলীগের বিরোধী।

অস্কারের মঞ্চে উপস্থাপককে সপাটে চড় মারলেন শ্রেষ্ট অভিনেতা উইল স্মীথ

এবার অস্কার পুরষ্কার ঘোষনার মঞ্চে ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। শ্রেষ্ট অভিনেতার পুরষ্কার জয়ী উইল স্মীথ অস্কার মঞ্চের উপস্থাপক ক্রিস রককে সপাটে চড় মারলেন। এই ঘটনায় অস্কার পুরষ্কার বিজয়ী ঘোষনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক, অভিনেতা-অভিনেত্রী সকলেই হত বিহব্বল হয়ে গেলেন। উইল স্মীথ মঞ্চের সামনের অতিথির আসন থেকে উঠে ধীরে ধীরে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে মঞ্চেই উঠে গেলেন। তারপর ধীরে ধীরে ক্রিস রকের কাছে গিয়ে কোন কিছু না বলে সপাটে চড় বসিয়ে দিলেন। এই ঘটনা অস্কারের ইতিহাসে বিরল। তারপরই তিনি মঞ্চ হতে ধীরলয়ে নেমে আসেন। তখনো তিনি রাগ সামলাতে পারছিলেন না। মঞ্চ থেকে নেমে তার স্ত্রীর পাশেই আবার বসে পড়লেন।

উপস্থাপক ক্রিস রক কৌতুক করে উইল স্মীথের স্ত্রী ও অভিনেত্রী জেডা পিঙ্কেটকে নিয়ে কিছু বলছিলেন। তা শুনেই উইল স্মীথ আসন থেকে উঠে মঞ্চে গিয়ে এই ঘটনা ঘটান। একটু পরেই মঞ্চ থেকে ঘোষনা আসে শ্রেষ্ট অভিনেতা হিসাবে উইল স্মীথের নাম। অবশ্য পরে এই ঘটনার জন্য উইল স্মীথ দুঃখ প্রকাশ করেন।

এই ঘটনায় উইল স্মীথের খেতাব হারানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চড় মারার দৃশ্য স্যুশাল মিডিয়ায় ব্যপকভাবে প্রচার হচ্ছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার রণকৌশলঃ-

২৪শে ফেব্রুয়ারী রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমন শুরু করে। উভয় পক্ষের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে আজ তা এক মাসে গড়িয়েছে। আক্রমনের শুরুতে রাশিয়ান বাহিনীর যে ক্ষিপ্রতা ছিল তা এখন থেমে গেছে বলে অনেকে মনে করেন। উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিন দিকে দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনকে ঘিরে আক্রমন করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পূর্বদিকে রাশিয়া সীমান্তে দুনস্ক ও লিউনস্ক আগে থেকেই দখল করে রেখেছে ওই এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। পুবের শহর খারকিভ ঘিরে এক মাস ধরে আক্রমন চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। দক্ষিনের বন্দর নগরী মারিওপল দখল করে নিয়েছে রাশিয়ান সৈন্যরা। শুরুতেই রুশ সেনারা উত্তরের চেরনিহিভ দখল করে নিয়েছিল। শুরুতেই রুশ সেনারা দখল করে নিয়েছিল দক্ষিনের খেরশন ও জাপুরঝিয়াও। জাপুরজিয়াতে রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রতিদিনই স্থল ও আকাশপথে ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ সেনারা। ইউক্রেনের পশ্চিমের শহর এলভিভেও বেশ কয়েকবার আকাশপথে মিশাইল হামলা করেছে রাশিয়া। এই এলভিভ দিয়েই ইউক্রেনের শরণার্থীরা পোল্যান্ডে পালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে ইউক্রেনের সীমান্ত লাগোয়া পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছে। রাশিয়ান হামলায় ইউক্রেন এখন বিপর্যস্ত। ইউক্রেনের সেনারাও রাশিয়ান সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে পাল্টা আক্রমন চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ২৪শে ফেব্রুয়ারী যুদ্ধ শুরুর ২ দিনের মধ্যেই রাশিয়ান বাহিনী কিয়েভের উপকন্ঠে চলে গিয়েছিল। কিয়েভের কেন্দ্র থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ান সৈন্যদের অবস্থান জানিয়ে নানা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সংবাদ প্রচার করে আসছিল। এর পর থেকেই কিয়েভ অভিমুখে রাশিয়ান বাহিনীর অগ্রযাত্রা থেমে যায়। এর কারন কি হতে পারে?

এর উত্তরে বলা যায় এইটা হয়ত রাশিয়ার রণকৌশল হতে পারে। কিয়েভে প্রবেশ করলে রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনীয় বাহিনীর চোরাগোপ্তা হামলার শিকার হতে পারে। এতে তাদের জান ও বহরের ব্যপক ক্ষতি সাধন হতে পারে। যার ফলে রাশিয়ান বাহিনী কিয়েভে মিশাইল হামলা চালিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অবকাঠামো ধ্বংস করতে ব্যস্ত রয়েছে। রাশিয়ান বাহিনী কিয়েভের উপকন্ঠ থেকে খানিকটা পিছিয়ে গেছে হয়ত ইউক্রেনীয় বাহিনীকে কিয়েভ থেকে পশ্চিম-উত্তর উপকন্ঠে আসতে প্রলোপদ্ধ করতে। ফলে সাধারন মানুষের জানমালের ক্ষতি কম করে সাড়াশি আক্রমন চালিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পরাস্ত করতে সহজ হবে। এই সময় রাশিয়ান বাহিনী স্থল ও আকাশপথে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর আক্রমন চালিয়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারবে। ফলে কিয়েভ দখল ও দখল করে রাখা হয়ত রাশিয়ান বাহিনীর জন্য সহজ হবে।

রাশিয়া আগেই জানিয়ে দিয়েছে তাদের ইউক্রেনে অভিযানের উদ্দেশ্য হল ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ করা ও লোনস্ক ও দুনস্কের স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসাবে ইউক্রেনের স্বীকৃতি আদায় করা। অপরদিকে উইক্রেনের নেটোতে যোগদানকেও বাধাগ্রস্ত করা। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের অবকাঠামোর ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। রাশিয়ান বাহিনীরও জানমালের বিয়োগ হচ্ছে। ইউক্রেনেরও হয়ত এই ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাহির হয়ে আসতে রাশিয়ার সাথে নিঃশর্ত আলোচনায় রাজি কিংবা রাশিয়ার দাবি মেনে নিতেও আপত্তি নাই। এটি করলে ইউক্রেন বেঁচে যাবে, একটি দেশ বেঁচে যাবে, দেশের মানুষ বেঁচে যাবে। কিন্তু ইউক্রেনের পশিমা মুড়লেরা হয়ত চাচ্ছে এই যুদ্ধ যতবেশী দিন লেগে থাকবে ততবেশী ক্ষয়ক্ষতি হবে উভয় দেশেরই। পশ্চিমারা হয়ত চাচ্ছে যুদ্ধ করে রাশিয়ার সামরিক শক্তির আরও অপচয় হউক। ফলে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের হয়ত আসল চিত্র না দিয়ে ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রলোপদ্ধ করে যাচ্ছে। রাশিয়ান বাহিনীর যুদ্ধের রসদ শেষ হয়ে গেছে, গোলাবারুদ শেষ হয়ে গেছে, ইউক্রেন বাহিনীর হামলায় রাশিয়ান বাহিনীর ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে, রাশিয়ান বাহিনী আর যুদ্ধ করতে চাচ্ছে না, এই বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে গেছে-এই সব কথা প্রচার করে ইউক্রেন বাহিনী কিংবা দেশকে চাঙ্গা রেখে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চাচ্ছে পশ্চিমারা। এদিকে রাশিয়া যুদ্ধের শুরু থেকে বরাবরই বলে আসছে এই যুদ্ধে তারা পরিকল্পনা মোতাবেকই এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য অর্জন হবেই। তারা ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর অবকাঠামোগুলি একে একে গুড়িয়ে ক্রমশঃই লক্ষ্য অর্জনের দিকে যাচ্ছে। পশ্চিমারা এই যুদ্ধে রাশিয়ার বিপক্ষে সরাসরি অংশ গ্রহন না করলেও নানা অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রাশিয়াকে সারা দুনিয়া থেকে আলাদা করে ফেলেছে। ইউক্রেনকে তারা অর্থ, অস্ত্র ও সাহস দিয়ে যাচ্ছে যাতে করে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এই যুদ্ধের এক পক্ষে রয়েছে রাশিয়া আর তার বিপক্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমারা। অন্যভাবে বলা যায় একদিকে রাশিয়া আর অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সারা দুনিয়া। সময়ই বলে দিবে এই যুদ্ধে কে জিতবে, কে হারবে।

ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও স্থানে রাশিয়ার চতুর্মুখী হামলা

রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযানের ১৮তম দিনে চারদিকে থেকে হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার ব্যপক ক্ষতি সাধন করেছে । রাশিয়া আগে থেকেই ঘিরে ফেলেছে খারকিভ, চেহেরনিভ, সুমি ও মারিউপোল। অভিযানের শুরু থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলি প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাও বিমান বন্দরসহ অকেজো করে দিয়েছে। পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায় রাশিয়ার সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকন্ঠে থেকে কিয়েভে অবস্থিত ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনায় ব্যপক হামলা চালাচ্ছে। একের পর এক মিশাইল হামলায় কিয়েভ এখন বিপর্যস্ত। ইউক্রেনীয় বাহিনীও কিয়েভের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রুশ সেনাবহর লক্ষ করে হামলা চালাচ্ছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারনা এই সপ্তাহেই রাশিয়ার হাতে কিয়েভের পতন ঘটবে। রাশিয়া তার লক্ষ্য হাসিলে ধীরে ধীরে কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উত্তরপূর্ব, উত্তর ও উত্তরপশ্চিম দিক থেকে কিয়েভকে ঘিরে ফেলেছে রাশিয়ান সেনা বহর। অপরদিকে ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলেও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এদিকে গতকাল ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে পোলল্যান্ড সীমান্তের কাছে লিভিভে ইউক্রেনের একটি সামরিক ট্রেনিং শিবিরে বিমান হামলা চালিয়ে সেটিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। এই ঘাটিতেই নেটো সৈন্যদের সামরিক প্রশিক্ষন দেওয়া হত। এছাড়াও গতকাল রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলে কয়েকটি বিমান ঘাটিতে হামলা চালিয়ে ব্যপক ক্ষতিসাধন করেছে। রাশিয়া এখন সারা ইউক্রেনেই হামলা জোরদার করছে। ইতি মধ্য প্রায় ৩০ লক্ষ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে পোল্যান্ডসহ পাশের দেশগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিডিয়া যুদ্ধ করছে পশ্চিমারা

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে সৃষ্ট পূর্ব ইউরোপের একটি স্বাধীন দেশ ইউক্রেন। পূর্ব থেকেই জাতিগতভাবে ইউক্রেনের ওপর প্রভাব রয়েছে রাশিয়ার। প্রযুক্তির দিক থেকে ইউক্রেন অনেক শক্তিশালী। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অনেক উন্নয়ন ও উত্থান এই ইউক্রেনকে কেন্দ্র করেই হয়েছে। এখানে রয়েছে চেরনোভিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইউক্রেনের ৫০% মানুষ রুশ ভাষায় কথা বলে। রাশিয়ার প্রতিও রয়েছে ইউক্রেনের মানুষের টান। দুই দেশের মধ্য সামাজিক সম্পর্কও ভাল রয়েছে।

দুই দশকের বেশী সময় ধরে রাশিয়ার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ভ্লাদিমির পুটিন। পশ্চিমারা রাশিয়াকে বাঙ্গতে ও পুটিনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা করে আসছেন। তারা নানা তুচ্ছ অজুহাতে পুটিন তথা রাশিয়াকে বিব্রত করার অবিরাম চেষ্টা করে আসছেন। পূর্ব ইউরোপের সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিকে একে একে নেটোতে যোগদান করিয়েছেন নানা কুট কৌশলে। কিন্তু ভেলারুশ ও ইউক্রেনকে এখনো নেটোতে যোগদান করাতে পারেননি। সম্প্রতি ভলোডিমীর জেলোনেস্কীর সরকার পশ্চিমাদের ফাঁদে পা দিয়ে নেটোতে যোগদানে রাজি হয়েছে। আর এইটা নিয়েই রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের জেলোনেস্কীর সরকারের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। নানাভাবে ইউক্রেনকে কনভিন্স করতে ব্যর্থ হয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের জেলোনেস্কী সরকারকে উৎখাতের ছক আটে।

ইউক্রেন ভূগৌলিক ও রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমাদের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার পাশের এই দেশটিকে নেটোর নিয়ন্ত্রনে নিয়ে রাশিয়াকে আরও চাপে ফেলতে চাইছে পশ্চিমারা। রাশিয়ার শক্তি কমাতে পশ্চিমারা অনেক আগে থেকেই নানা কুটকৌশল অবলম্বন করে আসছে। ইউক্রেনে যাতে নেটো তথা পশ্চিমারা তথা আমেরিকা ঘাটি করতে না পারে সেই জন্যই জেলোনেস্কী সরকারকে উৎখাত করতে যুদ্ধে নেমেছে রাশিয়া। দীর্ঘ দিন ধরে রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকা পুটিনকে কোনভাবেই দমাতে পারছে না পশ্চিমারা। পশ্চিমারা নানা কুটচালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরী করেছে। এখন এই পশ্চিমারাই আবার ইউক্রেনের জন্য মায়া কান্না করছে। এই সবই হচ্ছে রাজনীতির অংশ।

মিডিয়ার মাধ্যমে রাশিয়াকে বহুমাত্রিক দিক দিয়ে চাপে রেখেছে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা। বিবিসি, সিএনএন ও আরও অনেক শক্তিশালী মিডিয়ার মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অবরোধ দিয়ে রাশিয়াকে সারা দুনিয়া থেকে আলাদা করে ফেলেছে তথাকথিত পশ্চিমারা। রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংশ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অপরদিকে ইউক্রেনের জন্য মায়াকান্না করে যাচ্ছে।

স্বাধীন দেশ ইরাকে হামলা চালিয়ে সাদ্দামকে উৎখাত করতে কত মানুষের প্রান কেড়ে নিয়েছে আমেরিকা। লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে হত্যা করেছে আমেরিকা। আফগানিস্তানে হাজার হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমেরিকা। সিরিয়ায় রক্তের হুলি খেলা খেলছে আমেরিকা ও তার মিত্ররা। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তানসহ আরো অনেক দেশ আজ অশান্ত শুধু পশ্চিমাদের কারনে। কোথায় ছিল তখন মায়া কান্না, কোথায় ছিল তখন মানবতা। অথচ আজ তারা ও তাদের মিডিয়া মায়াকান্না করছে ইউক্রেনের জন্য। এর সবই রাজনীতির অংশ মাত্র।

বাপ্পী লাহিড়ীর জীবন বৃতান্ত

বাপ্পী লাহিড়ী পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে সমৃদ্ধ এক পরিবারে ২৭ নভেম্বর ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আলোকেশ বাপ্পী লাহিড়ী। তার বাবা অপরেশ লাহিড়ী ছিলেন বাংলা সঙ্গীতের একজন জনপ্রিয় গায়ক। মা বাঁশরী লাহিড়ীও ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও গায়িকা যিনি শাস্ত্রীয় ঘরাণার সঙ্গীত এবং শ্যামা সঙ্গীতে বিশেষ পারঙ্গমতা দেখিয়েছিলেন।

বাপ্পী লাহিড়ী হিন্দী চলচ্চিত্র শিল্প-সহ বাংলা গানের গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক হিসেবে দুই বাংলাসহ ভারতীয় উপমহাদেশে পরিচিত। সঙ্গীত জগতে তিনি বাপ্পী-দা নামেও সমধিক পরিচিত। তিনি নিজের লিখিত অনেকগুলো গান স্বকণ্ঠে ধারণ করেছেন। ১৯৮০’র দশকের চলচ্চিত্র বিশেষ করে ডিস্কো ড্যান্সার, নমক হালাল এবং শরাবী’র ন্যায় বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করে তিনি সমাদৃত হন।

বাপ্পী লাহিড়ীর সংসারে তার স্ত্রী – চিত্রাণী, কন্যা – রিমা এবং পুত্র – বাপ্পা রয়েছে। তিনি অলঙ্কারের ভক্ত হিসেবে পরিচিতি। সাধারণতঃ তাকে পোশাকের সাথে স্বর্ণের অলঙ্কার এবং কালো চশমা পরিধান করতে দেখা যায়। বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কিশোর কুমার ছিলেন তার মামা।

পিতা-মাতার সান্নিধ্যে থেকেই তিনি সংগীতকলায় হাতে খড়ি ও প্রশিক্ষণ নেন। বাপ্পী তিন বছর বয়সেই তবলা বাজাতে শুরু করেন। তিনি ১৯ বছর বয়সে দাদু (১৯৭২) নামক বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ করেন। বাপ্পী লাহিড়ী ১৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে চলে যান। ১৯৭৩ সালে হিন্দী ভাষায় নির্মিত নানহা শিকারী ছবিতে তিনি প্রথম সংগীত রচনা করেন। এরপর তাহির হুসেনের জখমী (১৯৭৫) চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এতে তিনি সংগীত রচনাসহ গায়কের দ্বৈত ভূমিকায় অংশ নেন। অসম্ভব কিছু নয় শিরোনামে মোহাম্মদ রফি এবং কিশোর কুমারের সঙ্গেও দ্বৈত সংগীতে অংশ নেন। তার পরের চলচ্চিত্র হিসেবে চালতে চালতে ছবিটির গানও দর্শক-শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি রবিকান্ত নাগাইচের সুরক্ষা ছবিতে গান গেয়ে সংগীতকার হিসেবে জনপ্রিয়তা পান।

মিঠুন চক্রবর্তী’র ডিস্কো নাচের চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮০’র দশকে মিঠুন চক্রবর্তী এবং বাপ্পী লাহিড়ী একসাথে বেশ কিছু ভারতীয় ডিস্কো চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এছাড়াও, তিনি দক্ষিণ ভারত থেকে পরিচালিত অনেক হিন্দী চলচ্চিত্রের গানে অংশ নিয়েছেন। সমগ্র ভারতবর্ষে তিনি নিজেকে ‘ডিস্কো কিং’ নামে পরিচিতি লাভে সমর্থ হন। ১৫ই ফেরুয়ারী দিবাগত রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে মিজোরামে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

রিখটার স্কেলে ভূকম্পের তীব্রতা ছিল ৫.৪। ভারতের সময় বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে আর বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশের চট্রগ্রাম অঞ্চলেও এই কম্পন অনুভূত হয়।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিজোরামের চম্পাই থেকে ৫৮ কিলোমাটির দক্ষিণ-পূর্বে। যার গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার। ভারতের কোচবিহার, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট, মালদাসহ পুরো উত্তরাঞ্চলেই এই কম্পন অনুভূত হয় বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

প্রবল বর্ষণে কুয়েতে জনজীবন বিপর্যস্ত, সাধারন ছুটি ঘোষনা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে ভারি বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অনেক হাইওয়ে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সোমবার সারাদেশে সাধারন ছুটি চলছে। রবিবার কুয়েতের কোন কোন এলাকায় ৬০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে যা বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের অর্ধেকেরও বেশী।

বৃষ্টির পানিতে দেশটির অনেক এলাকায় জলমগ্ন হয়ে লেকের আকার ধারন করেছে। রাস্তায় কয়েক হাজার গাড়ি পানিতে ডুবে আছে। বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র-কুয়েত টাইমস।

এক কাপ চায়ের দাম মাত্র সাড়ে সাত লাখ টাকা! কিন্তু কেন?

ভাবতেই অবাক লাগে এক কাপ চায়ের দাম কি করে সাড়ে সাত লাখ টাকা হয়। এই চায়ের এক গ্রামের দাম সম পরিমান সোনার দামের ৩০ গুন বেশী। আসলেই এই চায়ের অস্তিত্ব আছে। অত্যান্ত বিরল জাতের এই চায়ের নাম ‘দ্য হুং পাও’। আর এই চা উৎপন্ন হয় চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উয়ী পর্বতে। সারা বিশ্বের মধ্য একমাত্র চীনেই এর ৬টি গাছ রয়েছে। এর গুন ও মানের কারনে একে চায়ের রাজা বলা হয়।

২০০৬ সালে চীন সরকার এই ৬টি চা গাছের জন্য ১১৭ কোটি টাকার বীমা করেছে। ৩শ বছর ধরে চীনে এই চা চাষ হয়ে আসছে। এই চায়ে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী ক্যাফিন, থিওফিলিন, পলিফেনলস এবং ফ্ল্যাবোনয়েড আছে। অত্যান্ত সুগন্ধি এই চা খেলে ত্বকও ভাল থাকে। মাটির পাত্রে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে এই চা তৈরী করতে হয়। সূত্রঃ আনন্দ বাজার পত্রিকা।

মিয়ানমারে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে সামরিক শাসক

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী এক নীরব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকে সেদেশে বিক্ষোভ দানা বেধে উঠতে থাকে। এই বিক্ষোভ দমাতে সামরিক বাহিনী প্রথমে ফেইসবুক সেবা বন্ধ করে দেয় সেদেশে। বিক্ষোভ ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় পরে ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার সেবাও বন্ধ রাখে সেনাবাহিনী। আজ আবার দেশটির ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচীকে আটক করে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে সেনাবাহিনী। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুচীকে ১৫ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আটক রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনা কর্মকর্তারা। সুচীর দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের অধিকাংশকেই ইতিমধ্য গ্রেপ্তার করেছে সামরিক সরকার। সেনাবাহিনীর এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারন করেছে বিশ্বনেতারা। জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে।

১৯৬২ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে প্রায় ৫০ বছর যাবৎ মিয়ানমার শাসন করে আসছে। কয়েক বছর আগে মিয়ানমারে আংশিক গণতন্ত্র ফিরে আসেলেও তা পূর্ণতা লাভের আগেই সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে।

সুচীকে আটক, মিয়ানমারে আবার সামরিক শাসন জারি

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচীসহ বেসামরিক নেতাদের আটক করে সেদেশে ১ বছরের জন্য জরুরী অবস্থা জারি করে সামরিক শাসন জারি করা হয়েছে। সোমবার ভোরে সূচীসহ অধিকাংশ বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সুচীসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত নভেম্বরে অনুষ্টিত নির্বাচনে সুচীর দল কারচুপি করেছে। সেই নির্বাচনে সূচীর দল একক সংখ্যা গরিষ্টতা পেয়েছিল।

সামরিক শাসন জারি করে দেশটির ক্ষমতা গ্রহন করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইংয়। সুচীকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে এক বছরের জন্য দেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেওয়া হয় বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়। গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অং সান সুচীর দলের সাথে বিরোধ চলে আসছিল।

এদিকে সুচীকে গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব। মিয়ানমারে গনতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষকে আহবান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক শাসককে সতর্ক করে সুচীর মুক্তি দাবি করেছে।

দিল্লিতে অবস্থিত ইসরায়িলের দূতাবাসের অদুরে বোমা হামলা

শুক্রবার বিকালে এ পি জে আব্দুল কালাম রোডে অবস্থিত ইসরায়িলের দূতাবাসের অদুরে এই বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। যে স্থানে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটেছে সেখান থেকে ইসরায়িলের দূতাবাস ১৫০ মিটার দুরে অবস্থিত। এই বিস্ফোরনে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ার সূত্র থেকে জানা গেছে। বিস্ফোরনের পরপরই সেখানে দমকল বাহিনীর কর্মীরা উপস্থিত হয়। সেই সাথে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর করীরাও সেখানে এসেছেন।

ফুটপাতে একটি ফুলের টবে আগে থেকেই রাখা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেড জাতীয় বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দুরে বিজয়চকে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল। ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দিল্লির পুলিশ এটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে।

মহামারীকালে পদত্যগ করলেন ইটালীর প্রধানমন্ত্রী

পদত্যগ করেছেন ইতালীর প্রধানমন্ত্রী গিওসেপ্পে কন্তে। মঙ্গলবার তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যগপত্র জমা দেন। গত সপ্তাহে তিনি আস্তাভোটে কোনক্রমে উতরে গেলেও সেদেশের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্টতা হারিয়েছেন। করোনা মহামারীর কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে শিল্পোন্নত এই দেশতিতে। ভেঙ্গে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি, বিপর্যস্ত সারাদেশ। করোনায় দেশটিতে এখনো প্রতিদিন গড়ে মারা যাচ্ছেন ৪০০ মানুষ। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৮৬ হাজারের ওপরে। আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ লক্ষ পেড়িয়ে গেছে। মহামারী ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারার কারনেই তিনি পদত্যগ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

তার জোট থেকে সরে গেছেন ইতালীর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দল। আর এ কারনে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সেদেশের প্রেসিডেন্ট আবারও তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারে। এই অবস্থায় কন্তে হয়ত তার জোটের পরিধি বাড়িয়ে আরও শক্তিশালীভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফিরে আসতে পারেন। এই অবস্থায় দেশটিতে পুনঃনির্বাচনও হতে পারে। তবে সব মিলেয়ে দেশটিতে তালমাতাল অবস্থা চলছে। ইতালীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশীও কাজ করছে। মহামারী ও অর্থনৈতিক মন্দার কারনে তারাও ভাল নেই।

চীনে স্বর্ণখনিতে আটকে পড়া ১১ জনকে উদ্ধার

গত ১০ই জানুয়ারী চীনের শানডং প্রদেশের হুসান স্বর্ণখনিতে এক বিস্ফোরণের পর খনির প্রবেশ মুখটি ধসে পড়েছিল। এর ফলে খনির ২০০০ ফুট নিচে আটকা পড়ে ২২ জন শ্রমিক। এদের মধ্য ১ জন মৃত্যুবরন করেছে খনির ভিতরেই। ১৪ দিন আটকা থাকার পর ১১ জনকে রোববার উদ্ধার করার খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। তবে বাকি ১০ জনের কি অবস্থা তা এখনো জানা যায়নি।

ঘটনার ১ সপ্তাহ পর্যন্ত আটকে পড়া শ্রমিকদের সাথে কোন রকম যোগাযগ করা যায়নি। গত ১৭ই জানুয়ারী খনির গভীরে ওপর থেকে একটি রশি পাঠানো হলে তাতে টান অনুভব করে উদ্ধার কর্মীরা। আর রশিতে বেধে একটি চিরকোট পাঠায় শ্রমিকরা। তখনই ১১ শ্রমিকের প্রানে বেঁচে থাকার কথা জানা যায়। পরে ড্রিল মেশিন(বড় ধরনের) দিয়ে ছিদ্র করে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে খাবার ও ঔষধ পাঠানো হয়।

আজ যখন ১১ জনকে উদ্ধার করে ওপরে উঠানো হয় তখন তারা বেশ ক্লান্তছিল। এবং এদেরকে অ্যম্বোলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি ১০ শ্রমিকের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানার চেষতা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। চীনে কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন খনিতে বিস্ফোরন ঘটে এবং তা খবরে শিরোনাম হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী একটি বিমান নিখোঁজ

শ্রীওইজায়া এয়ারের এই বিমানটি উড্ডয়নের ৪ মিনিটের মধ্যই রাডার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। তার আগে বিমানটি ১ মিনিটের কম সময়ে ১০ হাজার ফুট উপরে উঠে। শনিবার বিমানটি ৫০ জন যাত্রী নিয়ে রাজধানী জাকার্তা থেকে ওয়েস্ট কালিমান্টিন প্রদেশের পন্টিয়ানাক যাচ্চিল। রিলায়েবল ফ্লাইট ট্রেকিং সংস্থা ফ্লাইট ২৪ জানিয়েছে এসজে-১৮২ বিমানটি ১০০০০ ফুট ওপরে উঠার পর নিখোঁজ হয়।

বোয়িং ৭৩৭-৫০০ বিমানটি ২৭ বছরের পুরাতন একটি বিমান। ইন্দোনেশিয়ান বিমান সংস্থা শ্রীওইজায়া এয়া্র বিমানটি নিখোঁজের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে।

ভারতে হাসপাতালে আগুনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে। ভারতের স্থানীয় সময় রাত ২টার সময় মহারাষ্ট্রের ভান্ডারা জেলার একটি হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন লাগে । হাসপাতালটির নবজাতক ইউনিটে এই আগুন লাগলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১০ শিশু মারা যায়। এই সময় নবজাতক ইউনিটে ১৭ জন শিশু ছিল। ৭ জনকে হাসপাতালের কর্মীরা উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। শিশুদের বয়স ১ দিন থেকে ৩ মাসের মধ্য ছিল।

বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারনা করছে হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক জানিয়েছেন।সূত্রঃ আনন্দ বাজার পত্রিকা।

যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে প্রায় ৪ হাজার জনের মৃত্যু

দেশটিতে একদিনেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩৯২৭ জন। যা যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের মহামারীর শুরু থেকে একদিনে আক্রান্তের রেকর্ড। অপরদিকে দেশটিতে বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৮৯৬৭১ জন। জনহপকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষনা বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৯৭১৫৮৯৯ জন। অপরদিকে মোট মৃত্যুবরন করেছে ৩৪১৮৪৫ জন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থোনি ফাউসি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বড়দিনের ছুটিতে লোকদের সমাবেশের পরে শীতের মাসগুলোতে মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এখনো আসেনি। দেশটিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ লক্ষ মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটি মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

1 2 3 38