ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে কেন এত বিতর্ক?

বিডি খবর ৩৬৫ ডটকম

গেল সপ্তাহে ছাত্রলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সমন্ময়ে গঠিত একটি কমিটি এই পূর্নাঙ্গ কমিটির বিভিন্ন পদবীর সদস্যদের নাম ঘোষনা করে। ছাত্রলীগের কোটি সদস্যের সকলে এই কমিটিতে স্থান পাওয়ার কথা না। আবার অনেকে অনেক যোগ্যতা থাকার পরও কমিটিতে স্থান পাননি কিংবা কাংঙ্খিত পদ পাননি। আবার হয়ত কম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ বড় পদ পেয়েছেন কিংবা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। কমিটি ঘোষনার পর থেকেই নতুন কমিটিতে উপযুক্ত স্থান কিংবা স্থানই পায়নি এমন একটি গ্রুপ নতুন কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই সমস্ত কর্মকাণ্ডে বিব্রত বোধ করছে আওয়ামীলীগের হাইকমান্ডসহ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কোটি কোটি সমর্থক। আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন হওয়ায় তাদের এই কর্মসূচী দেশজুড়ে দলটির ভাবমূতি ক্ষুন্ন করছে।

উদ্ভুত অবস্থার পরিপেক্ষিত ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব বিদ্রোহীদের সাথে দফায় দফায় মিটিং করেছে বিষয়টির যুক্তিক সুরাহার জন্য। এই পরিপেক্ষিতে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী অংশটির পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ আসে। নতুন এই কমিটিতে বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও চাকরীজীবী ও অছাত্ররাও রয়েছে। বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে কমিটিতে স্থান পাওয়া অযোগ্যদের একটি তালিকা প্রদান করা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব ১৭ জনকে চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্য তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষনা দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা থামছে না। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা রকম কর্মসূচী দিয়ে উত্তেজনা তৈরী করছে। যা ছাত্রলীগের ভাবমূর্তিতে চরম আঘাত আনছে।

ঢাবির সকল ছাত্র ছাত্রলীগ করে না। এখানে ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগ বিরোধী বিভিন্ন দলের কর্মী সমর্থকরা রয়েছেন। তারাও আজ ছাত্রলীগ সেজে বিদ্রুহী হয়ে নানা কর্মসূচীতে সরব রয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই যে কোন ভাবেই হউক ছাত্রলীগকে বিতর্কে ফেলা। মিডিয়ার একটি অংশ এই বিদ্রুহে তেল ঢালে নানা কৌশলে। এই অংশের উদ্দেশ্যও আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগকে নানা কৌশলে দুর্বল করা। একজনও যদি সরকার কিংবা আওয়ামীলীগ কিংবা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে তা হলে সেখানে মুহূর্তেই ১০টি টিভি চ্যানেল লাইভ শুরু করে দেয়। আজ সকালেও দেখা যায় ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের পক্ষে একটি গ্রুপের মাত্র ৪/৫ জন টিএসসির সামনে বসে থাকলে কয়েকটি টিভি চ্যানেল লাইভ শুরু করে দেয়। তা দেখে আরো ২/১ জন লাইভের আশায় জমতে থাকে। এমনিভাবেই একেবারে অখ্যত ও অতি কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও টিভি চ্যানেলগুলি লাইভ করতে শুরু করলে তা আলোচনায় চলে আসে। ফলে বলা যায় কতিপয় মিডিয়া খবর সংগ্রহের পরিবর্তে প্রতি নিয়ত খবর পয়দা করে। আর তা ফলাও করে প্রচার করে।

বিগত কয়েক দশক ধরে ছাত্রলীগের কমিটি যেভাবে হয়ে আসছে ঠিক সেভাবেই এবারের কমিটি হয়েছে। এর আগে কমিটি নিয়ে এত বিতর্ক আর দেখা যায়নি। এবার তাহলে এত বিতর্ক কেন? কমিটিতে স্থান পাননি এমন সকল ছাত্রলীগ নেতা কর্মীই কি কমিটিতে স্থান পাওয়ার যোগ্য? সকলকেই কি কমিটিতে স্থান দিতে হবে। আর এই যোগ্যতার সঠিক পরিমাপ কিভাবেই বা করবে। আবার এমনটাও ধারনা করা যাবে না যে যারা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন তারাই সবচেয়ে যোগ্য। তবে কমিটি করার জন্য সঠিক কোন মানদন্ড না থাকায় অনেক সময় যোগ্যরাও বাদ পড়ে যায়। আবার অযোগ্যরাও বড় বড় পদ পেয়ে যায়। এখন দরকার কমিটি গঠনের মানদন্ড ঠিক করা। তা হলে হয়ত কমিটি নিয়ে বিতর্ক কমে আসবে। তবে কমিটিতে স্থান না পেয়ে ছাত্রলীগ নামধারীরা ঢাবিতে যা করে আসছে তা অচিরেই বন্ধ করে ছাত্রলীগে শৃংঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *