কুয়েতে ড. সাখাওয়াৎ হোসেন সওকতের মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়ার আয়োজন

image-15নিউজ ডেস্কঃবিডি খবর ৩৬৫ ডটকম

কুয়েতস্থ বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. সাখাওয়াৎ হোসেন সওকতের মৃত্যুতে কুয়েতস্থ বাংলাদেশী বিভিন্ন সামাজিক/সাংস্কৃতিক সংগঠন ২৪/১১/২০১৬ইং তারিখে এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

ড. মনিরুজ্জামানের পরিচালনায় কুরান তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে মরহুম সাখাওয়াৎ হোসেন সওকত সাহেবের আত্নার মাগফেরাত কামনা করা হয়। কুয়েত প্রবাসী পাচঁ শতাধিক বাংলাদেশী নাগরিক উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মধ্য প্রায় সকলেই এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ শেষে সকলের মাঝে তবারক বিতরন করা হয়।

image-0

মরহুম ড. সাখাওয়াৎ হোসেন সওকত ১৯৫৩ সালের পহেলা নভেম্বর নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ গ্রামে এক সদ্ভান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।তার শৈশব কাটে একই থানার আদিয়াবাদ গ্রামে।তিনি জেলা সদরস্থ ব্রাহ্মন্দী কে কে এম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে তিনি এইচ এস সি পাস করেন নরসিংদী সরকারী কলেজ থেকে।তারপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। গঠন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা চিকিত্সা কল্যান সমিতি। তিনি তার জেনারেল সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি সদালাপী ও সুবক্তা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তার স্মরনশক্তি ও তীক্ষ্ণ মেধা ছিল অতুলনীয়।

১৯৭৯ সালে তিনি কুয়েতে প্রবাসী জীবন শুরু করেন। সেখানে কর্মক্ষেত্রে তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। চাকরীর পাশাপাশি কুয়েতে তিনি ব্যবসাও শুরু করেন।

১৯৯০ সালে ইরাকযুদ্ধ শুরু হলে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ইরাক-কুয়েত প্রত্যাগতদের নিয়ে গঠন করেন ইরাক-কুয়েত প্রত্যাগত সমিতি এবং তিনি এ সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ শেষ হলে তিনি আবার স্বপরিবারে কুয়েতে ফিরে যান। চাকরী ও ব্যবসার পাশাপাশি তিনি কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে গড়ে তুলেন কুয়েতস্থ বাংলাদেশ সমিতি। তিনি আমৃত্যু এ সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ছিলেন বিডি খবর ৩৬৫ ডটকমের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি।

মানব সেবায় অবদানের জন্য আমেরিকার আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি অনারারী ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন ২০০০ সালে। আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ তিনি প্রায় ৩০টির মত দেশ ভ্রমন করেছেন। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুখে দুঃখে তিনি সব সময় পাশে থাকতেন। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী, আত্নীয় স্বজন ও বন্ধুমহলে তিনি ছিলেন বটগাছ স্বরূপ।

এই গুনীজন ১৯শে নভেম্বর ২০১৬ সালে সকাল এগারটার সময় আমাদের সকলকে ছেড়ে পরপারে চিরকালের জন্য চলে গেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, আত্নীয় স্বজন ও অসংখ্য বন্ধুবান্ধব রেখে গেছেন।তার নিজ গ্রাম আমিরগঞ্জেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *