বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে হেফাজতের হরতাল আংশিক পালিত

আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডবের মধ্য দিয়ে সারাদেশে আংশিকভাবে হেফাজতে ইসলামীর ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাইতুল মোকাররম মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বাহির করিলে মুসল্লীদের ২টি গ্রুপের মধ্য উত্তেজনা তৈরী হয়। এক পর্যায়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পুলিশ কাঁদানো গ্যাস ছুড়ে দেড় ঘন্টায় পরিস্থিত নিয়ন্ত্রনে আনে। তার আগে ঢাকার আশপাশের জেলা সমূহ থেকে হেফাজতের কর্মীরা বাইতুল মোকারম মসজিদে জমায়েত হয়। নামাজ শেষ না হতেই তারা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।

একই সময়ে হেফাজতে ইসলামের ঘাটি হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার মাদ্রাসা ছাত্র শিক্ষক বাহির হয়ে সেখানে তান্ডব চালিয়ে ভুমি অফিস, স্থানীয় থানাসহ নানা স্থানে ব্যপক তান্ডব চালাতে থাকে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বেশ কিছু সরকারী সম্পত্তি। তারা থানায় হামলা করে ইটপাটকেল ছুড়ে থানা ভাংচুর করে। একপর্যায়ে আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সর্ট গান দিয়ে গুলি চালালে বেশ কয়েকজন হেফাজত কর্মী হতাহত হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতের আরেক ঘাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শনিবার তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। এখানেও বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনায় ব্যপক ভাংচুর করে ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে ভাংচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে। শুক্রবার হেফাজতে ইসলাম আজকের এই হরতাল ঘোষনা করে। সারাদেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে আংশিকভাবে এই হরতাল পালিত হয়।

হরতাল চলাকালে সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারও তান্ডব চালায় হেফাজতের কর্মীরা। তারা আজও বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনা ভাংচুর করে। সকালে ট্রেনে ঢিল ছুড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা-চট্রগ্রাম রেল চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোডে ব্যারিকেড দিলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আতংষ্ক সৃষ্টি করে। ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সমস্ত ঘটনায় আজও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে সকালে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েকটি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক একত্রিত হয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এই সময় তারা বিদ্যুতের খুটি ফেলে রাস্তা বন্ধ করে রাখে। এখানে তারা মোট ৫টি গাড়ি ভাংচুর করে ও জ্বালিয়ে দেয়। উল্লেখ্য এই মাদ্রাসাগুলি হেফাজতের ঘাটি হিসাবে পরিচিত। অপরদিকে চট্রগ্রামে তেমন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হাটহাজারীতে ব্যারিকেড দিয়ে চট্রগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়ক বন্ধ করে রাখে হেফাজত কর্মীরা। সেখানে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় ছিল।

নরসিংদীর বেলানগরে হেফাজত কর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরেও হেফাজত সমর্থিত বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা রয়েছে। এখানেও ছাত্র-শিক্ষরা পিকেটিং করে আতংষ্ক সৃষ্টি করে। এছাড়া সারাদেশ থেকে আর তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দেশের অন্যান্য বিভাগে আজকের হতালের আঁচ পড়েনি।