জেনে নিন কে এই জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধী

অনলাইন ডেস্কঃবিডি খবর ৩৬৫ ডটকম

জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধীকে গত রাতে টাঙ্গাইল থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের ভাষ্যমতে সে গুলশান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। এছাড়াও সে জাহাঙ্গীর আলম, সুভাষ, শান্ত, টাইগার, আদিল, জাহিদ ইত্যাদি নামেও পরিচিত। তার বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তার গ্রামের বাড়ি।

Rajib Ghandi

এই রাজীব গান্ধী গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আটককৃত প্রথম কোন জীবিত পরিকল্পনাকারী। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজীব গান্ধী নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা। আর পুরাতন জেএমবি থেকেই জঙ্গিবাদের সঙ্গে তার যোগসাজশ। এই রাজিব গান্ধী জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষস্থানীয় নেতা আব্দুল আউয়ালের বাবুর্চি হিসাবে কাজ করত। ঐ সময় সে বগুড়ায় থাকত।

পুলিশ বলছে, সে সাইকেলে চেপে আব্দুল আউয়ালের নানা বার্তা আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়ার কাজ করতো। জেএমবির প্রধান নেতা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শায়খ আব্দুর রহমানের জামাতা আব্দুল আউয়াল। বিগত দশকে শায়খ রহমান ও আব্দুল আউয়াল-সহ শীর্ষ জেএমবি নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।

Monorul Islam

এরপর কিছুদিন বিরতির পর সাবেক পাচক জাহাঙ্গীর আলম নব্য জেএমবি হিসেবে পুনর্গঠিত এই জঙ্গি গোষ্ঠীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসে। আর সে নব্য জেএমবির প্রধান নিহত তামিম চৌধুরীর সহযোগীও ছিল। পুলিশে বলছে, গুলশান হামলায় যে ৫ জন জঙ্গি সরাসরি হামলা চালিয়েছিল তাদের মধ্যে দুজনকে সরাসরি ‘রিক্রুট’ করেছে এই জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। তারপর শোলাকিয়ায় হামলায় জড়িত একজনকেও সে-ই সরবরাহ করেছে।

পুলিশ আরও মনে করছে মূলতঃ নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব হামলায় যোগ দেয়া জঙ্গিরা রাজীব গান্ধীর হাত ধরেই এসেছে। রাজিব গান্ধী নব্য জেএমবি বা পুনর্গঠিত জেএমবির অন্যতম নেতা হিসেবে উত্তরাঞ্চলে গোষ্ঠীটির যেসব হামলা হয়েছে তারও মূল সমন্বয়ক। ধারনা করা হচ্ছে সে, জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী এবং পুরোহিত, খাদেম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হত্যাসহ প্রায় ২২-২৩ টি হামলার মূল হোতা।

Holy Artisan

পুলিশ মনে করছে রাজীব গান্ধী গ্রেপ্তার হওয়ার মাধ্যমে এই প্রথম গুলশান হামলার বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে। কারণ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধরা পরা একমাত্র জীবিত ‘মাস্টারমাইন্ড’ সে-ই। জীবিত জঙ্গিদের মধ্যে গুলশান হামলা সম্পর্কে রাজীব গান্ধী-ই সবচেয়ে বেশি জানে বলে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও বলছেন। তিনি আরো বলেন, গুলশানের ৫ জন হামলাকারী যখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে হলি আর্টিজানে যায় তখন ঐ বাসাটিতে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীও ছিল।

পুলিশ বলছে, গুলশান হামলায় জড়িতদের মধ্যে তিন জনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। এদের একজনের নাম বাশারুজ্জামান চকলেট। বাকীদের নাম কৌশলগত কারণে গোপন রাখা হয়েছে। খবরঃবিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *