বাংলাদেশের রাজনীতিঃকাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়ে

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত উঠেছে অযৌক্তিক কারনে। স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করেই এর কারন বলে আপাততভাবে মনে হচ্ছে। আসলে এর মূল রয়েছে আরও অনেক গভীরে। শেখ হাসিনার সরকার একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনের দিকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনর সরকার ক্ষমতায় আসার পর সর্বক্ষেত্রে দেশের দৃশ্যমান ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে।

৩৫ শত মেগাওয়াট থেকে বেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে, যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যপক উন্নয়ন সাধন হয়েছে, নানা ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় ৮৫% সম্পূর্ণ হয়েছে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, বেশ কয়েকটি নতুন ব্রীজ নির্মানসহ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করায় সেখানে এখন আর যানঝট থাকছে না। অপরদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডও ৪ লেনে উন্নীত হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যপক আমুল পরিবর্তন এসেছে। ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে দেখলে মনে হয় এটা ইউরোপের কোন দেশের রাস্তা। দেশে শিক্ষার হার ১০/১২ বছর আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে দরিদ্র হার অনেক কমেছে, মাতৃমৃত্যু ও নবজাতক মৃত্যু হার অনেক কমেছে। এই সরকার কমিনিটি ক্লিনিক তৈরী করে প্রতিটি গ্রামে স্বাস্থসেবা পৌছে দিয়েছে। মানুষের মাথা পিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ডলারের ওপরে পৌছেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, দেশের ৯৫% অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছে গেছে। গ্রামে গ্রামে পাকা বাড়ি, অনেকটা শহরের মতই মনে হয়। প্রতিটা গ্রামেই এখন পাকা রাস্তা রয়েছে। শহরের সমস্ত সুবিদা এখন গ্রামেই পাওয়া যায়, আধুনিক পদ্ধতিতে মানুষ চাষাবাদ করছে। উৎপাদিত ফসলও উপযুক্ত মুল্যে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকেরা।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রেরন করে পৃথীবিকে বাংলাদেশের সক্ষমতার জানান দিয়েছে এই সরকার। জঙ্গি দমন করে সারাবিশ্বে প্রসংশিত হয়েছে বাংলাদেশ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ অতি স্বচ্ছতার সাথে করে যাচ্ছে এ সরকারই। রাজধানীতে কুড়িল ফ্লাইওভার, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা শহরের যানঝট কমিয়েছে এই সরকার। রাজধানীতে আরও তৈরী হচ্ছে মেট্রোরেল যা উত্তরা থেকে নারায়নগঞ্জ পর্যন্ত সার্ভিস দিবে। অপরদিকে তৈরী হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। সারাদেশ জুড়েই ব্যপক উন্নয়ন আর উন্নয়নই চোখে পড়ে। সারাদেশটাই শহরের মত হয়ে গেছে। গ্রামে গ্রামে চলে গেছে ইন্টারনেট সেবা। গ্রামে বসে সহজেই মানুষ পেয়ে যাচ্ছে সারাবিশ্বের খবর। দেশের ১০ কোটি মানুষের হাতে চলে গেছে মোবাইল সেবা। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। আর এসবের পিছনে অবদান রেখে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। ব্যপক উন্নয়নের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে। সারা বিশ্বের বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রশংশা করে যাচ্ছে। দেশের মানুষও শেখ হাসিনার শাসনকে ব্যপকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে অকৃপনভাবে। কিন্তু সরকার বিরোধীদের কাছে তা হিংসার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

আর এই সময়ে একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্টি ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি করে শেখ হাসিনার সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। অন্য কোন সুবিদাজনক ইস্যু না পেয়ে তারা মোদীর আগমনকে ইস্যু হিসাবে বেছে নিয়েছে। তাই অত্যান্ত সুপরিকল্পিতভাবে তারা তাদের সহযাত্রী হিসাবে হেফাজতকে বেছে নিয়েছে। হেফাজতের মধ্য দুটি অংশ রয়েছে-একটি রাজনৈতিক অংশ ও অপরটি অরাজনৈতিক। হেফাজতের রাজনৈতিক অংশের মধ্যেই রয়েছে জামাত-বিএনপি ও স্বাধীনতা বিরোধীরা। মুলত এই অংশটিই মোদীর আগমনের বিরোধীতা করার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। তারা শুক্রবার জুমাবাদ বাইতুল মোকারম জাতীয় মসজিদ থেকে তান্ডবের ছক কষে। ঢাকা ও আশপাশের জেলা সমূহ থেকে হেফাজতের কর্মীরা বাইতুল মোকারমে আসে। জুম্মার দু রাকাত নামাজ শেষ হতেই তারা জুতা হাতে নিয়ে প্রদর্শন করে। অর্থাৎ তারা মোদীর আগমনের প্রতিবাদ শুরু করে এভাবে। সাধারন মুসল্লীদের একটি অংশ তার প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। মসজিদের ভিতর ও বাহিরে ব্যপক তান্ডব চালায় তারা। বাহিরে অপেক্ষমান পুলিশের সাথেও ব্যপক ঢিল পাটকেল ছুড়াছুড়ি হয়। পুলিশ এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে টিয়ার গ্যাস ও ফাকা গুলি করে। ২ ঘন্টা ধরে তথাকথিত হেফাজতের কর্মীরা বাইতুল মোকারম মসজিদে অবস্থান করে। তাদের সাথে জিন্সের প্যান্ট ও টি শার্ট পরিহীত অনেক তরুনকে দেখা যায়। মুলত এরা শিবিরের ছেলে ছিল। এরাই মুলতঃ তান্ডব চালায়।

একই সময়ে হাট হাজারী মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার মাদ্রাসা ছাত্র শিক্ষদের নেতৃত্বে রাস্তায় এসে ব্যপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে তারা স্থানীয় থানা ভাংচুর করে, ভুমি অফিসে আগুন দেয় ও আরও বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী স্থাপনায় ব্যপক তান্ডব চালায়। এই সময়ে পুলিশের সাথে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এক সময় আত্ন্ররক্ষার্থে গুলি চালালে বেশ কয়েকজন তথাকথিত হেফাজত কর্মী হতাহত হয়।

একই সময়ে হেফাজত ও স্বাধীনতা বিরোধীদের আরেক ঘাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডব চালায় তথাকথিত হেফাজত কর্মীরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। শহরের আরও সরকারী বেসরকারী স্থাপনায় ব্যপক ধ্বংশযজ্ঞ চালায়। পরদিন শনিবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যপক তান্ডব চালায় তারা। এদের সাথে জিন্সের প্যান্ট ও টি শার্ট পরিহিত অনেককে দেখা যায়। মুলত এরা জামাত- বিএনপির কর্মীসমর্থক। এরাই বিভিন্ন স্থানে ব্যপক সহিংসতা চালিয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক হেফাজত নেতাও বলেছেন তাদের কর্মীরা জ্বালাও পোড়াও কিংবা ভাংচুর করেনি। তিনি বলেছেন তাদের মিছিলে কিছু ছেলে পেলে ঢুকে পড়েছিল। মুলত এরাই থানাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে, ভাংচুর করেছে, আগুন দিয়েছে। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী দিয়েছে, হেফাজতের বিরোদ্ধে নয়, সরকারের বিরুদ্ধে। আবার হেফাজতের কর্মসূচীতে ব্যপকভাবে অংশ গ্রহন করেছে বিএনপি-জামাত। নরসিংদীতে রবিবার হরতাল চলাকালে হেফাজতের মিছিলে বিএনপি-জামাত কর্মীরা ব্যপকহারে অংশ গ্রহন করে। হেফাজত এদের ডাকেনি, এমনিতেই তারা ঢুকে পড়েছে হেফাজতের মিছিলে। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে বিএনপি-জামাতের হাতে সরকারের মোকাবেলা করার মত ইস্যু নাই। যার ফলে তারা বিনা দাওয়াতে ঢুকে যাচ্ছে হেফাজতের ভিতরে। আর সৃষ্টি করছে সাম্প্রদায়িক উম্মাদনা। যদি হেফাজতের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে হটানো যায়। এ যেন কাকের বাসায় কুকিলের ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফুটানোর মত ঘটনা।