মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, জোয়ারি, ফন্দিবাজ, ফিকিরবাজরা মিশে গেছে যুবলীগেঃ

২০০৬ সালের শেষদিকে আওয়ামীলীগ ও তার সমমনা রাজনৈতিক দলগুলির নানা দাবি ও নানামুখী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-জামাত জোট সরকারের তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। ২০০৭ সালে সরকার নিয়ে চলে নানা নাটকীয়তা। ফলে এই সময়ে দুইবার তত্বাবধায়ক সরকারের আগমন ঘটে। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে জেলেও যেতে হয়। ২০০৭ সালেই জনমত জরিপে আওয়ামীলীগের জয়ের নিশ্চিত আভাস পাওয়া যায়। সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছিল ততই আওয়ামীলীগের জয়ের সম্ভাবনা র‍্যাপিডলি বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে জনগন নিশ্চিত হয়ে যায় যে আওয়ামীলীগই আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত জয় লাভ করবে। আর ঠিক এই সময় থেকেই আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনে নানা ধরন ও শ্রেনীর সুবিদাবাদী গোষ্টী অনুপ্রবেশ করতে থাকে। অবশ্য যদি বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা থাকতো তা হলে এই গোষ্টী হয়ত বিএনপিতেই অনুপ্রবেশ করতো। এরা হল এই দেশের ধান্ধাবাজ, ফিকিরবাজ, ফন্দিবাজ, চাঁদাবাজ, জোয়ারী, বালু ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী, বিশেষ বাহিনীর দালাল, দখলবাজ ইত্যাদি। নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য এদের দরকার সরকারি দলের ছত্রছায়া ও নেতা বনে যাওয়া।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে উপরোক্ত সুবিদাবাদীরা আওয়ামীলীগে ব্যপকভাবে অনুপ্রবেশ করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিশাল সংখ্যা গরিষ্টতা নিয়ে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। আর এই ধান্ধাবাজরা ক্রমে আওয়ামীলীগে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। এরা নানান সময়ে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নানা ধরনের উপহার কিংবা আর্থিক সহযোগীতা করে নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের ভাগ দিতে থাকে বিশেষ শ্রেনীর নেতাদের। এদের অবৈধ ব্যবসার (মাদক ব্যবসা, জোয়া, অবৈধ বালু ব্যবসা, অটো স্ট্যান্ডের চাঁদা, দালালী, সাধারন মানুষকে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা, জমি দখল ইত্যাদি) উপার্জিত টাকা মাসে মাসে বিশেষ বিশেষ নেতা ও স্থানে বন্টন করে এরা নেতাদের ও বিশেষ স্থানের নজরে আসে। এক পর্যায়ে এই সমস্ত ধান্ধাবাজরা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংঠনের সভাপতি কিংবা সেক্রেটারী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে যায়। আর এখানে সংগঠনের ত্যগী নেতারা হয় বঞ্চিত। এভাবে টাকার বিনিময়ে পদ বিতরন করে অযোগ্য ও সুবিদাবাদীদের দলে স্থান দেওয়া নিজের পায়ে কুড়াল দেওয়ার সামিল। অবৈধ ব্যবসার টাকার গরম দেখিয়ে এরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকা এলাকায়। এদের মাধ্যমে নানাভাবে সাধারন মানুষ হচ্ছে নাজেহাল।

এই সমস্ত নব্য আওয়ামীলীগারদের কাছে দল ও ত্যগী নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে আছে। এদের অপকর্মের কারনে আওয়ামীলীগ ও সরকারের বদনাম হচ্ছে। বিগত ১২/১৩ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার সারাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করলেও সবকিছু ম্লান হয়ে যাচ্ছে এই সমস্ত নব্য ও সুবিদাবাদীদের অপকর্মের কারনে। এরাই দলে উপদল সৃষ্টি করছে। দলের ভিতরে পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করছে। এদের কারনেই স্থানে স্থানে আজ আওয়ামীলীগ বিব্রত। নিজের স্বার্থ হাসিলের ব্যঘাত ঘটলেই নেতা পরিবর্তন করে। ভাগাভাগী নিয়ে বাধাগ্রস্ত হলেই নেতার বিরুদ্ধে চলে যায়। অন্য নেতার আশ্রয় নেয়। এভাবেই সারাদেশে এই শ্রেনী দলীয় কুন্দল সৃষ্টি করে চলেছে।

এই শ্রেনী রাজনীতি বলতে বুঝে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, জোয়ার আসর বসিয়ে টাকা কামানো, অটো স্ট্যান্ডের থেকে চাঁদা আদায়, মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, ওয়ারিশ নিয়ে জামেলা পাকানো, জমি বেচা কেনায় বাধা সৃষ্টি করে উভয় পক্ষ থেকে টাকা কামানো, নারীঘটিত ব্যপার নিয়ে জামেলা পাকিয়ে টাকা কামানো, সালিশে টাকা খেয়ে এক পক্ষকে জিতিয়ে দেওয়াসহ আরও নানা ধরনের অপকর্ম। বিশেষ বাহিনীর সাথে সম্পর্ক রেখে সাধারন মানুষকে ধরিয়ে দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আবার ছাড়িয়ে আনাও এদের অবৈধ আয়ের অন্যতম উৎস। আর এই অবৈধ টাকার দাপটে এরা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। এলাকায় এরা দাপিয়ে বেড়াই দামি মটর সাইকেল কিংবা প্রাইভেট কার দিয়ে। এদেরকে সবসময়ই ঘিরে থাকে এদের সাঙ্গ পাঙ্গরা। অনেকটা সিনেমার ভিলেনের মত বাস্তবে এদের চাল চলন। এহেন গোষ্টী সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ‌দলও পরিবর্তন করে আবার নতুন সরকারি দলের হয়ে যায়। মুলতঃ এরাই বর্তমান সরকারের ইমেজ নষ্টের জন্য দায়ী।

এই কুলাঙ্গার অনুপ্রবেশকারীরা অধিক মাত্রায় ঢুকে পড়েছে যুবলীগে। দেশের ৯০ শতাংশ অপকর্ম এই যুবলীগ নামধারীরাই করে থাকে। ফলে যুবলীগের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে যদি এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে যুবলীগকেই গিলে ফেলবে এই দানবেরা। এদেরকে যারা নেতা বানায় তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরি।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুবলীগ নামধারী এই কুলাঙ্গাররা মূর্খ, অনেকে নিজের নাম লেখা দূরে থাক কখনো স্কুলের বারান্দায়ও যায়নি। এদের অনেকে আবার রাস্তায় বড় হয়েছে। অথচ শুধু মাত্র অবৈধ ব্যবসার আয়ের ভাগাভাগির মাধ্যমে কিছু লোভী নেতাদের ম্যানেজ করে এরা যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের বড় বড় পদ দখল করে আছে। রাজনীতিকে এরা টাকা কামানোর মেশিন মনে করে। এরা যুবসমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে। নিজ দল ভারি করার জন্য নিরীহদের দলে নিয়ে অবৈধ কাজে লাগাচ্ছে। এদের দ্বারা সমাজ হচ্ছে কলুষিত। এরা দেশের শত্রু,জাতির শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করে দল থেকে বের দিলে যুবলীগ আবার হারানো গৌরব ও ঐতিয্য ফিরে পেতে পারে। এদের বিষদাঁত এখনই ভেঙ্গে দিতে হবে। এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এখন আওয়ামীলীগের দাবি, সাধারন মানুষের দাবি, সময়ের দাবি। বিঃদ্রঃ একই সময়ে যদি বিএনপি কিংবা অন্য কোন দল ক্ষমতায় থাকতো তাহলে এই কুলাঙ্গাররা নানা কৌশলে এই দলগুলিতে অনুপ্রবেশ করে একই কাজ করতো।

চিত্রনায়িকা একার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা, মদ ও গাজা উদ্ধার

এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় চিত্রনায়িকা একাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই সময় তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা, বিদেশী মদ ও গাজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাতিরঝিলের বন্ধু নিবাসের ৯ তলায় থাকেন নায়িকা একা। শনিবার একই এপার্টমেন্টের অন্য একটি ফ্লাটে তার বাসা পরিবর্তনের কথা ছিল।

একার বাসায় হাজেরা বেগম(৩০) নামে এক গৃহকর্মী ছুটা কাজ করেন। আজ একা হাজেরা বেগমকে তার সাথে থেকে বাসা স্থানান্তরে সহযোগিতার কথা বললে সে অন্য বাসায় কাজ থাকায় অপারগতা প্রকাশ করে। এতে একা ক্ষিপ্ত হয়ে হাজেরাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করে। আশপাশের লোকজন হাজেরাকে নির্যাতনের খবর পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেয়। এই সময় যথারীতি পুলিশ এসে গৃহকর্মীকে উদ্ধার ও নায়িকা একাকে গ্রেপ্তার করে। একার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। এ পর্যন্ত ৩০টির মত ছবিতে অভিনয় করেছে এই অভিনেত্রী। মান্না-সাকিব খানসহ অনেক নায়কের সাথেই একা জুটিবন্ধ হয়েছে।

প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার সকাল ১১টা থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। এই প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিন শাখা। তাতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোসারফ হোসেন। বেলা ১২টার সময় মোসারফ হোসেনের বক্তব্যর শেষেরদিকে সমাবেশে বেশ উত্তেজনা চলছিল। সমাবেশ থেকে একদল বিএনপি নেতাকর্মী প্রেসক্লাবের বেড়া ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একই সময়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লাঠি চার্জে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সময় বিএনপি নেতা মোসারফ হোসেনসহ অন্যান্যরা প্রেসক্লাবের ভিতরে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা প্রেসক্লাব থেকে বাহির হয়ে চলে যান।

এদিকে কর্তব্যরত পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিনা উস্কানীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয়নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, নাজিম উদ্দিন আলম, হাবিবুন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

আরও এক মামলায় তারেক জিয়ার ২ বছরের সাজা

মানহানির এক মামলায় তারেক রহমানকে ২ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার নড়াইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম-২ আদালতের বিচারক আমাতুল মোর্শেদা এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে একই বছরের ২৪শে আগস্ট নড়াইলের হাকিম আদালতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানির এই মামলাটি করেছিলেন কালিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার শাহাজাহান বিশ্বাস।

রায়ে তারেক রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে রায়ে। ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আনিত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করেন উক্ত আদালতের বিচারক। এই নিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৪ টি মামলার রায়ে তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের জেল, মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় ৭ বছর জেল ও একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। উল্লেখ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক রয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনি মোসলেম উদ্দিনসহ নরসিংদীর ৩ মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল

মোসলেম উদ্দিনসহ নরসিংদীর ৩ মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল(জামুকা)। জামুকার ৭০তম সভার সুপারিশের আলোকে ৫২ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে গত ৫ জানুয়ারি গেজেট হয়েছে। আর রবিবার এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই ৫২ জনের মধ্য ৩ জন রয়েছে নরসিংদীর। এর মধ্য বঙ্গবন্ধুর খুনি মোসলেম উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি শিবপুর থানার দত্তেরগাও গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল হক খান। মোসলেহ উদ্দিনের সেনা গেজেট নম্বর-৬৪৩। অপর ২ জন হলেন নরসিংদী সদরের আবুল ফজল (গেজেট-৩৭৫২, সনদ-ম-১৮৫১৫), মো. জয়নাল (গেজেট-৩৭৫৯, সনদ-ম-১৮৫১৪)। বঙ্গবন্ধুর খুনি মোসলেম উদ্দিন পলাতক রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের খেতাব বাতিল করতে আদালতের নির্দেশনার আলোকে মোসলেম উদ্দিনের খেতাব এবং মুক্তিযোদ্ধার সনদ দুটোই বাতিল করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আত্নস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্নস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১মিঃ কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মাজেদের স্ত্রীসহ পরিবারের ৫ সদস্য কেন্দ্রীয় কারাগারে এসেছেন তার লাশ গ্রহন করার জন্য। তারা একটি সাদা প্রাইভেটকার যোগে ফাঁসির ঠিক কয়েক মিনিট পরেই কারাগারে এসে পৌছান। তবে এই ফাঁসির বিষয়ে তারা কোন মন্তব্য করেননি কিংবা সাংবাদিকদের কেহই তাদের কাছে পৌছাতে পারেননি আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেষ্টনির কারনে। আর গাড়ির ভিতর স্বজনদের ভাবলেশহীনভাবে বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল তাকে তার জন্মস্থান ভোলায় দাফন করা হবে। তবে ভোলার এমপি নুরুন্নবী শাওন ভোলায় খুনি মাজেদের লাশ দাফন করতে দিবেন না বলে ইতিমধ্যই জানিয়েছেন। কোথায় তার লাশ আসলে দাফন করা হবে তা এখনো জানা যায়নি।

বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ গ্রহন করেছেন এই মাজেদ। এই হত্যাকান্ডের সময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্টপুত্র শেখ রাসেল( ৮ ) মাজেদকে বলেন, ‘ আমি মার কাছে যাব।’ তখন মাজেদ বলেন ‘আই তোকে মার কাছে নিয়ে যায়’-এই বলেই রাসেলকে গুলি করে হত্যা করেন মাজেদ। পরবর্তী সময়ে মাজেদ নিজেই এই হত্যাকান্ডের কথা বিভিন্ন সভাসমাবেশ ও মিডিয়ায় তার জড়িত থাকার কথা দম্ভভরে স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পাড় হয়ে এই খুনিদের বিচার কার্য সম্পূর্ণ হয়। দীর্ঘ ২৩বছর মাজেদ ভারতে আত্নগোপন করে ছিল। অবশেষে তিনি ১৬ই মার্চ গোপনে ঢাকায় ফিরে আসেন ও ৬ই এপ্রিল ভোরে সিসিটিএন ইউনিট তাকে মিরপুরের সাড়ে ১১ নাম্বার থেকে গ্রেপ্তার করে। মাজেদের এই ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্ক মুক্তিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

আব্দুল মাজেদের ফাঁসি কার্করের সময় ঢাকার ডিসি, পুলিশ সুপার ও প্রধান কারা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ফাঁসির মঞ্চ ও জল্লাদ প্রস্তুত, যে কোন সময় মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

বঙ্গবন্ধুর আত্নস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (অবঃ) আব্দুল মাজেদের সাথে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেছেন তার পরিবারের ৫ সদস্য। আজ কারা কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তার সাথে সন্ধ্যায় দেখা করতে যান। ৫ সদস্যের এই দলে ছিলেন মাজেদের স্ত্রী, চাচা শ্বশুর ও শ্যালকসহ আরও ২ জন। বিকাল ৫টা ১৮ মিঃ তারা কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে কারাগার থেকে বের হয়ে যান তারা। সম্ভবত এটিই মাজেদের সাথে তাদের শেষ দেখা।

ফাঁসির মঞ্চ তৈরীও ইতিমধ্য সম্পূর্ন হয়েছে বলে কারা সূত্র থেকে জানা যায়। এদিকে ফাঁসি কার্যকরের জন্য ১০ সদস্যের একটি জল্লাদের দল প্রস্তুত রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ। জল্লাদ দলে রয়েছেন শাজাহান, আবুল, তরিকুল, সোহেলসহ ১০ জন। তবে ঠিক কখন তার ফাঁসি হবে তা এখনো যানা যায়নি। তবে প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে শনিবারই মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকর হতে পারে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদসহ সেনাবাহিনীর একদল পথভ্রষ্ট সদস্য। দীর্ঘদিন মাজেদ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্নগোপনে ছিলেন ফাঁসির দন্ড মাথায় নিয়ে। অবশেষে ৬ই এপ্রিল ভোরে মাজেদকে মিরপুরের সাড়ে ১১ নাম্বার থেকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এই মাজেদ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর নিজেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে দম্ভ করে এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

নরসিংদী জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

নরসিংদী জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন এ ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ও পরবর্তী ঘোষনা না দেওয়া পর্যন্ত তা চলবে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জেলা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে আজই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে দেশের অন্যান্য জেলা কিংবা পাশের জেলাসমুহ থেকে নরসিংদীতে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না এবং এই জেলা থেকেও কেউ পাশের কিংবা অন্য জেলায় যেতে পারবে না। দিনে রাতে সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে জরুরী সেবাসমুহ ও জরুরী কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল যথারীতি চালু থাকবে। বিভিন্ন জেলা থেকে এই জেলার প্রবেশমুখগুলি বন্ধ করে দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রন করা হবে। এতে যে কোন ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে নরসিংদী জেলার চারপাশে নারায়নগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ এই চারটি জেলা রয়েছে।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন জহিরুল ইসলাম টিটন জানান, নরসিংদী জেলায় ৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২২১ জন।

বঙ্গবন্ধুর আত্ন স্বীকৃত খুনী ক্যাপ্টেন মাজেদ গ্রেপ্তার

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

বঙ্গবন্ধুর আত্ন স্বীকৃত খুনী ক্যাপ্টেন (অবঃ) মাজেদ মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টায় তাকে মিরপুর সাড়ে ১১ নাম্বার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাউন্টার টেররিজম উইনিট তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে তাকে নিন্ম আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরনের আদেশ দেয়। পরে আদালত থেকে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আদালতে মাজেদ জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেছেন। সর্বশেষ ২২/২৩ বছর যাবৎ তিনি ভারতের কলিকাতায় ছিলেন।

খুনী মাজেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নিজেই নানা সময়ে স্বদর্পে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আত্নপক্ষ সমর্থনের সমস্ত প্রক্রিয়া ও সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তার আর আইনী কোন রাস্তা খোলা নাই বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। একমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া কোন পথ নাই। নিন্ম আদলত থেকে তাকে গ্রেপ্তারের নথি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে আজই। তার পরই শুরু হবে ফাঁসির প্রক্রিয়া। ধারনা করা হচ্ছে সপ্তাহ খানের মধ্যই তার ফাঁসির রায় কার্যকর হবে।

রাজধানীতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

রাজধানীর অলিগলির নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সুপারমল ও কাঁচা বাজার খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত। ঔষদের দোকানের ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ হবে না। এই নিয়ম সবাইকে মানতে হবে। আর কেউ নিয়ম ভঙ্গ করে দোকান খোলা রাখলে বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হবে। আজ মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এমনটিই জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান। তবে কাঁচা বাজার বলতে স্বীকৃত কাঁচা বাজারগুলিকেই বুঝানো হয়েছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬শে মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারন ছুটি চলছে। সরকার, বিভিন্ন সংস্থা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিবর্গ করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে নিজে বাঁচতে ও অপরকে বাঁচাতে নানা ধরনের পরামর্শ ও চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। সারা দেশেই বিপুল সংখ্যক মানুষকে এই বিধি নিষেধ মানছেন না বলে দেখা যায়।

আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে কি না তা জানাতে ‌নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

রবিবার দুপুরে হাইকোর্টে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানী শেষে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে ইতিপূর্বে আপিল বিভাগের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়া সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিয়ে থাকলে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না, শুরু হয়ে থাকলে সর্বশেষ কী অবস্থা- তা আগামী বুধবার বিকাল ৫টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আদালতকে জানাতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কেএম জহিরুল হকের সন্ময়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

ফটোঃ সংগৃহীত

এর আগে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে ও জামিনের জন্য হাইকোর্টের উক্ত বেঞ্চে দুটি আবেদন করা হয়। আজ শুনানী শেষে বিচারকদ্বয় উপরোক্ত আদেশ দেন। আগামী বৃহস্পতিবার দুটি আবেদনের আদেশের দিন ধার্য করেছে উক্ত আদালত।

যে কারনে শুক্রবার খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান তার স্বজনরা

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

দুই বছরের অধিক সময় অতিক্রান্ত হল খালেদা জিয়া জেলে আছেন। তার কারাগারে যাওয়ার পর থেকে অধ্যবদি বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় প্রধানের মুক্তি নিয়ে জোড়ালো কোন ভুমিকা দেখা যায়নি। দল ও পরিবার খালেদা জিয়া জেলে যাবার পর থেকেই বলে আসছে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ্য। যদিও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সরকারী ডাক্তাররা বলে আসছেন খালেদা জিয়া ভালই আছেন। তিনি যতটুকু অসুস্থ্য তা অনেক আগে থেকেই বহন করে আসছেন এবং বাকিটা তার বার্ধক্যজনিত কারনে। বয়োবৃদ্ধ হলে মানুষের যে সমস্ত সমস্যা হয়ে থাকে বেগম জিয়ার মধ্যেও সে সমস্ত সমস্যা বিদ্যমান।

ফাইল ফটো

কিন্তু বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে জেলে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে খালেদা জিয়া দিন দিন আরোও অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। সরকার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না করে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। এমন আরো অনেক অভিযোগ দলও পরিবারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। বিএনপি মনে করেছিল খালেদা জিয়া জেলে গেলে তার মুক্তির জন্য বিএনপি সারাদেশে তীব্র গন আন্দোলন শুরু করবে। আর সরকার আন্দোলনের চাপে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে। কিন্তু বাস্তবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে তেমন কোন কর্মসূচীই দিতে পারেনি বিএনপি। আর জনগন তাতে অংশ গ্রহন তো অনেক দুরের কথা। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনী লড়াই চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।

সরকারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই বলা হচ্ছে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি আদালতের ব্যপার। আদালতের মাধ্যমেই বেগম জিয়ার সাজার রায় হয়েছে। দুর্নীতির দায়ে বেগম জিয়ার সাজা হয়েছে। তাই খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভর করে না। পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের বলা হচ্ছে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ্য। বিদেশে নিয়ে তার উন্নত চিকিৎসার দরকার। কিন্তু কোন ভাবেই খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে পারছেন না তারা। এমতাবস্থায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে যে কোনভাবেই মুক্ত করতে চাচ্ছেন। এমনকি তারা প্যারোলে হলেও খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করতে চাচ্ছেন। আর প্যারোল হল নিজ দোষ স্বীকার করে মুক্তি চাওয়া। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাইলে সরকার তা বিবেচনা করবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির ইংগিত পেয়েই অন্য কোন উপায় না থাকায় তারা প্যারোলে মুক্তির চেষ্টা করছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। আর এই ব্যপারে আগে খালেদা জিয়ার সায় না থাকলেও শুক্রবার স্বজনদের সাথে প্যারোলে মুক্তির ব্যপারে সম্মতি দিয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। তাই স্বজনরা শুক্রবার খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে বের হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের উত্তর দেননি। কারন ইতিপূর্বে যতবারই স্বজনরা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ততবারই তারা সাংবাদিকদের বলেছেন খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাননি এবং চাবেনও না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দুটি পথ

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় ২২ মাস ধরে জেল খাটছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বেগম জিয়া জেলে যাবার পর বিএনপি তার মুক্তির জন্য সরকারের ওপর তেমন কোন চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। এমনকি বড় ধরনের কোন সমাবেশ কিংবা মিছিল কিংবা চোখে পড়ার মত তেমন কোন কূটনৈতিক চাপও প্রয়োগ করতে পারেনি দলটি। তবে তারা শুধু বলে আসছে রাজনৈতিক মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সুনিদৃষ্ট দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘদিন আদালতে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সাজা সাবস্ত হয়েছে। এতে সরকারের কোন হাত নেই।

প্রথমদিকে মনে হয়েছিল খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হলে তাকে মুক্ত করার জন্য বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। কিন্তু বাস্তবে তা চোখে পড়েনি। এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয়টি সামনে এনে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্রচারনা চালায় বিএনপি। কিন্তু তাতেও সফল হয়নি তারা। পরে আইনগত বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসে খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ খুজতে থাকে দলটি। তারা খালেদা জিয়ার জামিন ও মুক্তির ব্যপারে একাধিক আইনী প্রদক্ষেপ গ্রহন করে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধানবিচারপতির নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বেঞ্চেও খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যত হয়। এর ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তি বা জামিনের সব পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

 

খালেদা জিয়ার বর্তমান বয়স প্রায় ৭৪। এই বয়সে এমনিতেই মানুষ নানা শারীরিক সমস্যায় থাকে। ১৯৯০ ও ২০০২ সালে দুইবার খালেদা জিয়ার হাটু প্রতিস্থাপন হয়েছে। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে এরূপ প্রতিস্থাপন দীর্ঘদিন হওয়ায় এমনিতেই তাতে নানা সমস্যা থাকার কথা। এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার হার্ট ও কিডনীতেও সমস্যা রয়েছে। বাতের সমস্যায়ও দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তিনি। তিনি এখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে উচ্চ শক্তি সম্পূর্ণ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে বেগম জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি চিকিৎসা করাচ্ছেন বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন। ইতিমধ্য সুপ্রিম কোর্ট থেকে আদেশ দেওয়া হয়েছে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য।

তবে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে আইনগতভাবে না দেখে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করায় জটিলতা আরো বেড়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে নিয়ে দলের ভিতরও রাজনীতি চলছে। খালেদা জিয়া জেলে থাকলে হাইকমান্ডের কারো কারো সুবিদা হয়। এই জন্য একটি পক্ষ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাচ্ছেন না বলেও অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। দলের ভিতরে এনিয়ে চলছে দ্বন্দ্ব। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির ব্যপারে। কিন্তু বিএনপি এটিতে সম্মত হচ্ছে না। বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারবেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারনে বিএনপি তাতে সায় দিচ্ছে না। তবে খালেদা জিয়া যে গুরুতর অসুস্থ্য তা ইতিমধ্য মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থ্যতার বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চায় বিএনপি। এ থেকে জনগনের সহানুভুতি লাভের আশা করছে দলটি। কিন্তু বাস্তবে তাতে কোন ফায়দা হচ্ছে বলে মনে হয় না।

সব কিছু বিবেচনা করলে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দুটি পথই খোলা আছে- একটি প্যারোলে। আর অপরটি সরকারের পতন ঘটিয়ে। কিন্তু সরকারের পতন ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মত সামর্থ বিএনপির আছে বলে মনে হয় না। খালেদা জিয়ার জীবন থেকে রাজনীতি বড় নয়। এই বিষয়টি তারেক জিয়াকে বুঝতে হবে।  রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নাই। কি হয় তা দেখতে আরো অপেক্ষা করতে হবে।

 

খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানীকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার কি ঘটতে পারে

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানী হবে বৃহস্পতিবার। খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হবে নাকি জামিন না মঞ্জুর করা হবে- এই নিয়ে অভিজ্ঞ মহলে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষন। আর এই বিষয়টি নিয়ে সারাদেশেই চলছে আলোচনা। তবে সাধারন মানুষের মধ্য নামিন মঞ্জুর কিংবা না মঞ্জুর নিয়ে ভিন্নধর্মী আলোচনা চললেও বিষয়টি আইনগত হওয়ায় আইনীভাবেই এর নিস্পত্তি করবে আদালত।

হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করা হলে নভেম্বরে আপিল করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের আপিল বিভাগ জামিন আবেদন শুনানীকালে খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়ে ৫ই ডিসেম্বর জামিন শুনানীর পরবর্তী দিন ধার্য করে। এদিন শুনানীর শুরুতে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আদালতকে জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের কিছু পরীক্ষা হয়েছে এবং কিছু পরীক্ষা বাকি আছে। তাই বিএসএমএমইউ রিপোর্ট প্রস্তুত করতে পারে নাই। ফলশ্রুতিতে তিনি সময়ের আবেদন করেন। এই সময় খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা এর তীব্র বিরোধীতা করে ও হট্রগোল শুরু করে। এই পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ সদস্যের বেঞ্চ শুনানীর পরবর্তী তারিখ ১২ই ডিসেম্বর ঘোষনা করলে এজলাস কক্ষে তীব্র হট্রগোল শুরু হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা শ্লোগান দিতে থাকে খালেদা জিয়ার জামিনের দাবিতে। এজলাস কক্ষের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয় তারা। ফলে বাহির থেকে ভিতরে ও ভিতর থেকে বাহিরে কেউ আসা যাওয়া করতে পারছিলা না। এক পর্যায়ে হট্রগোল থামাতে ব্যর্থ হয়ে বিচারক গন এজলাস ত্যগ করেন। এভাবে প্রায় ঐদিন দুপুর পর্যন্ত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত কক্ষ অবরুদ্ধ করে রাখে। এই সময় অন্যান্য মামলার শুনানীও বন্ধ থাকে।

খালেদা জিয়ার জামিনকে কেন্দ্র করে বিএনপি থেকে নানা ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন গৃহীত না হলে এক দফার আন্দোলনে যাবেন বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের হাইকমান্ডের অন্যান্য নেতারা বলে আসছেন। সরকারের পক্ষে থেকেও বলা হচ্ছে খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়া না পাওয়া আদালতের ব্যপার। এই বিষয়টি রাজপথে নিয়ে এসে কেউ অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখলে রাজনৈতিকভাবে তা মোকাবেলা করা হবে। অথাৎ হার্ড লাইনে যাবার ইঙ্গিত প্রদান করছেন আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা।

গত ফেব্রুয়ারী থেকে জেলে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তেমন কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। কার্যত বিএনপির রাজনৈতিক গন্ডি অনেক ছোট হয়ে গেছে। তাই আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া জামিন না পেলেও বিএনপি তেমন কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না। তবে শেষ বলতে কিছু নাই, তার জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানী নিয়ে আদালতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হট্রগোল

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানী নিয়ে ব্যপক হট্রগোল হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের এজলাস কক্ষে হট্রগোল করলে বিচারকাজ বিঘ্নিত হয়। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেন বলেন, সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার। এজলাসের ভিতরে হট্রগোল না থামলে প্রধান বিচারপতিসহ ৬ বিচারক এজলাস ত্যগ করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের ওপর মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানির শুরুতে প্রধান অ্যাটর্নি মাহবুবে আলম আদালতকে জানান, খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্টের কয়েকটি এখনো বাকি আছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চলমান আছে, তাই সময়ের আবেদন করেন। আদালত তখন আগামী ১২ই ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন। এই সময় আদালতে উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতে হৈচৈ শুরু করেন ও জামিন শুনানী আরো আগে নিয়ে আসতে চিৎকার করতে থাকেন। তারা এজলাস কক্ষের প্রধান দরজা বন্ধ করে ভিতর/বাহিরে আসা যাওয়ায় প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেন। এই সময় আদালত কক্ষে অচল অবস্থা সৃষ্টি হলে প্রধান বিচারপতিসহ ৬ বিচারক এজলাস ত্যগ করেন।

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানীকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ, মাহবুব উদ্দিন খোকন, নিতাই রায় চৌধুরী ও আরো অনেকে। সরকারের পক্ষে ছিলেন, প্রধান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বারের সভাপতি আমিন উদ্দিন।

মসজিদে যখন ইমাম সাহেব ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন তখন হুজুররা আন্দোলন করেন না কেন?

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

কয়েক মাস আগে রুপগঞ্জে মসজিদের ভিতর ৯/১০ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে ওই মসজিদেরই ইমাম। আজিমপুর কবর স্থান মসজিদের এক খাদেম আরেক খাদেমকে হত্যা করে লাশ চকির নীচে লুকিয়ে রাখে সম্প্রতি। রাজধানীর ইসলামপুরে এক খাদেম এক মুয়াজ্জিনকে গলা কেটে হত্যা করে মসজিদের ভিতরই। এ রকম অসংখ্য ঘটনার নজির আছে অতীতসহ সাম্প্রতিক সময়ে। এই ঘটনাগুলো ঘটার পর দেশের কোথাও আলেম সমাজ কোন আন্দোলন করেন না বিচারের দাবিতে? পবিত্র মসজিদের ভিতর এহেন ঘৃন্য ও ন্যক্কারজনক কাজের প্রতিবাদ করেন না কেন আলেম সমাজ? সেলুকাস! হেফাজতে ইসলাম তখন কোথায় থাকে?

কয়েকদিন আগে ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক হিন্দু যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যক করে তাতে নবীর নামে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। ফেসবুকের স্কিনস্যুট পরে ফেসবুকে শেয়ার করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ফেসবুক আইডি হ্যক করে দুইজন মুসলিম ছেলে। হ্যকারদ্বয় ফেসবুক আইডির মালিক শুভের কাছে ২০ হাজার টাকা চাদাও দাবি করে, নচেৎ এই পোষ্টটি ব্যপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় শুভকে। এই ঘটনার অপপ্রচার চালিয়ে একটি বিশেষ মহল বোরহানউদ্দিনের মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলে। এর ধারাবাহিকতায় গত রবিবার সকালে প্ররোচনাকারীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করে বোরহানউদ্দিনে। সমাবেশ শেষে পুলিশের ওপর আক্রমন করে সংঘবদ্ধ জনতা। এক পর্যায়ে আত্ন রক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে ৪ জন নিহত হয়। প্রতিবাদে চক্রান্তকারীরা সোমবারও সমাবেশ ডাকে বোরহানউদ্দিনে। আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তথাকথিত আলেম সমাজ সমাবেশ করতে না পারলেও স্থানীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের নামে সমবেত হয়। সেখানেও তারা উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখে।

এ সমস্ত ঘটনার পরমপরায় রাজধানীর বায়তুল মোকারম মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রধান করা হয় বিভিন্ন ইসলামী দলের পক্ষ থেকে।  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলা্মের পৃথক পৃথক বিক্ষোভ থেকে সরকারকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয় শুভর ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্য। অন্যথায় হেফাজতে ইসলাম আবার সাপলা চত্তরে সমাবেশ করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। সরকারকে গদি থেকে সরানোর হুমকি দেওয়া হয়। প্রশ্ন এই ফাঁসির রায় হল কখন? ঘটনা প্রবাহে মামলা হয়। সরকার তদন্ত করে এই চক্রান্তে জড়িত সকল পক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেছে। আজ জনগনের উচিৎ অপপ্রচার ও গুজবে কান না দিয়ে দেশকে সামনেরদিকে এগিয়ে নিতে সকল চক্রান্ত ভেদ করে সরকারকে সহযোগিতা অব্যহত রাখা।

সরকারের ভাল কাজের প্রশংসা না করলে ভাল কাজ করার প্রবনতা কমে যাবে

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

মন্দ কাজের নিন্দা ও ভাল কাজের প্রশংসা করার কথা পন্ডিতজনেরা বলে থাকেন। তবে সমাজ ও রাষ্ট্রে এর প্রতিফলন খুবই কম। সম্প্রতি আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলির কতিপয় নেতা দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে ব্যপক চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজিসহ আরো অনেক অপকর্মে লিপ্ত হয়ে আওয়ামীলীগের নীতি আদর্শের ওপর কালিমা লেপন করছে। বিগত দশ বছরে সর্ব ক্ষেত্রে ব্যপক উন্নয়ন হলেও কতিপয় নেতার অপকর্মে মানুষের কাছে আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি ব্যপকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। আওয়ামীলীগ ও সরকার কতিপয় নেতার অপকর্মের দায় নিতে চাচ্ছে না। ফলে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযান শুরু করেছে। দলীয় নেতাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে সাধারন মানুষ স্বাগত জানাচ্ছে। সাধারন মানুষের কাছে এই অভিযানের মধ্য দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। আওয়ামীলীগ ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনা নিজ দলের মধ্য থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে দলমত নির্বিশেষে সকল চাদাবাজ, দখলবাজ, ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ সকল অপরাধীকেই আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতে সরকার তথা আওয়ামীলীগ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কিন্তু শুধু বিরোধীতার খাতিরে কিছু দায়িত্বশীল বিরোধী দলীয় নেতা সরকারের এই ভাল উদ্যোগকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছে। অভিযানে যারা ধরা পড়েছে তারা অতীতে অন্য দল করলেও হালে সরকারী দলের নেতা বনে গেছে। ইতিমধ্যই ধরা পড়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ  মাহমুদ ভূইয়া, কৃষকলীগ নেতা ফিরোজ আলম, যুবলীগের নেতা পরিচয় দানকারী টেন্ডার মাফিয়া জিকে শামীম।। অভিযান চালিয়ে এদের হেফাজত থেকে র‍্যব বিপুল পরিমান নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে। এরা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবে ক্যাসিনোর ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এসমস্ত অবৈধ ব্যবসা ও চাদাবাজির টাকা বিদেশে পাচার করে আসছিল। এরা অবৈধ পন্থায় শতশত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এরা অপরাধী।

এই অভিযনে যারা ধরা পড়েছে তারা সকলেই হালে সরকার দলীয় লোক। কেবল মহামেডানের পরিচালক লোকমান হোসেন ও সেলিম প্রধান বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযনে যারা ধরা পড়েছে তারা সরকার দলীয় লোক হওয়ায় সরকার প্রধানের পদত্যগ দাবি করেছেন। অথচ তার দল যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা এমন অপকর্মকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন। যদি এমন ভাল কাজ করে সরকারের পদত্যগ করতে হয় তাহলে দেশে ভাল কাজের প্রবনতা কমে যাবে। তাই সকলের উচিৎ ভালকাজের সমর্থন করা।

অনেক দেরীতে হলেও সরকারের দুর্নীতি বিরোধী বর্তমান অভিযানে দেশবাসী খুশী

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নীতিতে এগুচ্ছে সরকার। এবার নিজ দলের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে আওয়ামীলীগ সরকার। আর এই অভিযানের ফলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুর্নীবাজরা ধরা পড়ায় দেশবাসী খুশী। কয়েকদিন আগে আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের মধ্য যারা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলবাজ রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসেছে ও একের পর এক অভিযান অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই অভিযানে যুবলীগের বড় বড় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ছেন।

গত সপ্তাহে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বাজেট থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই দুইজনের কর্মকাণ্ডে সরকার প্রধান বিব্রত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন। ছাত্রলীগের ইতিহাসে চাঁদাবাজির দায়ে ছাত্রলীগের দুই সিনিয়র নেতা বহিস্কারের ঘটনা বিরল। এর আগে শফিউল আলম প্রধানকে ৮ খুনের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

গত কয়েক দশক ধরে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ আরো কয়েকটি দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর সকল পর্যায়ের কিছু কিছু নেতা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করে আসছিল। কিন্তু আশির পর থেকে এই সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে কোন দলই কঠোর কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান সরকার এই সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। এর থেকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও শিক্ষা নিবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

এর পর শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুবলীগের সভাপতিসহ আরো কিছু নেতার কর্মকাণ্ডে বেজায় ক্ষেপেছেন।  দক্ষিনের সভাপতি সম্রাটের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তিনি তার বাহিনীর মাধ্যমে ঢাকা শহরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ অন্যান্য অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। তার এইসব কর্মকাণ্ডে দলের শুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছিল। এরই মধ্য এদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এইসব নেতারা ঢাকা দক্ষিনের মতিঝিল, ফকিরাপুল,সেগুনবাগিচা, কাকরাইল ও কমলাপুরসহ বিভন্ন স্থানে অবস্থিত নামিদামি ক্রিড়া সংস্থার ক্লাবগুলিতে অবৈধ জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। প্রতিরাতে এই সমস্ত ক্লাবে জুয়া খেলা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা কমিশন পেতেন দক্ষিন যুবলীগের কতিপয় শীর্ষ নেতা। উক্ত এলাকার ক্লাবগুলিতে মদ ও মাদক দ্রব্যের ব্যবসাও চলছে সমতালে।

গত কয়েদিন ধরে এর বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ ভূইয়াকে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিপুল পরিমান নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খালেদ ঢাকা শহরে ১৭টি কেসিনোর ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করতেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজিসহ তার বিরুদ্ধে আরো ব্যপক অভিযোগ রয়েছে। এই খালেদ এক সময় ফ্রিডম পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। যুবলীগে সে অনুপ্রবেশকারী।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর নিকেতন থেকে যুবলীগ নামধারী আরেক ডন গোলাম কিবরিয়া শামীমকে বিপুল পরিমান নগদ অর্থ, অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সময় তার সাত অবৈধ অস্ত্রধারী দেহরক্ষীকেও গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। সে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডারবাজি করে আসছিল। এই শামীম এক সময় যুবদলের নেতা ছিল বলে জানা গেছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর দল পরিবর্তন করে সে যুবলীগে যোগ দিয়ে তার টেন্ডারবাজি ও হুন্ডির ব্যবসা অব্যহত রাখে।

আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারীর কারনে উল্লেখিত কেসিনো ক্লাবগুলি বন্ধ করে সটকে পড়েছে অনেকে। গত রাতে রাজধানীর কলাবাগান ও ধানমন্ডির দুটি ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করেছে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কলাবাগান ক্রিড়াচক্রের ক্লাব থেকে বিপুল পরিমান মদ, নগদ টাকা ও জুয়া খেলার বিভিন্ন রকমের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‍্যব। এই সময় কলাবাগান ক্রিড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার তাকে আদালতে তুলা হলে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

সামনের দিনগুলিতে এই অভিযান অব্যহত থাকবে। এবং আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরো কঠোর হবে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্য বিভিন্ন অপরাধ জগতের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছে। অনেকে বিদেশে চলে গেছে। তবে এদের কারোরই শেষ রক্ষা হবে না বলেই ধারনা করা যাচ্ছে।

 

বরগুনার রিফাত হত্যা ও মিন্নিকে নিয়ে অপরাজনীতি এখন তুঙ্গে

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

গত ২৬শে জুন বরগুনা সরকারী কলেজের গেইটের সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে। এই সময় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিও ঘটনাস্থলে ছিলেন। এক পর্যায়ে মিন্নি তার স্বামীকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাচানোর জন্য প্রানপন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ঘটনার সময় আশেপাশে থাকা লোকজন এই ঘটনা দেখছিলেন। কিন্তু কেহই রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। এই লোমহর্ষক ঘটনার ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে জনমনে ব্যপক তুলপাড় সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার মূল নায়ক সন্ত্রাসী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ওরফে বন্ড-০০৭সহ জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন পোষ্টে দেখা যায় অনেকে নয়ন বন্ডসহ জড়িত সকলকে প্রকাশ্যে ফাসি কিংবা গুলি করে হত্যা করার দাবি জানায়। এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর মহল থেকেও চাপ আসে। ঘটনার ২/৩ দিনের মধ্যই নয়ন বন্ড ক্রস ফায়ারে নিহত হন। সারাদেশের মানুষ নয়নের ক্রস ফায়ারে নিহতের খবরে জারপরনাই খুশী হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে নয়ন বন্ড ক্রস ফায়ারে নিহত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।

তবে এই ঘটনাকে যারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল তারা আগে দাবি করলেও নয়ন বন্ডের নিহতের খবরে খুশী হতে পারেননি। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে যারা আগে নয়ন বন্ডের ক্রস ফায়ার দাবি করেছিল তারাই আবার ক্রস ফায়ারের বিরোধীতা শুরু করে। স্থানীয় সরকার বিরোধী রাজনীতিকরা হত্যাকান্ডটিকে কেন্দ্র করে রাজনীতি শুরু করে এবং সারাদেশে সরকার বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে এটি একটি মুক্ষম অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে থাকে।

মূলত রিফাত শরীফের হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয় সামাজিক কারনে। এতে প্রেম-ভালবাসা, বিয়ে, পরকিয়া ইত্যাদি জড়িত। কোন অবস্থাতেই এটি কোন রাজনৈতিক হত্যাকান্ড নয়। কিন্তু দুঃখের বিয়য় অপরাজনীতিবিদরা এটিকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। আর অনেকে জেনে আবার অনেকে না জেনে বিবেকের বিরুদ্ধে এটি নিয়ে রাজনীতি করছে ও নেতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছে। যা এই হত্যাকান্ডের সুষ্ট বিচারের অন্তরায়। এই সমস্ত বক্তব্য থেকে এই হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়ার সাথে যারা জড়িত তারা বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। তাই এই হত্যাকান্ডটি নিয়ে রাজনীতি কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়।

নয়ন বন্ড ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা আওয়ামীলীগের কোন পদ-পদবীতে নাই। কেউ কেউ জানিয়েছেন নয়ন বন্ড আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে সমর্থন করে। কিন্তু কেউ কেউ আবার নয়ন বন্ডকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন সে যুবলীগ কিংবা আওয়ামীলীগের বড় নেতা। নয়ন বন্ড একেবারেই নিন্ম মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ছেলে। তার লেখাপড়াও তেমন জানা নাই। তবে সে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে অনেকগুলি মামলা আছে। কিন্তু নয়ন বন্ডকে পত্র পত্রপত্রিকায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন সে দাউদ ইব্রাহিম কিংবা এরশাদ সিকদার কিংবা নুর হোসেন। এই সবের পিছনে রাজনৈতিক অভিলাস জড়িত। এরকম নয়ন বন্ড পাড়া মহল্লায় কিংবা গ্রামেগঞ্জে ভুরিভুরি আছে। আর এমন হত্যাকান্ড নিয়ে রাজনীতি পরিহার করা উচিত। নয়ন বন্ড নিহত হবার পর শুরু হয় নতুন রাজনীতি। একটি গোষ্টী মিন্নিকেও এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িয়ে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানায়। এই দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। মূলত এটিও একটি রাজনীতি। যারা রিফাত হত্যাকান্ডে রিফাতকে বাঁচাতে মিন্নির প্রানপন চেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে তারাই আবার পল্টি মেরে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে, রিফাত হত্যাকান্ডের সাথে মিন্নি জড়িত তা প্রচার করছে। সত্যিই বিচিত্র এই দেশ ও দেশের মানুষ। অবশেষে মিন্নিকে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত জানিয়ে পুলিশ মিন্নিকে গ্রেপ্তার করেছে। একই শ্রেনী আবার মিন্নির গ্রেপ্তারের বিরোধীতা করছে! সেলুকাস! নয়ন বন্ড, রিফাত শরীফ কিংবা মিন্নি কেউই সমাজে প্রতিষ্ঠিত কোন ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদের সন্তান না। তথাপিও এদের নিয়ে বরগুনাসহ সারাদেশে রাজনীতি চলছে। আর যারা বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করছে তারা সকলেই সরকার বিরোধী। এই হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে বগুনার এমপি ধীরেন্দ্র দেব নাথ সম্ভু ও তার ছেলেকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এর মূল উদ্দেশ্য আওয়ামীলীগের স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিকে দুর্বল করা।

সম্প্রতি কুমিল্লার এক আদালতে এক যুবক আরেক যুবককে তাড়া করে বিচারকের খাস কামরায় ছুড়ি দিয়ে হত্যা করে। এটিও কোন রাজনৈতিক বিষয় নয়। মূলত সামাজিক অবক্ষয়ের কারনেই এমনসব হত্যাকান্ডগুলি ঘটে থাকে। এইসব হত্যাকান্ডের মধ্য রাজনীতিকে টেনে আনা কোন অবস্থাতেই শুভ নয়। অপরাধ অপরাধই, হত্যাকান্ড হত্যাকান্ডই তা সে যে ই করে থাকুক। এই সবের সুষ্ট বিচারই সকলের অরাজনৈতিক দাবি হওয়া উচিত।

প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা ও রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনকে নিয়ে রেলে নিয়োগের নামে ঘুষ কেলেংকারীর কথা সকলেরই মনে থাকার কথা। এই খবর প্রচার হবার পর বিএনপি মহাসসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ২৪ ঘন্টার মধ্য তার বহিস্কার দাবি করেছিলেন। ঠিক ২৪ ঘন্টার মধ্যই প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিস্কার করেছিলেন। এই বহিস্কারের খবর শুনে মির্জা ফখরুল ইসলামই মন্তব্য করেছিলেন “সুরঞ্জিত বলির পাঠা হয়েছে”। রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হয়ে যখন বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে   জমায়েত হচ্ছিল বর্তমান সরকার প্রথমে বাধা দিয়েছিল। বিএনপি মহাসচিব তখন এই বাধা দেওয়ার কারনে সরকারকে জালিম বলেছিল ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। সরকার ঠিকই রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দিল মানবিক কারনে। তখন এই ফখরুল ইসলামই রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর দাবি জানাল। সবই রাজনীতি। সেলুকাস!

তাই সব কিছু নিয়ে আমাদের অপরাজনীতি করা উচিৎ নয়। তাতে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের স্বার্থে এসব পরিহার করা একান্ত কাম্য। বরগুনার রিফাত হত্যা মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলছে। আমরা সুষ্ট ও দ্রুত বিচার দাবি করতে পারি। কিন্তু এই বিচার নিয়ে রাজনীতি করে বিচার ব্যবস্থাসহ দেশের ক্ষতি করা সুনাগরিকের কাজ নয়।

 

রিফাত হত্যাকান্ডের প্রধান সন্দেহভাজন আসামী নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ

বরগুনায় দিবালোকে রিফাত হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সদর উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের পূর্ব বুড়ির চর গ্রামের পায়রা নদীর তীরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সে মারা যায়। বরগুনা পুলিশের একটি দল নয়নসহ সহযোগীদের ধরতে উক্ত স্থানে অভিযান চালায়। এই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নয়ন ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। আত্নরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে নয়নের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে পুলিশ নয়নের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্টল ও তিনটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।নয়ন বন্ড বরগুনা পৌর শহরের বিকেবি রোডের ধানসিঁড়ি এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। তার আসল নাম সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। নয়ন নিজেই একপর্যায়ে নয়ন বন্ড নাম ধারন করে এলাকায় পরিচিতি পান। তার বিরুদ্ধে মাদক বেচাকেনা, চুরি, ছিনতাই, হামলা, সন্ত্রাস সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে বরগুনা থানা সূত্রে জানা গেছে। নয়ন বন্ড তার নামের সাথে মিল রেখে জেমস বন্ডের ০০৭ কোড ব্যবহার করে একটি ফেইসবুক গ্রুপও খুলেছিলেন। নয়ন বরগুনা পৌর শহরের বিভিন্ন মহল্লায় চাদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়।

1 2 3 4