সোহেল এফ রহমান ও মোরশেদ খানের লন্ডন চলে যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন

দেশের দুই বিশিষ্ট শিল্পপতি সোহেল এফ রহমান ও মোরশেদ খানের বিশেষ বিমান ভাড়া করে লন্ডন চলে যাওয়া নিয়ে দেশব্যপী চলছে নানা গুঞ্জন। মোরশেদ খান সস্ত্রীক মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিমানে করে বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দিয়ে লন্ডনে যান। বিমানে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই যাত্রী ছিলেন। তাতে তাদের পুরো বিমানের বাড়া দিতে হয়েছে হয়ত কয়েক কোটি টাকা। অপরদিকে সোহেল এফ রহমান বিমান ভাড়া করে সস্ত্রীক লন্ডন গেছেন। পুরো বিমানে তারা দুইজনই যাত্রী। দুই শিল্পপতির লন্ডন গমন নিয়ে চলছে নানা রকমের আলোচনা সমালোচনা। করোনার এই মহামারীকালে কেন তারা লন্ডন গেলেন?

সোহেল এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সালমান রহমানের বড় ভাই। অপরদিকে বিএনপির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান সালমান এফ রহমানের বিয়াই। সালমান এফ রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা। তার ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানের (সায়ান এফ রহমান) সঙ্গে মোরশেদ খানের মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সোহেল এফ রমানের ঘনিষ্টজনেরা জানিয়েছেন, তাদের মেয়ে লন্ডনে অন্তঃসত্ত্বা থাকায় মেয়েকে সময় দিতে তারা লন্ডনে গেছেন।

অপরদিকে মোরশেদ খানের ঘনিষ্টজনদের বরাতে জানা যায়, গুরুতর অসুস্থ্য হওয়ায় মোরশেদ খান চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন। অপর একটি সূত্র দাবি করছে, করোনা ভাইরাসের ভয়ে তিনি লন্ডন চলে গেছেন। কারন দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ভাল চিকিৎসা হবে না। কিন্তু যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ লক্ষে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০২১ জন ও প্রতি ১০ লক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৬৬ জন। যেখানে বাংলাদেশে প্রতি ১০ লক্ষে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭১ জন ও প্রতি ১০ লক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ জন। করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থা যুক্তরাজ্যে থেকে বহুগুন ভাল। কাজেই করোনার ভয়ে তিনি লন্ডন যাননি বলা যায়। অপরদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচতে কঠোর হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলে তিনি দেশেই ভাল থাকতে পারতেন। কাজেই স্পেশাল বিমান ভাড়া করে লন্ডন যাওয়ার পিছনে অন্য কারন থাকতে পারে।

এদিকে সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় গত বছরের ১০ জুন মোরশেদ খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের হাত থেকে বাঁচতেই তিনি গোপনে লন্ডন চলে গেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। তবে সোহেল এফ রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মোরশেদ খানের লন্ডন গমনের সাথে তার লন্ডন গমনের কোন যোগসূত্র নাই।