বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন হিরু কে এই মেহেদী হাসান মিরাজ?

স্পোর্টস ডেস্কঃবিডি খবর ৩৬৫ ডটকম

বাংলাদেশসহ দেশ বিদেশের ক্রিকেট অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাকে নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে তিনি হলেন আমাদের ক্রিকেটের নতুন হিরু মেহেদী হাসান মিরাজ।

মাত্র ১৯ বছর বয়স তাঁর, কিন্তু এই বয়সেই জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক সিরিজে দুটি টেস্ট খেলে ১৯টি উইকেট শিকার করে ফেলেছেন তিনি। চট্টগ্রাম টেস্টে জীবনের প্রথম ইনিংসে ছয়টি উইকেটসহ ২ ইনিংসে ৭টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। এরপর মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে ২ ইনিংসের প্রতিটিতে ৬টি করে মোট ১২টি উইকেট নিয়েছেন মিরাজ।

mehidi-hasan-miraj

মেহেদী হাসানকে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলে নতুন তারকা হিসেবে বর্ণনা হলেও ক্রিকেটে তাঁর অলরাউন্ডার কীর্তি আগেই দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের নেতৃত্ব দানকারী মেহেদী হাসান মিরাজই অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন।

পরিবারের কাছ থেকে জানা যায় একেবারে নিজের আগ্রহ থেকেই মেহেদী হাসান মিরাজ ক্রিকেট খেলা শুরু করেন ।বরিশালে মিরাজের জন্ম। তবে তাঁর পুরো পরিবার গত ১৬ বছর ধরে খুলনায় বাস করছে।বাবা, মা আর ছোট বোন নিয়ে মিরাজের পরিবারের সদস্য চারজন। তার বাবা মো: জালাল হোসেন একজন অটোরিক্সা ড্রাইভার। মিরাজ আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলায় তাঁর আগ্রহ ছিল। পরিবার থেকে ক্রিকেট খেলায় কোনও  রকম সমর্থন বা সহযোগিতা পেতেন না বলে লুকিয়ে ক্রিকেট খেলতেন মিরাজ।

miraj

মিরাজকে ক্রিকেট খেলার জন্য বাবার হাতে মারও খেতে হয়েছে ।তাঁর বাবা জালাল হোসেন বলেন যে আর সব বাবার মতো তিনিও চাইতেন ছেলে ভালোমতো লেখাপড়া শিখে ভালো চাকরি করুক।”প্রথম থেকেই আমি তার ক্রিকেট খেলাকে সমর্থন করতাম না। আমি গরীব মানুষ, আর সবার মতো আমিও চাইতাম ছেলে ভালো পড়ালেখা করে সরকারি চাকরি করুক। ক্রিকেট খেলে যে সে এতদূর আসবে এটাতো আমার কল্পনাতেও ছিল না” – বলেন মিরাজের বাবা জালাল হোসেন।

খুলনার কাশিপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ মো: আল মাহমুদের হাত ধরেই মেহেদী হাসান মিরাজ এতদূর এগিয়েছে।আল মাহমুদ জানান, মিরাজকে তিনি আট বছর বয়স থেকে চিনেন এবং সেই বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলার প্রতি তীব্র আগ্রহ ছিল মিরাজের মধ্যে। কিন্তু একাডেমিতে টাকা দিয়ে ভর্তি হয়ে ক্রিকেট খেলার মত অবস্থা মিরাজের ছিল না। একে তো টানাটানির সংসার, অন্যদিকে লুকিয়ে সে ক্রিকেট খেলতো।

তবে মিরাজ প্রতিবেশী রাসেল হোসেনের সহায়তায় কোচ আল মাহমুদকে পাশে পান। আল মাহমুদ মিরাজের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হলেও ওর তীব্র ইচ্ছা আর সাহসী মানসিকতা দেখে তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন।সবচেয়ে মজার বিষয় হলো মিরাজের বাবা মাঠে এসেও তাকে মারধোর করেছে, মাঠ থেকে নিয়েও যেতো।

miraj1

মেহেদী হাসান মিরাজ ওই একাডেমি থেকে বয়সভিত্তিক বাছাইয়ে প্রথমেই অনুর্ধ্ব-১৪ দলে সুযোগ পেয়ে অনুর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ২৫ হাজার টাকা জেতেন। তারপর অবশ্য তাঁর বাবা আর খেলায় বেশি বাধা দেননি। অনুর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টের পর অনুর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টেও ডাক পান মিরাজ। তারপর আস্তে আস্তে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে থাকেন মিরাজ। এক সময় অনুর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করে নিয়ে দলের নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগও চলে আসে তাঁর সামনে।

অনেকে মেহেদী হাসান মিরাজের নামটি অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট থেকেই জানতে পারেন। আর এরপর তাঁর যোগ্যতা দিয়েই তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন।তারপর জাতীয় দলে অভিষেকেই তার পারফরম্যান্স দেখেছে বিশ্ববাসী। বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উদীয়মান হিরু মিরাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *