ঢাবির ২য় বর্ষের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মান্না ভাইরা জড়িত!
বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমঃ
রাজধানীর কুর্মিটুলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্রী ধর্ষণ ঘটনায় ঢাকসুর সাবেক ভিপি মান্না ভাইরা জড়িত! ঢাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না ও বর্তমান ভিপি নুরুল হক নুরের কথায় এমন ধারনাই পাওয়া যায়। ঢাকসুর সাবেক ভিপি মান্না বলেন,’এমন একটি দুর্বল লোক একা একটি মেয়েকে ধর্ষণ করতে পারে’? ঢাকসুর বর্তমান ভিপিও একই সুরে কথা বলছেন। তাদের কথা থেকে মনে হয় এই মজনু ধর্ষণ ঘটনার সাথে জড়িত না। এর অর্থ তারা জানেন কে বা কারা মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। তাতে মনে হয় এই চক্রই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই দুই জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে এতে অন্য কেউ জড়িত কি না তা বেরিয়ে আসবে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এটি মান্না ভাইদের কাজ হতে পারে। এই বিষয়টকে ভালভাবে সরকারের বিবেচনায় আনা উচিৎ।

বাংলাদেশে প্রতিদিনই ২/৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ২০ কোটি জনসংখ্যার মানুষের দেশে এটি সংখ্যার দিক থেকে অনেক উন্নত দেশের সাথে তুলনা করলে এটি খুব বেশী নয়। পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নাই যেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে না। এমন কি সৌদি আরবেও তা ঘটে থাকে। তবে বাংলাদেশে আমরা কোন ধর্ষণ আশা করি না। এটি আমাদের সমাজ থেকে একেবারে নির্মূল হোক তা আমরা চাই। কিন্তু এটি নিয়ে রাজনীতি একেবারেই কাম্য নয়।

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর সন্নিহীত স্থান সমুহে প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠে। ঘটনার দিন রাতেই ঢাবিতে রাত আড়াইটায় ও সাড়ে ৩টায় প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। ধর্ষনে জড়িতকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি উঠে ঢাবি ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশিল বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। পরদিন সোমবার বাম গড়নার একদল ছাত্র শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এই বিক্ষোভে ঢাবি ভিপি অসুস্থ্য নুরুল হক নুর উপস্থিত হয়ে তীর্যক বক্তব্য প্রদান করে। এর আগে তিনি ঢাকা মেডিকেল থেকে ছাড়া পেয়ে বেশ কয়েকদিন আত্নগোপনে ছিলেন। নুরসহ কতিপয় সরকার বিরোধী ছাত্র সংগঠন এটিকে ইস্যু করে আবার নতুন করে ঢাবিকে অশান্ত করার চেষ্টা করে। সারাদেশে এই আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। সোমবার সারাদিন এই ঘটনার সাথে সরকারী দল আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগকে জড়িত করা যায় কি না সে চেষ্টা করা হয়। অবশেষে তা সম্ভব না হলে হতাশ হয়ে পড়ে ঢাকসু ভিপি নুর ও তার অনুসারীরা। ফলে আন্দোলনের ইস্যু ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে হতাশ হন নুরসহ সরকার বিরোধী পক্ষ।
আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত সময়ে এই ধর্ষণ ঘটনার সাথে জড়িত মজনুকে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে। মজনু এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। একাই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে র্যাবকে জানায়। এর আগে ধর্ষিত ছাত্রী ধর্ষকের শারিরীক গঠন ও বয়সের বর্ণনা দিয়েছিল আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। সেই সূত্র ধরেই ভবঘুরে মজনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সেই মজনুর ছবি দেখালে সে নিশ্চিত করে যে এই লোকটিই তাকে ধর্ষণ করেছে। মজনু এখন পুলিশি রিমান্ডে আছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার চেষ্টা করেছিল, যারা এর সূত্র ধরে সারা দেশে সরকার বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তারা যারপরনাই হতাশ হয়েছে। আর এরাই বলছে মজনুকে জজ মিয়া সাজানো হয়েছে। এর অর্থ হল তারা জানেন মজনু এই ঘটনার সাথে জড়িত না। তা হলে মান্না ভাই কিংবা নুরেরা জানেন আসলে কে ধর্ষণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে মনে হয় মান্না ভাইরাই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
