চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে-দায়ী কে?

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকম

মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিককালে মধ্যপ্রাচ্যে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এর কারন। এমনিতেই কয়েক দশক ধরে আমেরিকার সাথে ইরানের বৈরী অবস্থা চলে আসছিল। সাম্প্রতিককালে ইরান পরমানু অস্ত্র তৈরীর পরিকল্পনা হাতে নিলে ইরানের প্রতি চরম নাখোজ হয় আমেরিকাসহ তার মিত্রদেশগুলি। ইরানের ওপর আরোপ করা হয় একটার পর একটা অর্থনৈতিক অবরোধ। তাতে ইরানের রপ্তানি বানিজ্য বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক পর্যায়ে আমেরিকা ইরানকে একটি চুক্তি করতে বাধ্য করে। চুক্তি করা সত্ত্বেও আমেরিকা কারনে অকারনে ইরানের ওপর নানা ধরনের বানিজ্যিক অবরোধ আরোপ করতে থাকে। ইরানও তা মোকাবেলা করে অগ্রসর হতে থাকে।

কিছুদিন আগে এই পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকা নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নিলেও তার মিত্ররা চুক্তির পক্ষে থেকে যায়। অবশেষে ইরানও চুক্তির কিছু শর্ত শিথিল করবে বলে জানিয়ে দেয়। এবং ইতিমধ্যই ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি করন প্রকল্প পুনরায় চালু করে। তাতে বেজায় ক্ষেপে ইরানকে হুশিয়ার করে দেয় আমেরিকা। ট্রাম্প তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন, শুরু হয় প্রতিশোধ নেওয়ার স্পিহা।

ফলশ্রুতিতে উপসাগরে পাঠানো হয় সপ্তম নৌবহর আব্রহাম লিংকন। এতে রয়েছে সুসজ্জিত যুদ্ধের সরঞ্জামাদি যা জলে-স্থলে চলতে পারে। এই রনতরীতে রয়েছে অত্যাধুনিক বোমারু বিমান বি-৫২ যা পারমানবিক বোমা বহনে ও নিক্ষেপে সক্ষম। এর আগে থেকেই আরেকটি মার্কিন রনতরী আরব উপসাগরে মোতায়েন রয়েছে। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রনালী দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজের ওপর রকেট হামলা চালানো হলে ৩টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্য ২টি সৌদি মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজ রয়েছে। আমেরিকা ও সৌদি আরব এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। ইরান এ হামলায় জড়িত না বলে জানিয়েছে। কোন পক্ষ থেকেই এ হামলার দায় স্বীকার করে বক্তব্য আসেনি। ধারনা করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করতে এই হামলা চালিয়ে ইরানের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। অনেকে ধারনা করছেন আমেরিকা ও তার মিত্র ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। এরই মধ্যে ইরাকের একটি গ্রীন জোনে রকেট হামলা হয়েছে। আর এই গ্রীন জোনে রয়েছে আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশের দূতাবাস। এই হামলার পর আমেরিকা তাদের দেশের কর্মীদের ইরাক থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। অপরদিকে সৌদি আরবে আরামকোর একটি তেলের পাইপ লাইনে ড্রু্ন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর এই পাইপ লাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরব এই ঘটনার জন্য ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে।

আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার অযুহাত খোজছিল।  এই হামলাগুলির পর পরই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্য দ্বিতীয় যুদ্ধ জাহাজ আব্রাহাম লিংকন উপসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ইরান বলছে তারা যুদ্ধ চায়না আর আমেরিকা ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়ানোর মত নির্বোধ কাজ করবে না। ইরানের পক্ষ থেকে এরই মধ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ইরান যুদ্ধ চায় না। আর আমেরিকা যুদ্ধে জড়ালে তাদের(আমেরিকার) স্থাপনাগুলি ইরানের নিশানার মধ্যই রয়েছে। এদিকে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৩০শে মে আরব লীগের জরুরী বৈঠক ডেকেছে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরো কয়েকটি দেশ আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্মতি দিয়েছে কিংবা তা আমেরিকা আদায় করে নিয়েছে। বাহরাইন এরই মধ্য ইরাক ও ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরে আসতে বলেছে। তবে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত অবস্থা তৈরী করতে অনুঘটকের কাজ করে যাচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্য চীন সফর করে এসেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে আতংস্ক বিরাজ করছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *